Home » বিজেপির ‘বাঙালি নির্যাতন’ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ‘ইন্ডিয়া’, অধঃপতনের চরমে বিজেপি, মমতার পাশে দাঁড়াল কংগ্রেস

বিজেপির ‘বাঙালি নির্যাতন’ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ‘ইন্ডিয়া’, অধঃপতনের চরমে বিজেপি, মমতার পাশে দাঁড়াল কংগ্রেস

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভিনরাজ্যে বাঙালিদের আক্রান্ত হওয়া নিয়ে একুশের মঞ্চ থেকে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার একই ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করল কংগ্রেস। আর এই বিষয়ে সংসদে আলোচনার প্রস্তাবও দিল হাত শিবির। গত ২১ জুলাই কলকাতার ধর্মতলার সমাবেশ মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বিজেপির বাংলা বিরোধী মনোভাব নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চলছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা বিরোধী সার্কুলার পাঠিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সেই সার্কুলারের কপি এদিনের সভামঞ্চে তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী।

বুধবার কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতৃত্বও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম মুখ মমতার সেই কথারই পুনরুক্তি করে।

কংগ্রেসের অফিসিয়াল হ্যান্ডল থেকে এক এক্সবার্তায় বলা হয়েছে, বিজেপি সর্বনিম্ন স্তরে নেমে পড়েছে। বিজেপির সরকার সারা ভারত জুড়ে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করেছে। বিশেষত মালদহ ও মুর্শিদাবাদের শ্রমিক, হকার, ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট করেছে। বাঙালিদের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করা হচ্ছে। হেনস্তা, গ্রেফতার এবং তাঁদের বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলে নির্যাতন করা হচ্ছে।

দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা সরাসরি মৌলিক অধিকারের উপর আক্রমণ।

দেশের যে কোনও নাগরিকের যে কোনও স্থানে যাওয়া, থাকা-খাওয়া, কাজ করার অধিকার রয়েছে। সংবিধানের ১৯ (১) ধারাতেই এই মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, কিন্তু মোদি সরকার দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও অসম্প্রীতি ছড়িয়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ বাকি রাখছে না।

বিভাজনের রাজনীতি করতে বিজেপি সরকার দেশে বিভেদ ছড়িয়ে ফায়দা লোটার কাজ করছে। ভারতের নাগরিকদের বিরুদ্ধে এ জাতীয় চাপিয়ে দেওয়া অবিচারের বিরুদ্ধে সংসদে আলোচনার দাবি তুলছে কংগ্রেস। তারা প্রতিটি ভারতীয়র সুবিচার, আত্মসম্মান এবং স্বাধীনতার এই লড়াইয়ে পাশে রয়েছে, বলে বার্তায় জানিয়েছে দেশের প্রাচীনতম দল। এর আগে রাজ্যের কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ বিষয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

অসম, মহারাষ্ট্র, ওড়িশার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের অবৈধ বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখার কথা জানিয়েছিলেন অধীর। সোমবার মমতার সভার আগের দিন রবিবারেই মোদিকে লেখা ওই চিঠিতে বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের দুরবস্থার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন অধীর। এবার তৃণমূলের পাশে দাঁড়াল দেশের শতাব্দীপ্রচীন দল। এই বিষয়ে সংসদে আলোচনার প্রস্তাবও দিল হাত শিবির।

About Post Author