সময় কলকাতা ডেস্ক:- পয়লা আগস্ট খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন। প্রায় এক মাস ধরে যে সমীক্ষা চলল বিহারে এটা যেন তারই ‘ফলাফল’। কত নাম বাদ যাবে? কোনও নাম আদৌ জুড়বে কিনা সেই সংখ্যার একটা খেলা চলছেই। আপাতত ভাবে সম্ভবনার উপরেই টিকেছিল তা। তবে মঙ্গলবার সেই সংখ্যার-সম্ভবনা নিয়ে একটা নিশ্চিত ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
তারা জানিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হবে ৫২ লক্ষ ভোটারের নাম।
প্রায় ১ লক্ষ বুথ লেভেল অফিসার ও দেড় লক্ষের অধিক বুথ লেভেল এজেন্টরা গোটা বিহারজুড়ে ৭ কোটি ৬৮ লক্ষ ভোটারের তথ্য তুলে এনেছে। সেই মোট সংখ্যা থেকেই আপাতত ভাবে বাদ দিয়ে হবে এই ৫২ লক্ষ ভোটারের নাম। নির্বাচন কমিশন তাদের প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানিয়েছে, বাদ পড়তে চলা এই ৫২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ১৮ লক্ষ ৬৬ হাজার ভোটার মৃত। ২৬ লক্ষ স্থায়ী ভাবে স্থানান্তরিত হয়েছেন। ৭ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের নাম একের অধিক বুথে রেজিস্টার রয়েছে। বাকি ১১ হাজার ভোটারের কোনও হদিশই নেই। চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।
তার আগে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা’ করতে গিয়ে আগেই বিতর্কের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন।
তবে এই বাদের তালিকা যে এখানেই থেমে গেল এমনটা নয়।
এখনও ২১ লক্ষ ভোটারের ‘ভবিষ্যৎ’ নিয়ে চোখের সামনে শঙ্কা দেখছে কমিশন। তারা সেই নির্দেশিকায় জানিয়েছে, ২১ লক্ষের অধিক ভোটার এখনও Enumeration Form বা যাচাই প্রক্রিয়ার সেই বিশেষ ফর্ম জমা দেননি। এদিকে সময় প্রায় ফুরিয়ে এল বলেই। হাতে পড়ে আর দু’দিন। তারপরেই সমীক্ষার কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। অবশ্য, এই ২১ লক্ষ ভোটার যাতে দ্রুত ফর্ম জমা দেন, সেই ব্যবস্থাও করেছে কমিশন।
ইতিমধ্যেই তারা রাজ্যের ১২ টি রাজনৈতিক দলের প্রতিটি জেলার সাংগঠনিক সভাপতি যোগাযোগ করেছে।
তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে, এই ২১ লক্ষ ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করার। বাকিটা না হয় সময় বলবে। পাশাপাশি, কমিশন এও জানিয়েছে, পয়লা আগস্ট যে তালিকা প্রকাশ হবে তা চূড়ান্ত নয়। কেউ যদি তাতে নিজের নাম না পান কিংবা কোনও ভুল ভ্রান্তি দেখেন, তা হলে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।
তাদের দাবি, পয়লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই তালিকায় হওয়া ভুল-ত্রুটির ভিত্তিতে সমস্ত অভিযোগ নেওয়া হবে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে তা সংশোধনও করা হবে। বিহারে ভোটের আগে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা’ করতে গিয়ে আগেই বিতর্কের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার দলের সমাবেশে অভিযোগ তুলেছিলেন, ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে পড়শি রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা ভোটে একই কায়দায় কমিশন নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তবে বিহারের ভোটার তালিকায় নাম ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে কমিশনের ঘোষণা মমতার দাবিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
কমিশন মঙ্গলবার জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, সকল যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিহারের ভোটার তালিকায় সংশোধন নিয়ে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সেগুলি একত্রিত করে শুনানি শুরু হয়েছে। তার মধ্যে কী ভাবে নির্বাচন কমিশন সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত ‘ক্ষমতা এবং এক্তিয়ারে’র উল্লেখ করে কমিশনের যুক্তি, গোটা প্রক্রিয়াটি একটি সুসংগত এবং সাংবিধানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। ১৭ জুলাই শীর্ষ আদালতের তরফে নির্বাচন কমিশনকে এসআইআর-২০২৫ এর উদ্দেশ্যে আধার, ভোটার আইডি এবং রেশন কার্ড বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার কমিশনের তরফে শীর্ষ আদালতকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সেগুলি বিবেচনা করা যাবে না।
কমিশনের দাবি, আধার আদতে একটি পরিচয়পত্র মাত্র, নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এমনকী, এসআইআর-পর্বে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ভোটার আইডি চূড়ান্ত পরিচয়পত্র হতে পারে না বলেও জানিয়েছে কমিশন।


More Stories
তৃণমূল ও সিপিএম প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর শপথবাক্য ও মন্ত্রগুপ্তি
চোরের মায়ের বড় গলা – শর্বরীকে কটাক্ষ সৃজনের
কাজল শেখের পদত্যাগ