সময় কলকাতা ডেস্ক:- বিহারের পর এবার বাংলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা এবার সত্যি হতে চলেছে। বিহারের পর বাংলায় নজর নির্বাচন কমিশনের। ‘পটনা মডেলেই’ এখানেও হবে ভোটার তালিকা যাচাই। আগামী আগষ্ট মাস থেকেই বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। সূত্র বলছে, যে কোনও দিন এসআইআর হতে পারে বাংলায়।
সূত্রের খবর, বাংলা নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বছর ঘুরলেই ছাব্বিশের নির্বাচন। তাই আর বেশি দেরি না করে, আগস্টের শুরুতেই বাংলাতেও এসআইআর শুরু হতে পারে।
জানা গিয়েছে, ডিএলআরও, যাঁরা এই সমস্ত জায়গায় কাজ করবেন, তাঁদের ভাতা ইতিমধ্যেই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাতা বাড়িয়ে ২০০০ টাকার কথা বলা হচ্ছে। বিহারের নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনে ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।
বিহারের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ২০ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাই ২৮ লক্ষ ভোটার, এখন আর বিহারের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তাঁরা ভিনরাজ্যে থাকেন। পরিযায়ী শ্রমিক, অর্থাৎ যাঁরা অন্য রাজ্যের বাসিন্দা, সেখানে তাঁদের ভোটার কার্ড রয়েছে, আবার বিহারেও রয়েছে, সেরকম প্রচুর ভোটার কার্ড বাতিল করা হয়েছে।
সূত্র বলছে, বিহারের এই ঘটনার পর বাংলাতে গত এক সপ্তাহেই ৭০ হাজারের বেশি ভোটার অনলাইনে ভোটার কার্ড সংশোধন বা আপডেটের জন্য আবেদন করেছেন। গোটা রাজ্যের তুলনায় সীমান্তবর্তী এলাকাতেই এই হার বেশি বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্র বলছে, আবেদনকারীদের মধ্যে যে কেবল নতুন ভোটার বা নাম তোলার আবেদন রয়েছে, তা নয়, এমন অনেকে আবেদন করছেন, যাঁরা ভোটার তালিকায় তাঁর জায়গার নাম পরিবর্তন করতে চাইছেন। কমিশন সূত্রের খবর, দিনের পর দিন বহু আবেদন পড়েছে, যেখানে মৃত ভোটারের পরিবারের সদস্যরা নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
কিন্তু এতদিন সেরকম সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ছিল না। এবার এসআইআর-এর মাধ্যমে এই মৃত ভোটার নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি আরও সুনির্দিষ্ট করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন।
এসআইআর পদ্ধতির ফলে বিএলআরও আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম ফিলাপ করবেন, যাতে মৃত ভোটার তালিকা শূন্য হবে, এমনটাই দাবি নির্বাচন কমিশনের। আসলে, বিহারে এসআইআর-এর পর তার যৌক্তিকতা নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন তুলছিল বিরোধীরা। বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনীর বিতর্কে শেষমেশ মুখ খোলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, মৃত ভোটারদের বা বিদেশিদের কোন যুক্তিতে ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়া যায়?
এখন প্রশ্ন হল, তাহলে বাংলাতেও কি লাখ লাখ ভোটারদের নাম বাদ যাবে?
বাংলায় এসআইআর-এর সম্ভাবনা তৈরি হতেই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
তৃণমূলের হুঁশিয়ারি, বাংলায় একটা ভোটারও বাদ গেলেই ঘেরাও কর্মসূচি হবে। প্রতিবাদ হবে। মিছিল হবে। স্লোগান হবে।
এমনিতেই ভিন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় এসআইআর হলে ‘৯০ লক্ষ নাম বাদ’ যাওয়ার আশঙ্কা আগেই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, বাংলার ডেমোগ্রাফি বদলে গিয়েছে। সীমানা লাগোয়া ৯টি জেলায় গত দশ বছরে ভোটার বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় গড়ে ২৫ শতাংশ। যেখানে গোটা দেশে তা মাত্র ৭ শতাংশ। এমনকী, বিহারে তো ৩০ লক্ষ বাদ যাচ্ছে। বাংলায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ যাবে।
সংসদে বাদল অধিবেশন শুরুর প্রথম দিন থেকেই উত্তাল সংসদ। বিহারের নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনী বা স্পেশ্য়াল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়েই বিরোধিতার সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনা সহ একাধিক বিরোধী দল। বিহারে ভোট বয়কটের হুমকি দিয়েছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব।
তবে বাংলায় ভোট বয়কট নয়, বরং আন্দোলনকেই হাতিয়ার করেই পথে নামতে তৈরি হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে বিহারের মতো বাংলায় ভোটারদের নাম বাদ গেলে ছেড়ে কথা বলা হবে না। নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করা হবে। আপাতত সংসদের অভ্যন্তরে ইন্ডিয়া জোটের পাশে থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যেকদিনই তারা অংশগ্রহণ করছে ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে। পাশাপাশি, তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশে কয়েকদিনের মধ্যেই অসমে যাচ্ছেন সুস্মিতা দেব। সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই আন্দোলনের উপর রূপরেখা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?