সময় কলকাতা ডেস্ক:- পড়ুয়ার অভাবে একের পর এক সরকারি স্কুলে তালা ঝুলছে। রাজ্যে একাধিক জুনিয়র হাইস্কুল থেকে শুরু করে একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ও এখন পুরোপুরি পড়ুয়াশূন্য। আর যে ক’টি স্কুল এখনও খোলা, সেগুলির অধিকাংশেই পড়ুয়ার সংখ্যা দশেরও নীচে। কোথাও আবার একজনও পড়ুয়া নেই। আর এই তালিকায় এবার যুক্ত হল রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত কোচবিহারের তুফানগঞ্জ টাউন বিদ্যাসাগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম।
এই স্কুলটি বর্তমানে পড়ুয়া শূন্য হয়ে পড়েছে। অথচ এমনটি হওয়ার কিন্তু কোনও কথাই ছিল না। এই স্কুল থেকে পড়াশোনা করে অনেকে শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, আইনজীবী হয়েছেন। পরে একটা সময় স্কুলের খুঁড়িয়ে চলা শুরু হয়। গত বছর দুজন ছাত্র থাকলেও এবছর এপ্রিল মাস পর্যন্ত একজন ছাত্র ছিল। সেই ছাত্রও পরে অন্য স্কুলে চলে যায়।
এ বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ চেয়ারম্যান রজত বর্মা বলেন, বর্তমানে ওই স্কুলে একজন শিক্ষিকা রয়েছে। ওই স্কুলে আরেকজন শিক্ষক নিয়োগ করে আবারও আগের রূপে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি অম্লান বর্মা জানিয়েছেন, পাশেই জুনিয়র বেসিক স্কুল থাকায় অভিভাবকরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের সেখানেই ভর্তী করাচ্ছেন। এই বিষয়ে জুনিয়র স্কুলের শিক্ষিকাদের সাথে কথা বললেও বিশেষ কোনও লাভ হয়নি।
১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি এই প্রাথমিক স্কুলের পথচলা শুরু। এই স্কুল তৈরিতে শিক্ষানুরাগী ভানুপ্রকাশ দে মূল ভূমিকা নিয়েছিলেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তুফানগঞ্জ টাউন গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুলে সকালে এই বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন চলত। পরবর্তীতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে স্থায়ীভাবে স্কুল ভবন তৈরি করা হয়। সেসময় তুফানগঞ্জ পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ড থেকেই কমবেশি ছাত্রছাত্রী এখানে ভর্তি হত। স্কুলের দারুণ সুনাম ছড়ানো শুরু করে। ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ভানুপ্রকাশ দে দিল্লি থেকে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের পাশাপাশি এই স্কুলের সাফল্যের ঝুলিতে আরও অনেক পুরস্কার রয়েছে। ভানু প্রকাশ দে, ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলেছেন। সে সময় স্কুলে ৪০০-রও বেশি পড়ুয়া, তিনজন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে তিনি রোগভোগে বাড়িতে শয্যাশায়ী।
স্কুলের বর্তমান দশায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তিনি। তিনি বলেন, সুস্থ থাকলে এই স্কুলটিকে বন্ধ হতে দিতাম না।
আইনজীবী শুভময় সরকারও জানিয়েছেন, এই স্কুল থেকেই প্রাথমিক স্তরের পড়াশোনা করেছেন। খুব ভালো পড়াশোনা হত। শিক্ষকরাও খুব যত্ন করতেন। তবে বর্তমানে স্কুলের বেহাল দশায় হতাশ তিনিও।
এদিকে স্কুলে পরিকাঠামোর কোনও ঘাটতি নেই। শ্রেণিকক্ষের দেওয়ালে স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধি, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের ছবি জ্বলজ্বল করছে। রয়েছে দেওয়ালজুড়ে মূল্যবান সমস্ত বাণী। অন্যান্য পরিকাঠামোও ঠিকঠাক। তবুও স্কুলের এহেন পরিস্থিতি।
স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে প্রাক্তন ছাত্ররা সবাই চাইছেন স্কুলটি আবার পুরনো রূপে ফিরে আসুক।
বেহাল এই স্কুলের হাল ফেরাতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া কথা জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতর। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে স্কুলের প্রাক্তনীদের সকলেরই ইচ্ছা স্কুলটি পুরনো রূপে ফিরে আসুক।
এই পরিস্থিতিতে স্কুলটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন সেটাই এখন দেখার।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি