Home » উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে বাঘের আতঙ্ক! বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছে ৩ টি বাঘ

উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে বাঘের আতঙ্ক! বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছে ৩ টি বাঘ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মাদ্রাসার সামনের প্রাঙ্গণে দিনে দুপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে তিনটি বাঘ। শুধু তাই নয় মাঝে মাঝে হুংকার ছাড়ছে বাঘ। ছাত্র-ছাত্রীরা বাঘ দেখে আতঙ্কে পালিয়ে যাচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখলে ভয় তো পাওয়ারই কথা। আর সেটাই হয়েছে, সামাজিক প্রচারমাধ্যমে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক অভিভাবকরা।

এখন উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর কদম্বগাছি পঞ্চায়েত এলাকায় আলোচ্য বিষয় এই তিনটি বাঘ।

তবে, আসলে বিষয়টি কী?

সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটা ভিডিওতে দেখা যায় উত্তর ২৪ পরগনা দত্তপুকুর কদম্বগাছি পঞ্চায়েত এলাকার উলা কালসারা কাদরিয়া হাই মাদ্রাসার প্রাঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছে তিনটি বাঘ। আচমকাই তিনটি বাক পিলারের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে ফাঁকা প্রাঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর হুংকার ছাড়ছে। এই দৃশ্য সমাজ মাধ্যমে দেখে অনেক অভিভাবক যোগাযোগ করেছিলেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে। ঘটনার সত্যতা জানতে অনেকে আবার মাদ্রাসায় এসে খোঁজখবরও নিয়েছেন।

কিন্তু আসল ঘটনা জানার পর অভিভাবকদের আতঙ্ক কেটে গিয়েছে।

কিন্তু আসল ঘটনাটা কি? মাদ্রাসার ভূগোল সহশিক্ষক মোঃ ইয়াসিন মল্লিক এ আই দ্বারা এই ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন। মূলত তার উদ্দেশ্য ছিল এআই প্রযুক্তি এখন কতটা উন্নত, পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির দ্বারা অসম্ভবকে কিভাবে সম্ভব করা যায়। মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা এবং চেতনার উন্মেষ ঘটানোর জন্যই এআই দ্বারা এই ভিডিওটি তিনি তৈরি করে ছাত্র-ছাত্রীদের দেখিয়েছিলেন।

ভূগোলের সহশিক্ষক মোঃ ইয়াসিন মল্লিক যে উদ্দেশ্যে এই ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন কিন্তু ঘটে গিয়েছে তার উল্টো ঘটনা। উদ্দেশ্য ছিল চেতনার উন্মেষ ঘটানো আর হয়ে গিয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি। আর এই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি নিয়ে তিনি জানালেন তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

আতঙ্কগ্রস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের পুনরায় বিদ্যালয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মোঃ ইয়াসিন মল্লিক। আসলে অনেক সময়ই এমন ঘটনা ঘটে। এখানেও তাই ঘটেছে শিক্ষার আলো ছড়াতে গিয়ে আতঙ্কের অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে, মাদ্রাসায় বাঘ তো দূরের কথা কোনওরকম প্রাণীর উপদ্রব নেই। শুধুমাত্র এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করে এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে। আর সেই ভিডিও ক্রমশ গুজবে পরিণত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল আশেপাশের অঞ্চলে। আতঙ্কগ্রস্থ অভিভাবকরা যোগাযোগ করছিল বিদ্যালয়ে। যদিও সেই অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে জানালেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল মল্লিক।

ইতিমধ্যেই ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে সামাজিক প্রচার মাধ্যম থেকে। এখন বিদ্যালয় থেকে প্রচার করা হচ্ছে কোনওরকম বাঘের উপদ্রব বিদ্যালয়ে নেই। এটা শুধুমাত্র এআই প্রযুক্তির দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। প্রযুক্তির যত উন্নতি হচ্ছে ততো অবাস্তবকে বাস্তবে পরিণত করা সম্ভব হচ্ছে। এখন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই প্রযুক্তির প্রচার সর্বদা করা উচিত কারণ এই প্রজন্ম প্রযুক্তি নির্ভর প্রজন্ম। আগামী ভবিষ্যৎ আরও প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠবে, ছাত্র-ছাত্রীদের যত প্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা হবে ততই ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে।

About Post Author