Home » সামাজিক-মাধ্যমে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক “ঘনিষ্ঠ”র বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

সামাজিক-মাধ্যমে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক “ঘনিষ্ঠ”র বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ অগাস্ট : স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  একটি ভাইরাল পোস্ট ঘিরে উত্তরবঙ্গে জোর বিতর্ক। পোস্টটি জাতিগত বিভাজনকামী হওয়ায় বিতর্ক বেড়েছে, থানায় অভিযোগ দায়ের  হয়েছে।  ১৫ আগস্টের মধ্যে বাঙালিকে উত্তরবঙ্গ ছাড়তে হবে’,না হলে ২০০২ সালে সিপিআইএম পার্টি কার্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছিলো তার পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত করে পূর্ণ হুঁশিয়ারি  প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ঘনিষ্ঠর। বিতর্কিত তৃণমূল নেতা ঘনিষ্ঠ শুকদেব রায়ের ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একদল যুবক। পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তরফেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে শুকদেব রায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।তাকে ফোন করাহলে ফোন ধরেন নি।

( ভাইরাল পোস্টের সত্যতা যাচাই করে দেখেনি এই সময় কলকাতা )

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, শুকদেব রায় ধূপগুড়ির প্রাক্তন তৃণমূলবিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের ঘনিষ্ঠ এবং ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে অভিযুক্ত যুবক এলাকায় অদৃশ্য । সাম্প্রদায়িক ও গোষ্ঠীগত বিবৃতি কে সম্বল করে উস্কানি দিয়ে পায়ের তলায় মাটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে বিতর্কিত বক্তব্যের বক্তা। বিজেপি নেতা মাধব চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার ও প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ রয়েছে।

সিপিআইএমের ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদারের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক উস্কানি নয়, এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি বাংলাকে বিভক্ত করার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাকে ভাগ করার কোনও চক্রান্ত হলে কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ফের মাথাচাড়া দিলে তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ১৭ আগস্ট ধূপগুড়িতে সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয়ে কেএলও জঙ্গিদের হামলার ঘটনা ঘটেছিল। অতর্কিত সেই হামলায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও বহন করছে ধূপগুড়ির সিপিআইএম কার্যালয়। দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে থাকা স্টিলের আলমারিতে এখনও গুলির চিহ্ন রয়েছে। প্রায় দুই দশক পর আগস্ট মাসেই ফের সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কোনও রাজনৈতিক বলেন সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তির  এমন মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিপিআইএমের দাবি, শুকদেব রায়ের বক্তব্যের ধরন অত্যন্ত গুরুতর। এমন মন্তব্যের নেপথ্যে কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা প্রশাসনের তদন্ত করে দেখা উচিত বলেও দাবি করেছে তারা। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

সব মিলিয়ে তৃণমূল বিধায়ক ঘনিষ্ঠ শুকদেবের ভাইরাল মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ধূপগুড়িতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এই বিভাজনকামী মন্তব্যের পিছনে কোন শক্তি জানার দাবি উঠেছে।একদিকে একের পর এক অভিযোগ, পুলিশের মামলা—সব মিলিয়ে প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিওকে ঘিরে  জোর বিতর্ক। উল্লেখ্য, ধুপগুড়ির স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে এখনো সরাসরি এই ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও  বিভাজনকামী ভাইরাল পোস্টকে ঘিরে চর্চা অব্যাহত।।

About Post Author