Home » ৪ অফিসারকে সাসপেন্ড নমুনা মাত্র! অনিয়মের অভিযোগে ২৫ জনকে চিহ্নিত করে রেখেছে কমিশন

৪ অফিসারকে সাসপেন্ড নমুনা মাত্র! অনিয়মের অভিযোগে ২৫ জনকে চিহ্নিত করে রেখেছে কমিশন

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের জেরে রাজ্যের চার অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ৫ আগস্ট মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন। বারুইপুর পূর্বের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং সেখানকার এইআরও তথাগত মণ্ডল আর ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার এবং এই বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাসকে সাসপেন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআরেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই চারজনের পাশাপাশি সুরজিৎ হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই চার অফিসারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য মুখ্যসচিবকে কমিশন সুপারিশ করেছিল। বরখাস্ত এবং এফআইআরের নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে এখনও পর্যন্ত সেই নির্দেশ কেন কার্যকর করা হয়নি, তা নিয়ে নবান্নের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। দ্রুত ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলা হয়। এবং সোমবার তিনটের মধ্যে এই নিয়ে উত্তর দিতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে বার্তা দিয়েছে কমিশন। তবে তবে সূত্র যা বলছে, তা আরও বিস্ফোরক।

এই চার অফিসারকে সাসপেনশনের সুপারিশ শুধু নমুনা মাত্র। ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ফর্ম নম্বর ৬-এর আবেদনের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধানসভায় অনিয়ম হচ্ছে বলে জানতে পেরেছে মুখ্য নির্বাচন অফিসারের দফতর। আরও অন্তত ২৫ জন ইআরও ও সহকারী ইআরও-কে চিহ্নিত করে রেখেছে কমিশন। এদের মধ্যে অনেকেই ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ অফিসার।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার বলে চলেছেন, নির্বাচন কমিশন যে ৪ জন অফিসার ও একজন ডেটা এন্ট্রি কর্মীর বিরুদ্ধে সাসপেনশনের নির্দেশ দিয়েছে তা নবান্ন মানবে না। তাঁর কথায়, রাজ্যের অফিসারদের কাউকেই সাসপেন্ড করা হবে না।

তবে মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে যেমন অনমনীয়, তেমনই আবার কমিশনও। শুক্রবার মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে চিঠি দিয়ে কমিশন সাসপেনশনের কথা ফের মনে করিয়ে দিয়েছে। শুধু তা নয়, সোমবার বিকেল ৩ টের মধ্যে রিপোর্টও চেয়েছে।

রাজ্যের সিইও দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়ম করার অভিযোগে যে চার জনকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হয়েছে, তাঁদের আগে সতর্ক করা হয়েছিল। তাঁরা শোনেননি। অনিয়ম চালিয়ে গিয়েছেন। শুধু তাঁরা নন, আরও যে ২৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদেরও কমিশন বারবার সতর্ক করেছে।

কিন্তু তাঁরা এতটাই বেপরোয়া যে কোনও ইঙ্গিতই তাঁদের জন্য যেন পর্যাপ্ত নয়। ফলে এবার প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে কমিশন কেন ওই ২৫ জন অফিসারের বিরুদ্ধে এখনও পদক্ষেপ করার সুপারিশ করেনি?

সূত্র বলছে, যে চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হয়েছে, তাঁদের ব্যাপারে সরকারের মনোভাব আগে বুঝতে চেয়েছে কমিশন। সরকার অসহযোগিতা শুরু করেছে এটা বাস্তব। মুখ্যমন্ত্রী যেমন বার বার বলছেন, কমিশনের এই সুপারিশ সরকার মানতে বাধ্য নয়, তেমনই মুখ্য সচিবের দফতর কোনও পদক্ষেপ চুপ করে বসে রয়েছে। এ ব্যাপারে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে ইতিমধ্যেই নোট পাঠিয়েছে কলকাতার সিইও অফিস।

তবে এখানে আরও একটি বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ। সংবিধান অনুযায়ী, কমিশন কোনও অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করলে রাজ্য সরকার দ্রুত তা মানতে বাধ্য। ২০১২ সালে নির্বাচন কমিশনকে এক্তিয়ার দেওয়া হয়েছে।

কেন না, জন প্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের যে সব কর্মচারী কমিশনে ডেপুটেশনে কাজ করবেন, তাঁরা কমিশনের কর্মী বলেই বিবেচনা করা হয়। সেই সময়ে কমিশন চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই পারে। আর যেহেতু নির্বাচন কমিশনের কাজটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়, তাই রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারকে কোনও টালবাহানার সুযোগ না দিয়ে কমিশনকে ব্যবস্খা নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

কমিশন চাইলে নিজেই অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পারে।

কমিশন ইতিমধ্যে যে চার অফিসারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে তাঁরা হলেন, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, সহকারী ইআরও তথাগত মণ্ডল এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকার ও এআইআরও সুদীপ্ত দাস। ওই চারজন আধিকারিক ছাড়াও ফর্ম-৬ প্রসেসিংয়ে যুক্ত ক্যাজুয়াল ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিত হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করার সুপারিশ করেছে কমিশন। এখন দেখার কমিশনের চিঠির পর সোমবারের মধ্যে নবান্ন এই অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করে কিনা। তা না করলে নবান্ন ও কমিশনের মধ্যে সংঘাত যে আরও বাড়বে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

About Post Author