Home » ভারতের অনুরোধ রাখল চিন, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল বেজিং

ভারতের অনুরোধ রাখল চিন, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল বেজিং

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঈর্ষা জাগিয়ে ভারত-চিন সম্পর্ক আরও মজবুত হল। ‘হিন্দি-চিনি ভাই-ভাই’ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে এক বিরাট মোচড়। চোখের সামনে স্বস্তির আকাশ দেখছেন দেশের কৃষকরা।

কিন্তু চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের কৃষকদের সম্পর্কটাই বা কি? আসলে ভারতকে চিন জানিয়ে দিল, তারা এদেশের উপর থেকে সার, রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট ও খনিজ দুষ্প্রাপ্য ধাতু এবং সুড়ঙ্গ খোঁড়ার মেশিন রফতানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল। গত মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সেদেশের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং য়ি-এর সঙ্গে বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

সেই অনুরোধই রাখল বেজিং। চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং-ই দুদিনের সফরে নয়াদিল্লিতে আসেন। সোমবার তাঁদের মধ্যে আলোচনায় চিনা বিদেশমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন জয়শঙ্করকে।

তিনি জানান, ভারতের আর্জি অনুযায়ী বেজিং কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পদক্ষেপ শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, এই তিনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী জাহাজে উঠছে। এর আগে ভারত এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছিল। বিশেষত সার রফতানিতে নিষেধাজ্ঞায় রবি শস্যের মরশুমে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেটের সরবরাহে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ভারতে ব্যবহৃত সারের ৩০ শতাংশই চিন থেকে আমদানি করা হয়। ফলে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

এমনকী, সুড়ঙ্গ খোঁড়ার মেশিন আসা বন্ধ করে দেওয়াতেও দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যেসব বিদেশি কোম্পানি সুড়ঙ্গ খোঁড়ার মেশিন তৈরি করতে চিনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে। আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী হল রেয়ার আর্থ মিনারেল।

এর ফলে অটো ও ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে উৎপাদনের ব্যাপক ঘাটতি তৈরি করেছিল চিনা নিষেধাজ্ঞায়। চিন সে সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপত্তি তোলায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে মরচে ধরেছিল।

তবে এবার সেই সব বাধাই সরে গেল চিনের বিদেশমন্ত্রীর হাত ধরে। বদলে গেল সমীকরণ! সূত্র বলছে, সোমবারের বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। বর্তমান মার্কিন নীতি আসলে ভারত এবং চিন দুই দেশকেই নিশানা করছে, দুই দেশের ক্ষতি হচ্ছে, এই নিয়ে সহমত দুই বিদেশমন্ত্রী। তাই ওয়াশিংটনকে রুখতে দিল্লি-বেজিংয়ের আরও কাছাকাছি আসা উচিত বলেই হয়তো ভাবছে দুই দেশ।

About Post Author