সময় কলকাতা ডেস্ক:- শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ৪৬ লক্ষ টাকা তুলেছেন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। সোমবার আদালতে এমনটাই দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘন্টা জেরা শেষে সোমবার সকালেই গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল বিধায়ককে। এরপর সন্ধ্যায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় ইডি।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ধৃত তৃণমূল বিধায়কের ছয়দিনের ইডি হেফাজত মঞ্জুর করে ব্যাঙ্কশাল আদালত।
ফলে জারি তদন্ত, ইডি হেফাজতে চলছে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ। সেই তদন্তেই একাধিক বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসছে। সূত্রের খবর, ইডি জানতে পেরেছে গত চার মাসে জীবনকৃষ্ণর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা ঢুকেছে!
এই টাকার উৎস কী, জানতে চাওয়ায় উত্তরও দিয়েছেন বিধায়কের স্ত্রী। আর তাতেই বলা যায় আরও চাপ বেড়েছে জীবনকৃষ্ণের।
ইডির প্রশ্নের উত্তরে জীবনের স্ত্রী নাকি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীই এই টাকা রেখেছেন! তাই স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ আরও কয়েকগুণ বেড়েছে ইডির।
এসবের মাঝেই ইডির হাতে এবার আরেক তথ্য। শুধু ২০২১-এ নির্বাচনী কাজেই তিনি নাকি খরচ করেছিলন ২৫ লক্ষ টাকা। এই অঙ্ক শুনে সন্দেহ বাড়ছে আধিকারিকদের। রাজনীতির জগতে বেশিদিন পা রাখেননি জীবনকৃষ্ণ। পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক।
তাঁর অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা এল কী করে, সেটাই প্রশ্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তকারী আধিকারিকদের। বিধায়ক গ্রেফতার হওয়ার পর সামনে এল জীবনের নির্বাচনী খরচের হিসেব।
সূত্রের খবর, খরচের হিসেব দিয়েছেন জীবনকৃষ্ণ। ইডির আধিকারিকদের তরফে জানতে চাওয়া হয়েছে, এই টাকার উৎস কী। যাঁর কোনও রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না, কোনও ব্যবসা নেই, যিনি পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, তাঁর কাছে এত টাকা এল কোথা থেকে। আধিকারিকদের সন্দেহ, ওই টাকা জীবনকৃষ্ণের আয়ের বাইরে। এদিকে বড়ঞার বিধায়কের দাবি, এই টাকা তাঁর জমানো টাকা।
তবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচনের কাজে যারা যুক্ত ছিল, তাদের কাছেও জানতে চাওয়া হতে পারে এই বিষয়ে। সোমবার জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে তাঁর পিসি মায়া সাহা, নিতাই সাহা, গৌর সাহা, রাজেশ ঘোষ-সহ ঘনিষ্ঠদের নামে প্রচুর জমি কেনার নথি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। স্ত্রী’র নামেও প্রচুর সম্পত্তি নগদে কেনা হয়েছে বলে ইডি তদন্তে জানতে পেরেছে।
গত পাঁচ বছরে কত সম্পত্তি বেড়েছে জীবনকৃষ্ণের, জানতে জীবন-ঘনিষ্ঠদের আয়কর রিটার্নে নজর ইডি-র। জীবনের স্ত্রী ও পিসি মায়া সাহাকেও সম্পত্তির নথি-সহ তলব করা হয়েছে। গত সোমবার জীবনকৃষ্ণর পেশা নিয়েও আদালতের কার্যত বিস্ফোরক দাবি করেছে ইডি।
তাঁদের বক্তব্য, বিধায়ক হওয়ার আগে চাকরি-বিক্রির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন তিনি! পরে বড়ঞার বিধায়ক হওয়ার পর ১০-১২ জনকে নিয়ে তৈরি করেন চাকরি-বিক্রির নেটওয়ার্ক। অনুমান, এই কারণেই ধাপে ধাপে বিধায়কের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা ঢুকেছে। সোমবার সকালেই জীবনকৃষ্ণের কান্দির বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ২০২৩ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন!
সে বারও সিবিআইয়ের তল্লাশির সময় বাড়ি থেকে দু’টি মোবাইল ফোন পুকুরে ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে জল শুকিয়ে উদ্ধার করা হয় ফোন, পুনরুদ্ধার হয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও।
এইবারও খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ফের মোবাইল ছুড়ে দেন বিধায়ক। ফোন সোজা গিয়ে পড়ে বাড়ির সামনের পুকুরে। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফোন উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করে ইডি। তবে তাতে কোনও তথ্য মিলবে কিনা, সে নিয়ে ধন্দ রয়েছে। এবারও নিজেকে ‘চক্রান্তের শিকার’ বলে দাবি করেছেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক।
কিন্তু কার চক্রান্ত? কীভাবে ফাঁসানো হল তাঁকে? কেনই বা ফোন পুকুরে ছুড়েছিলেন, তাতে কী তথ্য রয়েছে? — এসব প্রশ্নের উত্তর অধরাই রয়েছে। জারি তদন্ত। আগামী বছরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার গ্রেফতারি নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। দফায় দফায় শাসকদলকে কটাক্ষে বিঁধছে বিরোধীরা। পাল্টা শাসকদল বলছে, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তুঙ্গে তর্জা।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?