সময় কলকাতা ডেস্ক:- খরচের হিসাব বা ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ না দিলে মিলবে না অনুদান। বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। অভিযোগ, কীভাবে টাকা খরচ হচ্ছে তার হিসাব নেই। শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, খরচের হিসাব দিলে তবেই মিলবে অনুদান। ২০১৯-এর দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করে রাজ্য। ২০২০ সালে সেই অনুদানের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকা।
এবার অনুদান বেড়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। গত ৩১ জুলাই পুজো কমিটিগুলির সাথে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, এবছর সমস্ত পুজো কমিটিকে সরকারের তরফে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
তবে সেই পুজো অনুদান নিয়ে ফের মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। কতগুলি পুজো কমিটি সরকারি অনুদান পায়?
সেই প্রশ্নের উত্তরে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য জানায়, ৪১ হাজার ৭৯৫টি পুজো কমিটি অনুদান নিয়েছে। তার মধ্যে ৪১ হাজার ৭৯২টি কমিটিই খরচের হিসেব দিয়েছে। বাকি তিনটি ক্লাব যারা কোনও হিসেব দেয়নি তারা শিলিগুড়ির।
এই বক্তব্য শুনে পুজোর ছুটির এক মাসের মধ্যে ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ বা খরচের হিসেব নিয়ে রাজ্যকে রিপোর্ট দিতে বলেছে রাজ্যের উচ্চ আদালত। পুজোর অনুদান মামলায় এর আগেও হিসেব-নিকেশের প্রসঙ্গ উঠেছিল। সেই সময়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।
জানতে চাওয়া হয়, কত পুজো কমিটি অনুদান পায় ?
কতগুলি পুজো কমিটি খরচের হিসেব দেয় বা দেয়নি ?
পাশাপাশি খরচের হিসেব না দেওয়া কমিটিগুলিকে রাজ্য আবার কেন অনুদান দিচ্ছে সেই প্রশ্নও করেছিল আদালত। বুধবার সেই প্রেক্ষিতে স্পষ্ট নির্দেশ – অনুদানের টাকার খরচের হিসেব বা দিলে তা আর দেওয়াই যাবে না। পুজোর অনুদান নিয়ে মামলা হয়েছে আগেও।
এ বছর অনুদান ঘোষণা করার আগেই মামলা প্রসঙ্গ তোলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
সেই ঘোষণার এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের পুজো কমিটিগুলোকে আর্থিক অনুদান দেওয়া শুরু করে রাজ্য সরকার। এর পরে সেই অনুদানের পরিমাণ প্রতি বছরেই বাড়তে থাকে।
তবে এবার শর্ত বেধে দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, আগের নির্দেশ মেনে পুজো কমিটিগুলিকে এবারও ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। যারা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ দিতে পারেনি বা দেয়নি তাদের টাকা দেওয়া যাবে না। সাফ নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি