সময় কলকাতা ডেস্ক:- পশ্চিমবঙ্গে ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে বুথ বিন্যাসে বড় পরিবর্তন আসছে। জনবিন্যাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটে প্রায় ১৪ হাজার ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বাড়তে চলছে। সেক্ষেত্রে মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াবে ৯৫ হাজারের কাছাকাছি।
এমনটাই ইঙ্গিত রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের। শুক্রবার এনিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সর্বদল বৈঠকে বসেছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-এর দফতর।
সূত্র বলছে, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কোন কোন এলাকায় নতুন বুথ স্থাপন হতে পারে এবং বুথ পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বুথ বিন্যাস নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ লিখিত আকারে জমা দিতে পারবে। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।
ইতিমধ্যেই বিধানসভা ভোটের আগে বুথের নতুন খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। আগে যেখানে বুথ ছিল ৮০ হাজার ৬৮১, সেখানে এবার বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯৪ হাজার ৪৯৭। অর্থাৎ মোট ১৩ হাজার ৮১৬ বুথ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিধানসভা ভোটের আগে বুথ বাড়ানো নিয়ে নির্বাচন কমিশন সক্রিয় হয়েছে। খসড়া তালিকায় স্পষ্ট, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি বুথ বৃদ্ধি হয়েছে। শুক্রবারের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক।
বৈঠক শেষে অরূপ বিশ্বাস জানান, বুথ পুনর্বিন্যাস নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে তাঁর বক্তব্য, অতিরিক্ত বুথ একই ভোটকেন্দ্রেই রাখা হোক। ভোটারকে যেন দূরে গিয়ে ভোট দিতে না হয়।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন-কে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে অরূপ বিশ্বাস আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। রেফারি যদি সঠিক না থাকে, খেলা কীভাবে চলবে!
বর্তমানে রাজ্যে বুথের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৬১। এর সঙ্গে আরও ১৩ হাজার ৮১৬টি হাজার বুথ যুক্ত হলে মোট বুথের সংখ্যা দাঁড়াবে ৯৪ হাজার ৪৯৭। ফলে অনেকেই বলাবলি করছেন, এর ফলে মাথাব্যথা বাড়বে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিরও।
বিরোধীরা এসআইআর পর্বের সময় বুথ লেভেল এজেন্ট দিতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভুয়ো এবং অবৈধ ভোটারের রমরমা বলে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ধারাবাহিক ভাবে অভিযোগ তুলেছে। সম্প্রতি বিহারে এসআইআর খসড়া তালিকায় প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। বিজেপির দাবি, পশ্চিমবঙ্গেও লক্ষ লক্ষ অবৈধ এবং ভুয়ো ভোটার রয়েছে। শুক্রবার কমিশনের বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, বুথ বিন্যাস নিয়ে ২৪টি জেলার ডিইও অর্থ্যাত্ জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের ভাষা একই। তাঁরা বলেছেন, একটিও না কি অভিযোগ জমা পড়েনি।
বামেরা বলেছে, সিইও বলছেন, সব ডিইও কী ভাবে একই রিপোর্ট দেয়? বিরোধীদের কোনও কথা শুনবে না কমিশন। এই রকম পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন নিয়ে নিরপেক্ষ ভোট হওয়া সম্ভব?
কংগ্রেসের পক্ষে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ‘নো পলিটিক্যাল এসআইআর’ পোস্টার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকের পর আশুতোষও বলেন, ‘অসম্পূর্ণ বৈঠক। বুথ বিন্যাস কোনও অভিযোগ নেই এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
রাজনৈতিক তর্জা চলছেই। সেসবের মাঝেই সূত্র বলছে, শহরাঞ্চলে ভোটদানের হার বাড়াতে ৬০০ বা তার বেশি ভোটার বাস করেন, এমন হাইরাইজ বিল্ডিং বা আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা সম্ভব কিনা, তা জানাতে জেলাশাসকদের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। শুধু বুথের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, ভোটকেন্দ্রগুলির বর্তমান পরিস্থিতি কেমন সেটাও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার ভোটারদের সুবিধার কথা বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে। সব বুথের পরিকাঠামো ঠিক আছে কিনা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের সংস্থা ‘দ্য ম্যাকিন্টশ বার্ন লিমিটেড’কে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। আগামীর সর্বদল বৈঠকে সে নিয়েও আলোচনা হতে পারে।


More Stories
শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী , আর কী ঘোষণা অমিত শাহের?
কীভাবে ও কেন খু*ন শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে?
সরকার গঠন : রাজ্যপালের কাছে জমা পড়ল গেজেট নোটিফিকেশন