Home » রাজনৈতিক অবস্থান ভুলে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ানো বার্তা শুভেন্দুর

রাজনৈতিক অবস্থান ভুলে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ানো বার্তা শুভেন্দুর

রাজনৈতিক অবস্থান ভুলে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ানো বার্তা শুভেন্দুর

রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি—বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এমনই বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় শুভেন্দু-নওশাদের সঙ্গে দেখা করলেন চাকরিহারাদের একাংশ।
চাল থেকে কাঁকর আলাদা হয়ে গিয়েছে। তাহলে কেন এখন যোগ্য প্রার্থীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে না ? প্রশ্ন তুলে সোমবার পথে নামেন চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ। এদিকে চাকরি ফেরতের দাবিতে সরব হয়ে বিধানসভার সামনে সোমবার জড়ো হন চিন্ময় মণ্ডল সহ চাকরিহারা শিক্ষকদের এক দল। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী ও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। আর সেখানেই এসএসসি-র নিয়োগ দুর্নীতিতে ফের তীব্র আক্রমণে মুখর রাজ্যের দুই বিরোধী নেতা। বিধানসভা চত্বর থেকে একযোগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তাঁরা বলেন, যেখানে তৃণমূল, সেখানেই দুর্নীতি— এটা এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য।

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকার যদি এসএসসি যোগ্য প্রার্থীদের স্বীকৃতি দিতে কোনও বিল আনে, তাহলে বিরোধী দল সর্বসম্মতভাবে তাতে সমর্থন জানাবে।

শুভেন্দুর সাফ কথা, এই বিল সর্বসম্মতভাবে পাশ হলে, তা সুপ্রিম কোর্টেও রাজ্য সরকারের পক্ষে জোরালো আবেদন হিসেবে গণ্য হবে। এই বার্তায় রাজ্যের তরফে কার্যকর পদক্ষেপের জন্যও আহ্বান জানান বিরোধী দলনেতা।

আর একধাপ এগিয়ে আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি বলেন, তৃণমূল যেখানে আছে, দুর্নীতি হবেই। এদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র রাস্তা হল সরকার পরিবর্তন।

সম্প্রতি বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার গ্রেফতারি নিয়েও মন্তব্য করেন নওশাদ। বলেন, জীবনকৃষ্ণ তো চুনোপুঁটি। রাঘব বোয়ালদের কবে ধরবে ইডি-সিবিআই? ওকে ধরে লোকদেখানো নাম কুড়োচ্ছে। এতে বাহবা পাওয়ার কিছু নেই।
সোমবার নিয়োগ থেকে বঞ্চিত শিক্ষকদের একাংশ শুভেন্দু অধিকারী এবং নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। স্পিকারের সঙ্গেও দেখা করতে চান তাঁরা। চাকরিহারা শিক্ষকদের কথায়, সরকার আইনমেনে বিধানসভায় বিশেষ বিল পাস করে যোগ্যদের চাকরি রক্ষা করুক, এটাই তাঁদের দাবি। তাদের পাশে থাকার বার্তা দেন দুই নেতাই।

এসএসসি-র ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল ৭ দিনের মধ্যে অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশকরতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার সেই তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ১ হাজার ৮০৪ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে রাতের দিকে আরও একটি তালিকা দিয়ে দু’জনের নাম প্রকাশ করে কমিশন। অর্থাৎ এখন দাগিদের সংখ্যা ১৮০৬। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের কাউন্সিলর, অঞ্চল সভাপতি-সহ বিধায়ক ঘনিষ্ঠদের নাম।
এরপরই চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের প্রশ্ন, অন্যের ভুলের মাসুল তাঁরা কেন দেবেন? তাঁদের দাবি, সরকার আদালতে অযোগ্যদের নামের তালিকা তুলে দিয়ে তাঁদের ফের চাকরিতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক। এবার একই দাবি শোনালেন বিরোধী দলনেতা এবং নওশাদ সিদ্দিকীও।

About Post Author