Home » সভা মঞ্চ ভাঙল সেনা, তীব্র প্রতিবাদ মমতার

সভা মঞ্চ ভাঙল সেনা, তীব্র প্রতিবাদ মমতার

রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা প্রতিবাদী মঞ্চ – ধর্মতলার গান্ধি মূর্তির পাদদেশ বহুদিন ধরেই শহরের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় গোটা বছর জুড়ে নানা দলের কর্মসূচিতে সরগরম থাকে এই চত্বর। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক অনুষ্ঠানের জন্যও সেখানে বানানো হয়েছিল অস্থায়ী মঞ্চ। তবে সেটি আর সরানো হয়নি। অবশেষে সোমবার সরাসরি সেই উদ্যোগ নেয় সেনাবাহিনী। আর সে খবর পেয়েই ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ধর্মতলায় তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ খুলতেই সোমবার রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ে শহরের বুকে। যুব তৃণমূল থেকে মহিলা তৃণমূল – শাসক শিবিরের নানা কর্মসূচির পর সেই মঞ্চ অক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল। তবে সোমবার সেই মঞ্চ খোলার উদ্যোগ দেয় সেনাবাহিনী। মঞ্চের জায়গায় গিয়েই সেনার তরফে জানানো হয়, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা মঞ্চ রাখা যেতেই পারে। কিন্তু দিনের পর দিন কাঠামো গড়ে রেখে দেওয়া যায় না। সেনাবাহিনীর অধীনে থাকা মেয়ো রোড-ময়দান এলাকায় এমন স্থায়ী কাঠামো রাখা নিয়মবিরুদ্ধ। সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেনার অফিসাররা তৃণমূল নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা হলেও শেষমেশ কোনও সমঝোতা হয়নি। সেনার তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, নিয়ম ভেঙে মঞ্চ বেঁধে রাখা চলবে না। এরপরেই নিজস্ব উদ্যোগে কাঠামো খোলার কাজ শুরু করে সেনার কর্মীরা। সেই খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দেখেই অবশ্য সেনাবাহিনীর জওয়ানরা চলে যান। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এনিয়ে বিজেপির উদ্দেশে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। বলেন, বিজেপির কথায় সেনা চলছে। এর থেকেই ভাবুন দেশটার কী অবস্থা।মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, সেনা নিজে থেকে এটা করেনি। প্রতিরক্ষা দফতর থেকে এটা জোর করে করা হয়েছে। আক্ষেপের সুরে মমতা বলেন, সেনা বাকি ছিল। কিন্তু সেটাও ছাড়ল না।একই সঙ্গে বিজেপির প্রতি আক্রমণের সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এভাবে ভাষা আন্দোলন থামাতে পারবে না। আরও বড় আকারে আন্দোলন সংগঠিত হবে। আর বিজেপি এভাবে যত অত্যাচার করবে, ততই দেশ থেকে ওরা মুছে যাবে। আসলে গান্ধি মূর্তির পাদদেশ শহরের অন্যতম প্রতীকী জায়গা। তবে মেয়ো রোড, ময়দান এলাকা সেনাবাহিনীর অধীনে। তাই সেখানে নিয়ম মেনে অনুষ্ঠান করতে হবে, এবং মঞ্চও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরাতে হবে। এই ঘটনার পর নতুন করে সেই বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে গেল।

 

About Post Author