Home » শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে চাকরিহারাদের জন্য বড় ঘোষণা মমতার

শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে চাকরিহারাদের জন্য বড় ঘোষণা মমতার

 শিক্ষক দিবসের আগে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় চাকরি হারানো শিক্ষকদের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে ফেরার পথ বন্ধ—তবে নতুন আশার আলোর ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
‘যাঁদের চাকরি চলে গেছে, টিচার হতে পারবেন না’
তাঁরা যাতে গ্রুপ সিতে পায় দেখব, মুখ্যমন্ত্রী
গ্রুপ সি-তে নিয়োগের ভাবনা মুখ্যমন্ত্রীর
শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে টানাপোড়েন চলছেই। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে যোগ্য, অযোগ্য তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা নেওয়া হবে। দাগির তালিকায় থাকা ১৮০৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। তবে তাঁদের পাশে আইনিভাবে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে শিক্ষারত্ন সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে সামিল হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁদের চাকরি চলে গিয়েছে, যাঁরা অপমানিত হয়েছেন, তাঁরা শিক্ষক হতে পারবেন না। তবে তাঁদের গ্রুপ সি-তে সুযোগ দেওয়া যায় কিনা, তা নিয়ে রাজ্য সরকার আইনি পরমার্শ নিচ্ছে।মমতা জানান, ৫৬ হাজার শিক্ষকের পদ এখনও খালি রয়েছে। দু’তিন মাসের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি নিয়োগ হবে। নিয়োগ দুর্নীতির মাঝেই যখন রাজ্যজুড়ে বেকার তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, তখন এই মন্তব্য অনেকের কাছেই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিয়োগপ্রার্থীদের অভিজ্ঞতা রি-কনসিডার করার জন্য ক্যাবিনেট সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি অ্যাখ্যা দিয়ে গত এপ্রিলেই ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে বহু প্রার্থী চাকরি হারিয়েছেন। গত শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর দাগিদের তালিকা প্রকাশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। তাতে ১৮০৬ জনের নাম রয়েছে। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে পড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এই তালিকা প্রকাশের পর তাঁদের চাকরি খারিজ হয়ে গিয়েছে। এবার সেসব দাগিদের পাশে আইনিভাবে দাঁড়ানোর কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের নাম দাগি তালিকায়, তাঁরা নতুন পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের মন্তব্য অনেককেই নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে এই বক্তব্য শুধু প্রশাসনিক বার্তা নয়, অনেকের কাছে তা এক নতুন দিশার ইঙ্গিত।

About Post Author