সানি রায় ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা : রাজ্য সরকার তথা স্বপন দাশগুপ্তের বাজেট ঘিরে ক্ষুদ্র চা-চাষীদের স্বপ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে উত্তরবঙ্গের চা বাগানের বাতাসে। বাজেট নিয়ে কি প্রত্যাশা চা চাষীদের? বাজেটের আগে, উত্তরের চা বাগান আশায় বুক বাঁধছে। ক্ষুদ্র চা চাষীদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের সভাপতি(সিস্টা ) বিজয় গোপাল চক্রবর্তী, ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র চা চাষিরা অত্যন্ত আশাবাদী নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে তাদের জন্য সুখবর থাকবেই। তিনি এও জানিয়েছেন ইতিপূর্বেই, তাঁরা উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষীদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কে চিঠি লিখেছেন। তাছাড়াও তাড়াও নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সঙ্গে কথাও বলেছেন কথাও বলেছেন বলে জানান তিনি।

বিজয় গোপাল চক্রবর্তী ক্ষুদ্র চাষীদের সংগঠন সিস্টার অন্যতম তথ্যসমৃদ্ধ মুখ। সম্প্রতি বিজয় গোপাল চক্রবর্তী একটি প্রতিবেদনে Food & Agriculture Organisation (FAO) -এর গুরুত্ব উল্লেখ করে জানিয়েছিলেন, ” চা উৎপাদক দেশগুলি মূলত ক্ষুদ্র চা উৎপাদকদের ফলনের উপর দাঁড়িয়ে আছে। ক্ষুদ্র চা উৎপাদকদের জীবন জীবিকার সুস্থিরতার নিরাপত্তা না থাকলে অদূর ভবিষ্যতে চা শিল্প এক সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়তে পারে। সংকটের হাত থেকে বাঁচবার জন্য ক্ষরা প্রতিরোধকারী চা গাছ লাগানো , রাসায়নিক ব্যবহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস, জৈব কৃষির প্রচলন, গোবর বা তেল কেকের ব্যবহার, ছায়া গাছের ব্যবহার, চা বর্জ্যর ব্যবহার, সবুজ সার, কেঁচো সার, Integrated Pest Management, জলসেচ, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং ফসলের বৈচিত্রকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ” করা হয়েছে। এছাড়াও জৈব চা-এর সংশাপত্র (Certification) –র দ্বারা গুণগত মান এবং বিশুদ্ধতা উৎপাদনকারী এবং আমদানীকৃত দেশগুলোর মধ্যে আরও সমন্বয় সাধনের উপর ফাও গুরুত্ব দিয়েছে । এছাড়া জৈব চা উৎপাদনকারী দেশগুলির মধ্যে যুক্তভাবে গবেষণা, উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিলেন বিজয় গোপাল চক্রবর্তী। তথাপি সংকট কাটছে না।
উল্লেখ্য, চা চাষীদের সমস্যা প্রভূত।ক্ষুদ্র চাষীদের নিজস্ব প্রক্রিয়াকরণ কারখানা না থাকায় তারা ‘বট লিফ ফ্যাক্টরি’ (BLF) বা বড় বাগানের ওপর নির্ভরশীল।পাতার দামের তীব্র ওঠানামা এবং ফড়িয়া বা দালালদের কারণে চাষীরা প্রায়শই কাঁচা পাতার সঠিক দাম পান না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাতা তোলার ক্ষেত্রে অনেক চাষীরই প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ যেমন নেই তেমনই উত্তরবঙ্গের বহু ক্ষুদ্র চাষীর জমির কোনো সরকারি ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) বা বৈধ পাট্টা নেই।আইনি কাগজপত্রের জটিলতার কারণে তারা ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ বা আর্থিক সহায়তা সহজে পান না। চা চাষী হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা প্রথাগত কৃষকের মর্যাদা পান না। ফলে সরকারের সাধারণ কৃষি ঋণ বা কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের (KCC) মতো সরাসরি আর্থিক সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হন। তবে সম্প্রতি বাগিচা ক্ষেত্রকে ‘রিস্ট্রাকচারড ওয়েদার বেসড গ্রুপ ইনশিওরেন্স স্কিম’ (আবহাওয়া নির্ভর ফসল বিমা)-এর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষী জলবায়ু পরিবর্তনের আর্থিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় সমবায়ের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে একাধিক বট লিভ ফ্যাক্টরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যার ফলে বড় মিলের ওপরে নির্ভরশীলতা কমবে। এখন দেখার নতুন বাজেটে ক্ষুদ্র চা চাষীদের জন্য নতুন কোন জিয়নকাঠি বা দিশা থাকে কিনা! চা বাগানের বাতাসে দীর্ঘশ্বাসের বদলে মুক্ত হাওয়া কতটা আসে নতুন বাজেটে!
তথ্যসূত্র : সৌজন্যে বিজয় গোপাল চক্রবর্তী


More Stories
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন
ডিমথেরাপি ও জনরোষ ধূপগুড়িতে,অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে রক্ষা করতে পুলিশ জনতা খণ্ডযুদ্ধ
পুলিশের জালে উদয়ন গুহ