নির্বিঘ্নেই শেষ হল এসএসসি-র প্রথম দিনের পরীক্ষা। রবিবারের এই চাকরির পরীক্ষা শুধুই পরীক্ষার্থীদের জন্য ছিল না। ন’বছর পর এটা এসএসসি-র কাছেও একটা বড় পরীক্ষার থেকে কম নয়। কারণ, দুর্নীতির দাগ মুছতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে এই নিয়োগ।
প্রায় নয় বছর অপেক্ষার পর অবশেষে রবিবার হয় এসএসসি-র লিখিত পরীক্ষা। নির্ধারিত সময়ে শুরুর পর তা একেবারে নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়। রবিবার নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। রবিবার দুপুর ১২টায় রাজ্যের মোট ৬৩৬টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা দেড়টায় শেষ হয়। তবে বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীরা আধঘণ্টা অতিরিক্ত সময় পান, তাঁদের পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর ২টোয়। রবিবার নবম-দশমের পরীক্ষায় বসেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন চাকরিপ্রার্থী। কিন্তু সকাল থেকেই দেখা গেল এবার বাংলার শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় ঝাঁকে ঝাঁকে এলেন ভিন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরাও। ২০১৬ এর পরীক্ষায় হিন্দি মিডিয়ামদের অনুমতি ছিল না বলে খবর। এবারেই প্রথম। অন্যদিকে ভারতীয় নাগরিক হলেই পরীক্ষায় বসা সম্ভব। তাই ভিন রাজ্যের পরিক্ষার্থীদের আবেদনে কোনও বাধা নেই। প্রায় ৩১ হাজার পরীক্ষার্থী রাজ্যের বাইরের — উত্তরপ্রদেশ, বিহার-সহ অন্যান্য রাজ্য থেকে এসেছেন। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০ শতাংশই বাংলার বাইরে থেকে আসা। ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ন্যূনতম স্নাতক পর্যায়ে ৪৫ শতাংশ নম্বর থাকলেই আবেদন করা যেত। তবে পরে নিয়ম বদলে অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়। পরীক্ষা চলাকালীন কোনও রকম অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার খবর মেলেনি। উত্তরপত্র জমা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় পরীক্ষার্থীদের। হাতেই দেখা যায় প্রশ্নপত্র ও OMR শিটের কার্বন কপি। এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই কার্বন কপি নয়া সংযোজন। যা দুর্নীতি রুখতে হতে পারে ব্রহ্মাস্ত্র। আর সেই কথা মানছেন একাংশের পরীক্ষার্থীরাও। পরীক্ষা শেষে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র সহজ ও মানানসই ছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই মত, এত দিনের অপেক্ষার পর নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন।
ওএমআর শিট তো মিলল, কিন্তু ইন্টারভিউ, তা কি স্বচ্ছভাবে হবে? নিয়োগ দুর্নীতির নানা পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছিল ইন্টারভিউ প্যানেলের বিরুদ্ধেও। কেউ কেউ এখনও দুর্নীতি নিয়ে সন্দেহ করছেন। এরপর ইন্টারভিউতে কিছু কারচুপি হবে কিনা, সেই প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে।
গত এপ্রিলেই সুপ্রিম কোর্টের এক কলমের আঁচড়ে চাকরিহারা হন অন্তত ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। আদালতের নির্দেশেই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এসএসসি। একাধিক বিতর্ক ও বাধা পেরিয়ে শেষমেশ নির্দিষ্ট দিনেই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়। এদিকে, যোগ্য চাকরিহারা প্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতর সৎ থাকলে আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তাঁদের বক্তব্য, অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রার্থীদের আবার নতুনদের সঙ্গে সমানভাবে পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে, যা একেবারেই অন্যায় ও অসম লড়াই।
যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাস অভিযোগের সুরে দাবি করেছেন, এই পরীক্ষাতেও অযোগ্যরা আছে! তাই এই পরীক্ষা নিয়েও মামলা হয়। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তো রয়েইছে। তবে এসবের মাঝেই নির্বিঘ্নেই শেষ হল এসএসসি-র প্রথম দিনের পরীক্ষা। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই জারি করেছে কমিশন। নবম-দশমে ২৩ হাজার ২১২টি এবং একাদশ-দ্বাদশে ১২ হাজার ৫১৪টি শূন্যপদ রয়েছে। মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৭২৬টি পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হচ্ছে। তবে চাকরিপ্রার্থীরা স্পষ্ট জানান – পরীক্ষা যেমন চলছে চলুক, কিন্তু নির্ভুল যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।


More Stories
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!