Home » প্রবল বর্ষণে ভাসছে উত্তরবঙ্গ ! ব্যাপক ধাক্কা চা শিল্পে। উৎপাদন ব্যাহত

প্রবল বর্ষণে ভাসছে উত্তরবঙ্গ ! ব্যাপক ধাক্কা চা শিল্পে। উৎপাদন ব্যাহত

প্রকৃতির রুদ্ররোষ কার্যত তছনছ উত্তরবঙ্গ। কোথাও জলে ডুবেছে বাগান। কোথাও জলের স্রোতে গাছ উপড়ে ভেসে গিয়েছে। চারপাশ তাকালে শুধুই ধ্বংসলীলা ! রবিবার রাতে পাহাড়-সমতলে অতিভারী বর্ষণের জেরে হড়পা বানের ধাক্কায় উত্তরের চা শিল্প বিরাট বিপর্যয়ের মুখে। টানা প্রবল বর্ষণ ও হড়পা বানে পাহাড় থেকে তরাই- সব অঞ্চলই কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে। নদীর জল ঢুকে পড়েছে বহু চা বাগানে। চা গাছ ও কারখানার ভেতর পর্যন্ত জলে ডুবে গিয়েছে। ফলে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ তৈরি চা পাতা। ফলে এই পরিস্থিতিতে মাথায় হাত কারখানায় মালিকদের।

প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৫ কোটি টাকা-র মতো। তবে পরিস্থিতি যেভাবে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, তা ক্ষয়ক্ষতি ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা চা ব্যবসায়ীদের। কারখানার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে বাগানের রাস্তা, কালভার্ট ও শ্রমিকদের ঘরবাড়িও। অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে ভেসে গিয়েছে। ডুয়ার্সের চ্যাংমারি চা বাগানের কারখানায় জলের স্রোতে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকার সিটিসি ও গ্রিন টি। গেন্দ্রাপাড়া, গুডহোপ, আনন্দপুর, বানারহাট, নাগরাকাটা- এমন অন্তত ৫০টি চা বাগান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

ডুয়ার্স ব্রাঞ্চ টি অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, ১৯৬৮ সালের পর এমন বিপর্যয় আর দেখা যায়নি। চা শিল্প কার্যত ধ্বংসের মুখে। জানা গিয়েছে, পাহাড়, ডুয়ার্স ও তরাই মিলিয়ে উত্তরে ২৭৬টি বড় চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ে চা বাগানের সংখ্যা ৮২টি। পাহাড়ের অন্তত দশটি চা বাগান ভূমিধসে বিধ্বস্ত হয়েছে। তরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ টি চা বাগান। ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের সুভাষীনি চা বাগানের ১০০ একর এলাকা জলে ভেসেছে।

একই দশা হয়েছে কালচিনি, বীচ, সাতালি চা বাগানে। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব? সেটাই ভাবাচ্ছে বণিকসভাকে। রাজ্য সরকারের সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছে চা বণিকসভা। এদিকে, এই দুর্যোগের ফলে চা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে চা-র দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা।

About Post Author