দীপ সেন,সময় কলকাতা, ১৮ নভেম্বর : টাকা পয়সা বা মোবাইল পেলে কে না খুশি হয়? কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রাজ্য সরকারের কাছে মোবাইল বাবদ ১০ হাজার টাকা পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আশাকর্মীরা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কাজ না করার হুশিয়ারি (পড়ুন, হুমকি) দিচ্ছেন তাঁরা। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার সদর শহর বারাসাতে জেলাশাসকের দফতরের চত্বরে রীতিমত হুলুস্থূল বাঁধিয়ে দিলেন তাঁরা। এক বিরাট সংখ্যক আশা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মী উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা ১০ শাসকের দফতরের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখালেন ।তাঁরা দাবি তুলেছেন, সরকার থেকে মোবাইল দিয়ে সেই মোবাইলে সরকারি কাজ করানোর শর্ত কোনো মতেই তাঁরা মানবেন না। প্রত্যাহার করা হোক মোবাইলে কাজ করানোর শর্ত। সে ক্ষেত্রে ফিরিয়ে নেওয়া হোক মোবাইল, দাবি আশাকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। নইলে কাজ বন্ধ করে দেবেন তারা।এই অভিনব বিক্ষোভের গভীরে কী রয়েছে যে ১০, ০০০ টাকা পেয়েও সংগঠিত হয়েছে এক আন্দোলন বিক্ষোভ।
রাজ্য সরকার ছাত্রছাত্রীদের ১০হাজার করে দিয়েছিল ট্যাব কেনার জন্য। তখন উৎফুল্ল হয়েছিল ছাত্র ছাত্রীরা। আশাকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা টাকা পেয়েও কেন ক্ষুব্ধ? প্রথমে তাঁরা খুশি হয়েছিলেন তাঁদের মোবাইল বাবদ দীর্ঘদিনের দাবি মিটে যাওয়ায়। এখন তাঁরাই বলছেন মোবাইল চাই না। কারণ কী?
আশাকর্মীরা জানিয়েছেন, ১০ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল কিনতে বলে রাজ্যের এক গুচ্ছ সরকারি কাজ করানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে । তাঁদের বলা হয়েছে, অ্যাপস ডাউনলোড করতে হবে, মোবাইলে সরকারি কাজই করতে হবে। আর এতেই আপত্তি স্বাস্থ্যকর্মীদের। তারা বলছেন, ১০ হাজার টাকা দিয়ে ভালো মোবাইল হয় না, তার সঙ্গে আছে ডাটা রিচার্জ করার খরচ। আশা কর্মীদের প্রশ্ন, ক্লাস এইট পাসের শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিযুক্ত আশা কর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের দিয়ে প্রযুক্তির কাজ করানোর সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। তাঁদের মতে এই কাজ প্রযুক্তিবিদদের ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের। তাই সরকারি কাজ মোবাইলে করানোর শর্ত প্রত্যাহার করে নিতে হবে,সেক্ষেত্রে মোবাইল তাঁদের চাই না।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যুক্ত প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেছেন, ওয়ার্ক কালচারে যে মস্ত বড় ঢিলেমির যুগ চলছে, কাজ না করার প্রবণতা এখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার প্রমাণ এদিনের বিক্ষোভ। যখন কলেজের ছেলে মেয়েদের যখন ট্যাব কেনার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছিল তখন তারা কি ট্যাব কিনছে বা তা দিয়ে কি কাজ করছে তা দেখা হয়নি, ফলে পড়ুয়ারা দশহাজার টাকা পেয়ে খুব খুশি হয়েছিল। আশা কর্মী, স্বাস্থ্য কর্মীরা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা ভেবেছিল মোবাইল কিনে তা ব্যক্তিগত কাজেই ব্যবহার করবেন। মোবাইল পেয়ে তাতে যখন সরকারি কাজের দায়-দায়িত্ব আসছে তখনই তারা মোবাইলে কাজের থেকে অব্যাহতি চাইছে যা নিয়ে তাঁদের যুক্তি ও বিক্ষোভ হাস্যকর।
স্থানীয় এবং পথ চলতি মানুষরা এবং কর্ম উপলক্ষে জেলা শাসকের দপ্তরে আসা মানুষরা এরকম বিক্ষোভ দেখে ও বিক্ষোভের দাবি শুনে কার্যত হতবাক। এদের বিক্ষোভ দেখে এদিন জেলা শাসকের দফতরের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়া এক সাধারণ মানুষ সূর্যকান্ত বসু বলেন, এখন এদের প্রত্যেকের কাছেই মোবাইল আছে। বাড়তি একটা মোবাইল আচমকা পেয়ে গেলে ভালো হত, কিন্ত তা দিয়ে কাজ করতে হবে শুনেই হইচই করছে। তাঁর বক্তব্য, মোবাইলে কাজ করতে হলে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘোরা যাবে না, তাই বাড়তি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির জন্য এই বিক্ষোভ।
আশা কর্মীদের বক্তব্যেও সুস্পষ্ট যে তাঁরা মোবাইলে সরকারি কাজ করতে চান না।পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন আশা কর্মীদের বকেয়া মেটানো এবং ২৬ হাজার টাকা মাইনের প্রসঙ্গ তুললেও তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাদের মূল বিক্ষোভ মোবাইল সংক্রান্ত। মোবাইল দিয়ে সেই মোবাইলে বিভিন্ন সরকারি অ্যাপস ডাউনলোড করিয়ে কাজ করানো চলবে না আশাকর্মীদের। তাদের শর্ত মানা না হলে এবং সরকারি শর্ত প্রত্যাহার না হলে তাঁরা লাগাতার মাসের পর কাজ বন্ধ রাখবেন, হুমকি রাজ্য সম্পাদিকার।


More Stories
পুলিশের উর্দি পরে সিভিক ভলেন্টিয়ারের দাপাদাপি
ডাম্পিং গ্রাউন্ডে থাকা উচিত ট্রাফিক পুলিশের, কেন বললেন সব্যসাচী দত্ত
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?