পুরন্দর চক্রবর্তী ও দীপ সেন, সময় কলকাতা : চোখ নিয়ে তুলকালাম বারাসাতে। স্বামীর লোপাট হওয়া চোখ নিয়ে এবার কার্যত কাজিয়া শাশুড়ির সঙ্গে গৃহবধূর। এবার, মৃতের স্ত্রীও চাকরির দাবি তুললেন।মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারের কাছে তাঁর আবেদন একটি চাকরির।
স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা কেয়া ঘোষ। কোলে কুড়ি দিনের সন্তান। শ্বশুর বাড়ি পাশে নেই। স্বামীর মৃত্যুর পরে এক অভূতপূর্ব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি পেয়েছেন শাশুড়ি কৃষ্ণা ঘোষ। চাকরির নেপথ্যে স্বামীর চোখ। বারাসাত হাসপাতালের মর্গে চোখ লোপাট হয়েছে মৃত স্বামীর। আর মৃত স্বামীর চোখের ভিত্তিতেই হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র। অথচ স্বামীর চোখ চাকরি এনে দেয় নি স্ত্রী কেয়া ঘোষকে। অকুলপাথারে স্ত্রী। কেয়া ঘোষ বলছেন, স্বামীর চোখের বিনিময়ে শাশুড়ি চাকরি পেলেন। তাঁর প্রশ্ন, তিনি কী দোষ করলেন?
চোখ লোপাট হওয়ার ঘটনার সঙ্গে কোথাও যেন মিল রয়েছে কামদুনির। বঙ্গের মানুষের কামদুনি কাণ্ড এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার কথা নয়। নির্যাতিতাকে ধর্ষণ ও নির্যাতিতার মৃত্যু – বিচারে ফাঁসি ও তা সাজা মকুবের মাঝে একটি আশ্চর্য তথ্য অনেকেই ভুলে গিয়েছেন। একটি মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ জন ক্ষতিপূরণ স্বরূপ চাকরি পেয়েছিলেন। যদিও পাঁচটির মধ্যে একাধিক চাকরিতে স্থায়ী নিয়োগ হয় নি তবুও মৃতার দুই ভাই, মৃতার বাবা -মা এবং এক আত্মীয় চাকরি পেয়েছিলেন ২০১৩ সালে। কামদুনির ঘটনার একযুগ পরে কামদুনির ঘোষ পরিবারের মত চাকরির একাধিক দাবি বারাসাতের কাজীপাড়ার ঘোষ পরিবারেও।

পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারানো কাজীপাড়ার প্রীতম ঘোষের মৃত্যুতে মা ক্ষতিপূরণ বাবদ চাকরির পেছনে রয়েছে ঘটনা পরম্পরা। তাঁদের পরিবারের অভিযোগ ছিল, হাসপাতালের মর্গ থেকে চোখ খোয়া গিয়েছে প্রীতমের। নেপথ্যে রয়েছে অঙ্গ পাচারকারী চক্র। মঙ্গলবার বনগাঁ থেকে বারাসত হয়ে কলকাতার দিকে ধাবমান মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। মুখ্যমন্ত্রী সেমতাবস্থায় ক্ষতিপূরণ ও চাকরির আশ্বাস দেন।
দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা হয়। এডিজে সাউথ বেঙ্গল সুপ্রতিম সেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশ অনুযায়ী কৃষ্ণা দেবীর হাতে বুধবার বিকেলে চাকরির নিয়োগ পত্র তুলে দেন। অন্যদিকে, স্বামীহারা কেয়া ঘোষ এখন হালে পানি পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, তাঁর প্রয়োজনের কথা একবারও কেউ ভাবল না। তাঁর সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। কেয়া ঘোষ বললেন, স্বামীর চোখের বিনিময়ে নিজের ব্যবস্থা করে নিলেন শাশুড়ি। কেয়ার বক্তব্য, তাঁর ও একটি চাকরি চাই। এরজন্য যতদূর যাওয়ার তিনি যাবেন জানিয়ে রীতিমতো রনংদেহি মূর্তিতে কেয়া।
কাজীপাড়ার এক নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মারিয়াম কাজী বললেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে – পুত্রবধূর দাবি সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নন। এদিকে, কেয়া ঘোষ আবার পাশে পেয়ে গেছেন পাড়ার বেশ কিছু বাসিন্দাকে। তাঁরা বলছেন, কেয়ার দাবির মধ্যে অকাট্য যুক্তি রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তৃণমূলের বিপক্ষ রাজনৈতিক শিবিরের নেতারা বলছেন প্রীতমের স্ত্রী কেয়ার চাকরি অবশ্য-প্রাপ্য। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা নীলাভ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এত বড় স্বাস্থ্য পরিষেবায় কেলেঙ্কারিতে হস্তক্ষেপ করে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে, অথচ ক্ষতিপূরণের সবচেয়ে বড় দাবিদার যে তাকেই বঞ্চিত করা হয়েছে।।
আরও পড়ুনভাইপোকে খু*ন : জেঠা এনজারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল বারাসাত আদালত


More Stories
পুলিশের উর্দি পরে সিভিক ভলেন্টিয়ারের দাপাদাপি
ডাম্পিং গ্রাউন্ডে থাকা উচিত ট্রাফিক পুলিশের, কেন বললেন সব্যসাচী দত্ত
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?