Home » এসআইআরের মেয়াদবৃদ্ধি : লাভ-ক্ষতির সমীকরণ

এসআইআরের মেয়াদবৃদ্ধি : লাভ-ক্ষতির সমীকরণ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ ডিসেম্বর : নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশ। এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময়সীমা বা মেয়াদবৃদ্ধি। এনুমারেশন ফর্ম  জমা দেওয়ার জন্য আরও বাড়তি ৭ দিন পাওয়া যাবে। প্রধান রাজ্যে শাসক ও বিরোধী  দুই দল কিভাবে দেখছে? ভোট  সমীকরনই বা কিভাবে কিভাবে প্রভাবিত হতে পারে?

প্রথমেই বঙ্গে এসআইআর সম্পর্কিত  নতুন তারিখ কী হয়েছে দেখে নেওয়া যাক :

এনুমারেশন ফর্ম জমার শেষ তারিখ: ১১ ডিসেম্বর

২) খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর

৩) নোটিশ দেওয়া, হিয়ারিংয়ের মতো প্রক্রিয়া: ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি

৪) চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি

প্রসঙ্গত,রাজনৈতিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে যে বিরোধী দল গুলির একটানা চাপের কাছে কি নতি স্বীকার করল নির্বাচন কমিশন? নাকি নির্বাচন কমিশন তাদের রক্ষণ আরও মজবুত করল? নাকি অদৃশ্য ভাবে হলেও  বিজেপির দাবি মেনে নিল কমিশন  কারণ খতিয়ে দেখা যাক।

কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরোধী দলগুলি একটানা প্রশ্ন তুলে যাচ্ছিল এস আই আর প্রক্রিয়ার কম সময়ের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বলেছিলেন, তিন বছরে যে কাজ হয় না, তিন মাসে সেই কাজ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন ফলে ভোটার সংশোধনে ভুল-ভ্রান্তি দেখা দেবে।  ৭ দিন সময়সীমা বাড়ানো তৃণমূলের দাবি কিছুটা হলেও মেনে  নেওয়া বলে দাবি করছে তৃণমূল। এনুমারেশন ফর্ম ৭ দিন জমা দিলে কি লাভ হবে তৃণমূলের, নাকি লাভ বিজেপির এখন এটাই প্রশ্ন।

এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সূত্রে যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা মেনে বলা যায় নভেম্বর মাসেই ৩৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই তথ্যভিজ্ঞ মহলের দাবি। সেক্ষেত্রে ফর্ম জমা দেওয়া বা স্ক্রুটিনি বা হিয়ারিং -এ এই সংখ্যা কমিয়ে আনা গেলে তৃণমূলের সত্যি কি লাভ হবে? প্রসঙ্গত, ৩৫ লক্ষ বাদ যাওয়া ভোটারের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ভোটার মৃত ভোটার। প্রায় ৪ লক্ষের কাছাকাছি নিখোঁজ ভোটার এবং সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে নভেম্বর মাসেই বঙ্গে ৭৮ হাজার ভুয়ো বা ফলস ভোটারের নাম সর্বশেষ তালিকায় পাওয়া গিয়েছে  বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত । বাকি যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা ডবল এন্ট্রি বা ট্রিপল এন্টি ভোটার বা অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার।

এই প্রসঙ্গে দুটি তথ্য অত্যন্ত কার্যকরী। গত লোকসভা ভোটে, বিজেপি ও তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের ফারাক ছিল প্রায় ৬১ লাখ। ইতিমধ্যেই ৩৫ লক্ষর বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। আলোচনার স্বার্থে ধরে নেওয়া যাক, রাজ্যের ৮৮ হাজার বুথে গড়পড়তা ৫০ টি করে ভোটারের সংখ্যা বাদ গেলেও সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৪৪ লক্ষ। কারণ প্রত্যেক বুথেই কিছু না কিছু নাম বাদ পড়ছেই। এই সংখ্যা যদি আরও বাড়ে বিজেপির কি পোয়াবারো?  নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এসআইআরের দিনক্ষণ বেড়ে যাওয়ায় বিজেপি সেই লক্ষ্যেই কি এগোচ্ছে, সন্দেহ তৃণমূলের একটি মহলের। বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী বি এল ও-দের কার্যত ইতিমধ্যেই হুশিয়ারি দিয়েছেন। বলেছেন বি এল ও -রা যেন মনে রাখেন বিহারে ৪২ জন বি এল ও গ্রেফতার হয়েছেন। বি এল ওদের কাজকর্ম নিয়ে বিজেপি বারবার প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে তৃণমূলও চাপ বাড়াচ্ছে যেন “সঠিক ও বৈধ ” ভোটার বাদ না যায়। বিএলও -দের প্রাণ ওষ্ঠাগত।

বিজেপি মনে করতেই পারে, ৬০ লক্ষ  নাম বাদ গেলে তৃণমূলকে তারা মাটি ধরাতে পারবে আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচনে। বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বর বক্তব্যে সেরকমই আভাস মিলেছে।

এখন একটি তথ্য আবার সামনে আসছে যে, বিহারে ভোটার তালিকার প্রথম খসড়ায় ৬৭ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এবং হিয়ারিং-এর মাধ্যমে সেই সংখ্যা প্রায় কুড়ি লক্ষ কমে ৪৭ লক্ষ তে নেমে আসে। এখন দেখার বঙ্গে কি হতে চলেছে।

তবে প্রাসঙ্গিকভাবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এস আই আর এর – মাধ্যমে বঙ্গে সর্বশেষ ভোটার তালিকা থেকে ভোটার সংখ্যা প্রভূত সংখ্যায় কমলে -আতঙ্কে কি থাকবে তৃণমূল? ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত রয়েছে খসড়া তালিকায় প্রচুর নাম বাদ যাওয়ার। এই নামের মধ্যে কি তৃণমূল বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  বা অভিষেকের বর্ণিত “বৈধ ভোটাররা” রয়েছেন? এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রাপ্ত নির্দেশ অনুযায়ী বাড়তি সাত দিনে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার কতটা সময় পাবে তৃণমূল-  সেক্ষেত্রে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন।।

About Post Author