Home » কলকাতায় মেসি : অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, বিশৃঙ্খলার কারণ ও ফলাফল

কলকাতায় মেসি : অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, বিশৃঙ্খলার কারণ ও ফলাফল

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১৩ নভেম্বর : শিল্পী ফুটবলার লিওনেল মেসি দ্বিতীয়বার এসেছিলেন সিটি অফ জয়- কলকাতায়। মেসির এবারের কলকাতা সফর এবং ফুটবল অনুরাগীদের মেসি-দর্শন বিষয়টি এমন একটি বিশৃঙ্খলা-ময় অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে যা এককথায় কলকাতার ইতিহাসে দুঃস্বপ্ন। ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট পদদলিত হয়ে অসংখ্য ফুটবল অনুরাগীর মৃত্যুর দুঃস্বপ্ন যেন ফিরে এল ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বরের  কলকাতায়। বাড়াবাড়ি এমন পর্যায়ে যে  কলকাতায় মেসি আনার মূল উদ্যোক্তা গ্রেফতার করা হয়েছে।  কেন এরকম হল?

বিশ্ব একটা-সময় কলকাতাকে চিনেছিল সিটি অফ জয় নামে।ডোমিনিক ল্যাপিয়েরের ১৯৮৫ সালের বিখ্যাত উপন্যাস ‘সিটি অফ জয়’-এর (La Cité de la joie) কলকাতায় দেখানো হয়েছে কলকাতার আনন্দময় ও কষ্টকর, দারিদ্র্যময় জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি। কলকাতায় ফুটবল নিয়ে আবেগ ও মাতামাতি রয়েছে। আগেও মেসি কলকাতায় এসেছিলেন। তবে এবার তিনি মাঠে নেমেছিলেন বল পায়ে। এবার তিনি এসেছিলেন ভক্তদের দর্শন দিতে। GOAT INDIA TOUR 2025 -এর আয়োজন করা মহা-আড়ম্বর সহকারে। কিন্তু গোট বা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভারত মিশন এদিন  ভয়ঙ্কর রূপ নেয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। কলকাতায় মেসি কাণ্ডে হয়েছে টা কী?

দর্শকরা এসেছিলেন মেসিকে দেখতে, অনেকে ভেবেছিলেন মেসিকে ছুঁয়ে দেখতে পারবেন। ছুঁয়ে দেখা দূর  সংগঠকদের মধ্যে অনেক ত্রুটি ছিল। নিরাপত্তার গলদ ছিল ভয়াবহ।  যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Salt Lake Stadium) আয়োজিত অনুষ্ঠানে দর্শকরা গ্যালারি থেকে মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি। অনেক ভিআইপি, রাজনীতিবিদ এবং নিরাপত্তা কর্মীরা মাঠের মধ্যে মেসিকে ঘিরে রাখায় সাধারণ দর্শকদের দেখার সুযোগ সেভাবে হয় নি। ৩৩৩৮ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে অনেকে এসেছিলেন, অনেকে আবার সেই টিকিট কেটেছিলেন চড়া দামে। তাঁরা বলছেন, কেউ দেখতে পেয়েছেন মেসির হাত, কেউ দেখেছেন মেসির পিঠ, কেউ দেখতে পেয়েছেন মেসির জামার অংশ। অনেকে দেখেছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা, বিভিন্ন ক্রীড়া-ব্যক্তিত্ব এবং অভিনেত্রীরা ঘিরে রয়েছেন মেসিকে। তাছাড়া মেসি ময়দানে নামবেন এরকম ভাবনা অনেকের থাকলেও তা কার্যত হওয়ার কথা ছিল না। মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে মেসি মাঠ ছেড়ে চলে যান। ছুঁয়ে দেখা দূরস্ত, মেসির ফুটবলে পা দেওয়া দূরে, মেসিকে অনেকে চোখের দেখাই দেখতে পাননি । ফলে, মেসি থাকার সময়,মেসি যাওয়ার পরেও  বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকে। মেসি হায়দ্রাবাদে উড়ে যান, তার সঙ্গে হায়দ্রাবাদ যাওয়ার আগেই গ্রেফতার হন শতদ্রু দত্ত। কী এমন হল আর কেনই বা হল?

কলকাতায় মেসি  ইভেন্টের আয়োজন ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। পুলিশ ছিল অপর্যাপ্ত। ব্যারিকেড ভেঙে দর্শকরা মাঠে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।ভক্তরা জলের বোতল এবং চেয়ার ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানান, যার ফলে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর হয়। বড় বিপদ ঘটে যেতে পারত। তদন্ত কমিটি গড়া হয়, শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার ও করা হয়। এডিজি জাভেদ শামিম জানান, মূল উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

কলকাতায় মেসি উৎসবের আয়োজক শতদ্রু দত্তের ওপরে যাবতীয় দায় এসে পড়ছে কারণ উদ্যোক্তা তিনি। টিকিটের দাম ফেরত দেওয়ার মুচলেকা দিয়েছেন শতদ্রু। কিভাবে টাকা ফেরত দেওয়া যায় সেই ভাবনা করছে প্রশাসন, এমনটাই জানানো হয়েছে। তথাপি প্রশাসন এর দায়  ঝেড়ে ফেলতে পারে না। শাসক দল এই বিশৃঙ্খলার উৎস খুঁজতে বিজেপিকে দায়ী করছে কিন্তু যথেষ্ট পুলিশ কী ছিল? কেন প্রশাসন বিশৃঙ্খলা হওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি? কেন এই উদ্যোগ সফল হওয়ার পক্ষে সম্ভাব্য বাধা নিয়ন্ত্রণের আগাম পরিকল্পনা করেনি? ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায় শতদ্রু দত্তদের থাকলেও প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। রাজনৈতিক চাপান-উতোর জারি।  প্রশ্ন উঠছে, অরূপ বিশ্বাস কোথায় মুখ লুকোবেন? মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।কংগ্রেস সিপিএম একসুরে বিশৃঙ্খলার জন্য মুখর হয়েছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।  রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।তিনি সরাসরি বলেছেন পুলিশের জন্য কালো দিনের সাক্ষী হতে হল কলকাতাকে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য ঘটনার জন্য ক্ষমা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন তদন্ত কমিটি গড়া হবে।।

 

About Post Author