Home » নাটকের যবনিকাপাত : ট্রাম্পের দাবি ভেনেজুয়েলার তেল চলে এসেছে আমেরিকায়

নাটকের যবনিকাপাত : ট্রাম্পের দাবি ভেনেজুয়েলার তেল চলে এসেছে আমেরিকায়

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ জানুয়ারি : ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রনায়ক নিকোলাস মাদুরোর অপহরণ পর্বের পর ৩০ মিলিয়ন ব্যারল তেল চলে এসেছে আমেরিকায়। আরও ৫০ মিলিয়ন ব্যারল তেল ভেনেজুয়েলা থেকে আসছে আমেরিকায়। দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অর্থাৎ ভেনেজুয়েলা ও সেই দেশের তেলের দখল নিয়ে জাঁকিয়ে বসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা যা গুণগতভাবে উচ্চমানের বলে দাবি করছেন ট্রাম্প। কিছুদিন আগেই ট্রাম্প একে নোংরা ও খারাপ তেল আখ্যা দিয়েছিলেন। হাতে না পাওয়া পর্যন্ত  আঙ্গুরফল ছিল টক, ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের পরে খনিজ তেল আঙ্গুর ফল এখন সুস্বাদু।

তেলের মহিমা অনন্ত। খনিজ তেল বিশ্বের অন্যতম চালিকাশক্তি।ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে, বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগ তেলের একভাগ মজুত  দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে। ভারী ও অপরিশোধিত  তেল নিয়েই যত জট, যত যুদ্ধ। এই তেলের অধিকার নেওয়ার জন্য লোলুপ দৃষ্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা তাকিয়ে ছিল যা গত কয়েকদিনের ঘটনাবলীতে স্পষ্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে একের পর এক বক্তব্যের অবস্থান পাল্টেছেন আগ্রাসন ও তেল প্রসঙ্গে। তবে নজর সরান নি ভেনেজুয়েলা থেকে। লক্ষ্য ছিল ভূ-সম্পদ, মূলত তেল। এবার তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার তেল আমেরিকায় আসছে এবং ওয়াশিংটন-ই ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করবে। ভেনেজুয়ালার তেলের অধিকার ভেনিজুয়েলার নিজের হাতে থাকছে না। যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ ও অধিকার আমেরিকার।

মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ পর্বের পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছিলেন যে দেশটি ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চ মানের অপরিশোধিত তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করবে। অথচ এই ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই আগে বলেছিলেন যে ভেনেজুয়েলার তেল “সম্ভবত বিশ্বের যে কোনও জায়গায় সবচেয়ে নোংরা, সবচেয়ে খারাপ তেল।”

বাস্তবে, ভেনেজুয়েলার “অতিরিক্ত-ভারী” অপরিশোধিত তেল পুরু, আলকাতরা জাতীয় পদার্থ যা সাধারণত  ভুপৃষ্ঠে আনার জন্য উত্তপ্ত করতে হয় এবং পাইপলাইনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার আগে অন্যান্য রাসায়নিকের সাথে মিশ্রিত করতে হয়। এজন্য পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এ কথা অনেক সময় পরিবেশবিদরা  বলেছেন, এই তেল পরিশোধনের জন্য আরো পরিকাঠামগত পরিবর্তন দরকার। ভেনেজুয়েলার অধিকার বা দখল পাওয়া পর্যন্ত এই তেলই ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে টক আঙুর ফলের মত, অধিকার পাওয়া মাত্রই এই আঙুর মিষ্টি হয়ে উঠেছে। আর এজন্য যাবতীয় ফ্রেমওয়ার্ক বা পরিকাঠামো প্রস্তুত করছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং পূর্বে কথিত খারাপ তেল এখন উচ্চমানের তেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এখন ভেনেজুয়েলার তেল সারা বিশ্বকে বিক্রি করবে আমেরিকা তা জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ভারতকেও তারা এই তেল বিক্রি করতে পারে বলে রয়েছে ইঙ্গিত যদিও সেই বক্তব্যে কূটনীতির ছোঁয়াও রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তাঁর দেশের একাধিক তেল সংস্থার সঙ্গে শুক্রবার একটি বৈঠক করেছেন। তিনি সেই বৈঠকে দাবি করেন যে শীঘ্রই এমন একটা চুক্তি করা সম্ভব হবে যেখানে আমেরিকার তেল সংস্থারা ভেনেজুয়েলাতে গিয়ে কাজ করতে পারবে। সেখানে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে। বৈঠকে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে আমেরিকার সংস্থারা ভেনেজুয়েলাতে ন্যূনতম ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করবে। তৈরি করা হবে পরিকাঠামো।তিনি এই সভাতে আরও একবার স্পষ্ট করে দেন যে ভেনেজুয়েলার তেলে ভেনেজুয়েলারই আর কোনও অধিকার নেই। তেল সংস্থারা সরাসরি আমেরিকার সঙ্গেই কথা বলে চুক্তি করবে, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনিই ঠিক করবেন কখন তেল সংস্থারা ভেনেজুয়েলা যাবে।ডোনাল্ড আরও জানান, গতকাল ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভেনেজুয়ালা থেকে এনেছে আমেরিকা। পাশাপাশি আরও ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ভেনেজুয়েলা থেকে নিয়ে এসে রিফাইন করে বিক্রি করা হবে বলেও জানান তিনি। আগামী সপ্তাহে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আরও কয়েকদফা বৈঠক তিনি করবেন তাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।তবে মাদুরো অপহরণকাণ্ড যে লক্ষ্যে সেই লক্ষ্য সম্পূর্ণ তাও সুস্পষ্ট ভাবে জানান দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। নাটকের যবনিকাপাত। একদিকে পড়ে রইল মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা কোকেন অপরাধের তত্ত্বকথা, আদতে তেলে ভরে উঠছে আমেরিকা।

About Post Author