Home » “গোপনীয়তা নেই”: ক্ষোভ সেলিমের বিরুদ্ধে? বিদ্রোহী প্রতীক উরের সিপিএমে ফেরার সম্ভাবনা কমছে

“গোপনীয়তা নেই”: ক্ষোভ সেলিমের বিরুদ্ধে? বিদ্রোহী প্রতীক উরের সিপিএমে ফেরার সম্ভাবনা কমছে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি : গত তিনদিন ধরেই যে জলঘোলা হয়ে চলেছিল তাতে কার্যত সীলমোহর দিয়ে দিলেন সিপিএমের বিদ্রোহী এবং দলত্যাগে উদ্যত তরুণ তুর্কি নেতা প্রতীক উর রহমান।  দলে থাকা বা না থাকা নিয়ে নিজের অবস্থান সংবাদ মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন তিনি। দলে থাকার ক্ষেত্রে বা আলোচনা করার ক্ষেত্রে শর্ত বেঁধে দিয়েছেন সিপিএম দলে বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় নেতা। তৃণমূলে তিনি যেতে পারেন কিনা সেই প্রসঙ্গেও ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেছেন প্রতীকউর।

প্রসঙ্গত,প্রতীকউর সম্প্রতি সিপিএম রাজ্য নেতৃত্বের কাছে রাজ্য কমিটি থেকে তাঁর পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন ও মেনে নিয়েছেন যে,সংবাদ মাধ্যমে দলে মানিয়ে নিতে পারছেন না  বক্তব্য সহ তাঁর যে চিঠি ফাঁস হতে দেখা গিয়েছিল সেই চিঠি তাঁরই লেখা। দলে ফেরার সম্ভাবনা যে সুদূরপরাহত তার পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়ে প্রতীকউর জানিয়েছেন, এনাফ অর্থাৎ যথেষ্ট হয়েছে। দলে থেকে তাঁকে যা সহ্য করতে হয়েছে তা আর মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। একাধিক সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দলে গোপনীয়তা বলে কিছুই আর নেই। তিনি নাম না করেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর ক্ষোভ মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে।

তাঁকে দলে থাকার বা ফেরার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে দলে অনেক কিছু প্রতিকূল পরিস্থিতি সইতে হচ্ছে। তাঁর বিরোধ সার্বিক মতাদর্শগত নয় জানিয়ে তিনি বলেছেন ব্যক্তিগত স্তরেও তাকে অনেক প্রতিকূলতা সহ্য করতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দলে বিশ্বস্ততা বা গোপনীয়তা বলে কিছুই নেই, নইলে সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর চিঠি পৌঁছে গেল কী করে সেই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন। তিনি এই প্রশ্নও তুলেছেন, বিমান বসুর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন হওয়ার কথাই বা ফাঁস হয় কী করে!

  দলে থাকা বা আলোচনার ক্ষেত্রে প্রতীকউরের শর্ত, যারা তাঁর চিঠি ফাঁস করেছেন তাঁদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এরকম শর্ত সাপেক্ষেই তিনি সিপিএমের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন এবং দলীয় কর্মী ও ঘনিষ্ঠ কমরেডদের আকাঙ্খার কথা মাথায় আছে বলেই এখনও তিনি আলোচনায় আগ্রহী। বিমান বসুর ক্ষেত্রে পূর্ণ সম্মান দেখালেও তিনি জানিয়েছেন যাকে তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তিনি প্রতীকউরের সঙ্গে আলোচনার সৌজন্য দেখান নি, উত্তর ও মেলে নি অর্থাৎ এক্ষেত্রে প্রতীকউরের তির সেলিমের দিকে বলাই বাহুল্য। ক্ষোভ মহম্মদ সেলিমের প্রতি তা অনুমান করা হচ্ছিল এবং প্রতীক উর অনুমানকে অনেকটাই বাস্তবমুখী হওয়ার ইঙ্গিত রাখলেন।

প্রতীকউর এও জানাতে ভোলেন নি যে দল কী ব্যবস্থা নেবে তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। ফলে বরফ গলার সম্ভাবনা যে কম তা প্রতীকউরের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার।

অতঃকিম?

তৃণমূলের দিকে কী পা বাড়াবেন প্রতীকউর? তিনি তৃণমূলে যাওয়ার প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি বাঁকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, যার ওপারে কী আছে তা এখনও তিনি জানেন না। তবে তিনি সামনে এগোবেন তাও তিনি জানিয়েছেন এবং সময় হলে ( বাঁক পার হয়ে ) তিনি তাঁর গন্তব্য জানিয়ে দেবেন। এককথায়, তৃণমূলের যাওয়ার সম্ভাবনা তিনি মেনে যেমন নেন নি, তেমনই উড়িয়ে দেন নি, অস্বীকারও করেননি।

 সত্যিই কি তৃণমূলে যাবেন প্রতীকউর?

 দলের একাধিক মহল থেকে এমন আভাস আসছে যেখানে ধরে নেওয়াই হয়েছে প্রতীকউর বিপক্ষ শিবিরে পা বাড়িয়ে আছেন। মীনাক্ষী সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন সেখানেও প্রতীকউর সম্পর্কে আশাব্যঞ্জক  কিছুই বলা হয় নি। প্রতীকউর ঘনিষ্ঠ সৃজন ভট্টাচার্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন তবে প্রতীকউর নিজে সিপিএম ও সিপিএমের সংগ্রামের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও ভালোবাসার কথা জানাতে ভোলেন নি। কিন্তু তিনি কোনঠাসা হয়ে পড়ছিলেন। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ সিপিএমের বিপক্ষে ও প্রতীকউর রহমানের স্বপক্ষে মুখ খুলেছেন। এমন গুঞ্জন রয়েছে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার একটি বিধানসভা আসনে  প্রতীক উরের তৃণমূলের টিকিটে লড়ার সম্ভাবনা পাকা।  তৃণমূলের অন্দরমহলের খবর, ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী হওয়ার সময় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে বরাবরই ছিলেন প্রতীকউর। তাছাড়া তৃণমূলে শিক্ষিত সংখ্যালঘু নেতার অভাব থাকায় প্রতীকউরের বিষয়ে প্রবল আগ্রহী তৃণমূল বলেই সূত্রের খবর। এখন প্রতীক উর বাঁক পেরিয়ে কোন গন্তব্যে যান সেটাই দেখার।।

 

About Post Author