Home » যুবসাথীর বেকার লাইন : উপচে পড়ছে ভিড়, ওরা কারা ?

যুবসাথীর বেকার লাইন : উপচে পড়ছে ভিড়, ওরা কারা ?

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা , ১৬ ফেব্রুয়ারি : উপচে পড়ছে ভিড়। হাতে সময় আর নেই। তরুণ -তরুণী, যুবক- যুবতী এমনকি তাদের বৃদ্ধ বাবা মা লাইনে । বাংলার যুব সাথী প্রকল্প প্রকৃত অর্থেই বিরাট প্রভাব ফেলেছে বাংলার গ্রামে শহরে, নগরে ও প্রান্তরে। তথাপি প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। এই চিত্র কী বাংলার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার করুণ চিত্র তুলে ধরছে না? ফুটিয়ে কি তুলছে না বেকারদের অসহায় চিত্র এবং শিক্ষিত যুবক যুবতীর বেকারত্বের জ্বালা -যন্ত্রণা? রাজ্যের বেকার সংখ্যা ঠিক কত? চিত্র কী বলছে?সমীক্ষা কী বলছে?

মাসে ১,৫০০ টাকা (বছরে ১৮,০০০) পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষিত বেকাররা এই প্রকল্পের ওপর ভরসা করছেন।।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মত এই প্রকল্পটিকে একটি বড় জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।  পশ্চিমবঙ্গের ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পে বিপুল ভিড় মূলত রাজ্যে বেকারত্বের তীব্রতা এবং কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার মরিয়া চাহিদার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উল্লেখ্য,পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট বা ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ অনুযায়ী, নতুন ‘বাংলার যুব-সাথি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৭.৮ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীকে মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই বিশেষ শিবিরের (Swanirbhar Bangla centres) মাধ্যমে সরাসরি ফর্ম বিতরণ ও জমা নেওয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় ল্ক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং অন্যান্য প্রকল্পের কাজও একই সঙ্গে হওয়ায় ভিড় আরও বেড়েছে।

 এই ভিড় কেন?

এই ভিড়ের  কারণ মূলত দ্বিবিধ। ভিড়ের কারণ প্রাথমিকভাবে সংক্ষিপ্ত সময়সীমা।রাজ্য সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে আবেদন করার জন্য। এই অল্প সময়ের মধ্যে নাম নথিভুক্ত করার তাড়াহুড়ো থেকেই ভিড় তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি ১৫ অগস্ট থেকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটি এগিয়ে এনে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর করার ঘোষণা করেছেন। ১ এপ্রিল থেকেই উপভোক্তারা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন।  এই প্রকল্পের শিবির গুলিতে উপচে পড়া ভিড়  রাজ্যের বেকারত্বের করুণ অবস্থা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

প্রকল্পের মঙ্গলময় দিক!

রাজ্য সরকার বলছে,  যুব সাথী প্রকল্পে  আর্থিক সহায়তা যুবক যুবতীদের শিক্ষা ও চাকরিতে উচ্চ আকাঙ্ক্ষাও  তুলে ধরছে। যারা পড়াশুনা করে আরো এগিয়ে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য অক্সিজেন যোগাবে এই প্রকল্প ।শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা (বছরে ১৮,০০০ টাকা) একটি বড় সহায়তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেকেই এই টাকা দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ বা যাতায়াতের খরচ মেটানোর আশা করছেন।

যারা বিভিন্ন কারণে চাকরি পাননি অথচ কষ্টের পরিবারকে ভরণ পোষণ করতে হয় তাদের কিছুটা হলেও রক্ষাকবচ এই প্রকল্প।

তথাপি অনিবার্য প্রশ্ন

মাসিক ১,৫০০ টাকা ভাতার (সর্বোচ্চ ৫ বছর) আশায় ২১-৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা জেলাভিত্তিক শিবিরে ভিড় করছেন, যা কর্মসংস্থানের অভাবের একটি বড় প্রতিফলন। দীর্ঘ বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের অভাবের ফলে ৬০ বছর বয়সী বাবাও যুবক ছেলের জন্য ফর্ম তুলতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, যা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা নির্দেশ করে।মূলত,যুবশ্রী বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা না পাওয়া বেকাররা এই প্রকল্পের টার্গেট, যা দেখায় যে বড় অংশের তরুণ প্রজন্ম এখনও ভাতার ওপর নির্ভরশীল। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত বেকারেরা লাইনে ভিড় জমাচ্ছেন অর্থাৎ ১৯ বছরের একটা সময়কাল বা স্প্যান। আর এটাই বড় প্রশ্ন। রাজ্যে কি বিগত ১৯ বছরে মানুষের চাকরি বাকরি বিশেষ হয় নি? নাকি পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা এই দেড় হাজার টাকা?  জলপাইগুড়ির তৃণমূল যুব সভাপতি বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গুটকা তথা নেশার সামগ্রী কেনার খরচ দিয়েছেন যুব সম্প্রদায়কে । তাহলে এই দেড় হাজার টাকা কি বেশি কিছু যুবক যুবতীর হাতখরচার পয়সা? একথা বাস্তব যে যারা বেকার লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাদের অনেকেরই চাকরি এখনো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কারণ অনেকেরই বয়স ২১-২৫ এর মধ্যে। তবুও প্রশ্ন রাজ্যে এত বেকার কেন?

তথ্য কি বলছে?

কেন্দ্রীয় সরকারের পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে (PLFS) (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫) অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার ৩.৬%, যা জাতীয় গড় ৪.৮%-এর চেয়ে অনেক কম। একই সমীক্ষায় যুবকদের (১৫-২৯ বছর) মধ্যে বেকারত্বের হার ২০২৩-২৪ সালে কমে ৯ শতাংশ হয়েছে।
সমীক্ষা: PLFS (Ministry of Statistics and Programme Implementation – MoSPI)।
সর্বশেষ ডেটা (২০২৫): শহুরে বেকারত্বের হার ৭.১% ( youth UR: ১৮.৮%)।
ঐতিহাসিক প্রবণতা: ২০২১-২২ এ যুবকদের বেকারত্ব ১১.৩% থেকে কমে ২০২৩-২৪ এ ৯% হয়েছে।
MSME তথ্য: ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (MSME) ১.৩৬ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

 

বেকার লাইনে এরা কারা?

সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। বর্তমানে রাজ্যে এই হার প্রায় ৩. ৬ শতাংশ, সারা দেশে যেখানে এই সংখ্যা ৪.৮%।  তথ্যমতে এই সংখ্যা  ২৭.৫  লক্ষ।বিজেপি অবশ্য দাবী করেছে এই সংখ্যা ২ কোটি ১৫ লাখ।  যদিও এটি একটি রাজনৈতিক সমীক্ষা তবুও প্রশ্ন কাঁহাসে আতে হ্যায় ইয়ে লোগ?

About Post Author