পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১১ জানুয়ারি : ভেনেজুয়েলা অতীত। এখন নজর অন্যদেশে। ভেনেজুয়েলা কব্জা করে সেখানের তেল বিক্রি করা এখন আমেরিকার সময়ের অপেক্ষা। এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাই গ্রিনল্যান্ড। লিথিয়াম, কোবাল্ট, সোনা, রুবি, হীরা, নিকেল, তামা এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ পদার্থে বোঝাই গ্রিনল্যান্ড। রয়েছে ব্যাটারি ও মোবাইল, টারবাইন, বৈদ্যুতিক মোটর তৈরির উপাদান। গড়িমসি না করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নীতির প্রসার ঘটাতে এবার আমেরিকা দখল করতে চায় খনিজ সম্পদের খাজানা ও পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড (Greenland) যার আয়তন প্রায় ২১,৬৬,০৮৬ বর্গ কিলোমিটার। ট্রাম্পের যুক্তি, নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থেই আমেরিকা দখল করবে গ্রিনল্যান্ড। পছন্দ হোক না হোক, সহজ বা কঠিন পথে গ্রিনল্যান্ড দখল করবে আমেরিকা, জানিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক। এখানের ভৌগলিক আয়তনের ৮০ শতাংশ বরফে ঢাকা।ভুসম্পদে পরিপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার নজরে ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম দফায় ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনতে চেয়েছিলেন। সেসময় ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়েছিল গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। সুতরাং এবার সরাসরি আগ্রাসন নীতিতে ডেনমার্ককে নিজেদের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। এবিষয়ে নিজেদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে হোয়াইট হাউসে তেল ও গ্যাস খাতের নির্বাহীদের সাথে এক বৈঠকে তিনি সরাসরি ঘোষণা করেন যে, গ্রিনল্যান্ড “পছন্দ করুক বা না করুক”, আমেরিকা সেখানে পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
বিরলতম খনিজ ভরপুর গ্রিনল্যান্ড দখল করতে নতুন যুক্তি খাড়া করেছে আমেরিকা। তারা জানিয়েছে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই দরকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে রুশ ও চীনা জাহাজে ছেয়ে গেছে । তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী লিজ বা চুক্তি নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়; জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমেরিকার পূর্ণ “মালিকানা” প্রয়োজন।
গ্রিনল্যান্ড দখল করতে “সহজ পথ বা কঠিন পথ” -যেকোনো নীতি নিতে আগ্রহী আমেরিকা। সব গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ককে সতর্ক করে বলেছেন যে, আমেরিকা এই ভূখণ্ডটি “সহজ উপায়ে” (চুক্তির মাধ্যমে) পেতে চায়, তবে তা সম্ভব না হলে তারা “কঠিন পথ” (সামরিক পদক্ষেপ) অবলম্বন করতেও দ্বিধা করবে না।
রাশিয়া ও চীনের প্রভাব রুখতে আমেরিকার এই উদ্যোগ এমনটাই উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আমেরিকা পদক্ষেপ না নিলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে চাই না”।
আমেরিকার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের নেতারা এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সেখানকার জনগণ। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন যে, কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ন্যাটো (NATO) জোটের অস্তিত্বকে বিপন্ন করবে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ আবার জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক অখণ্ডতার পবিত্রতায় বিশ্বাস করে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের জন্য পরিচালিত সফল মার্কিন অভিযানের পরই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে এই বিতর্কিত ও আগ্রাসী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। থেমে থাকতে রাজি নন তিনি। দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি হয়ে ফিরে বিশ্বজয় করার অভিপ্রায় যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য এবং পদক্ষেপে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্বাস এক মেরুতে, আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী পরাক্রম অন্যমেরুতে।।
More Stories
ভারত না বাংলাদেশ – কোন দেশ বেশি নিরাপদ? বিশ্বসমীক্ষা কী বলছে?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়ায় ভারতের ক্রেতা-উপভোক্তাদের কী কী সুবিধা হল? দাম কমবে কোন কোন জিনিসের?
লেপার্ড মারা পড়ল আক্রান্ত মানুষদের দলবদ্ধ আক্রমণে