সময় কলকাতা, ১০ জানুয়ারি : আমেরিকা ঘোষণা করে দিয়েছে যে, ভেনেজুয়েলার তেলে অধিকার নেই ভেনেজুয়েলার। পাশাপাশি এও ঘোষণা করেছে যে, পছন্দ হোক বা না হোক সহজ বা কঠিন পথে তারা গ্রিনল্যান্ডের দখল নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করে দিয়েছেন। আমেরিকার এরকম সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসংঘ (ইউনাইটেড নেশনস ) এনিয়ে কী ভাবছে তা রাষ্ট্রসংঘ পরিষ্কার করে দিয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘ বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ডেনমার্ক রাজ্যের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের উপর তার দেশের কর্তৃত্ব প্রসারিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে, হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে এখানে তারা সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে, ট্রান্সআটলান্টিক জোটের ভবিষ্যত সম্পর্কে ডেনমার্ক এবং ইউরোপে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানুয়ারি মাসে ৬ তারিখে সাংবাদিক সম্মেলনে (প্রেস ব্রিফিং) করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
“আমরা সদস্য রাষ্ট্রগুলির আঞ্চলিক অখণ্ডতার পবিত্রতায় বিশ্বাস করি, তা সোমালিয়া হোক, ডেনমার্ক হোক, গ্রিনল্যান্ড প্রদেশ সহ, ইউক্রেন হোক বা অন্য কোন দেশ, এবং এটি আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে,” বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।
রাষ্ট্রসংঘ ১৯৪৫ সালে গঠন হওয়ার পরে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের চাপে ‘অ-স্ব-শাসিত অঞ্চল’ শ্রেণীতে রাখা হয়েছিল। ১৯৫৪ সালে রাষ্ট্রসংঘে জমা দেওয়া একটি বিবৃতিতে, ডেনমার্ক ইঙ্গিত দেয় যে গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা স্বাধীনভাবে দেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে সম্মত হয়েছে এবং তাই তারা আর উপনিবেশ হিসাবে বিবেচনার বিষয় নয়।
ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের হয়ে বৈদেশিক নীতির দায়িত্বে থাকে। রাষ্ট্রসঙ্ঘে , এটি আদিবাসী ইস্যুতে জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
১৯৭৯ সাল থেকে, গ্রিনল্যান্ডার-রা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে, একটি আইনও রয়েছে। এই আইনে, যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তা তাদের ডেনমার্ক রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার দেবে।জানুয়ারী ২০২৫- এ, ডেনিশ এবং গ্রিনল্যান্ডিক মিডিয়ার দ্বারা প্রকাশিত একটি সমীক্ষা প্রকাশ পায়। সমীক্ষার ফলে দেখা যায় যে, ৮৫% গ্রীনল্যান্ডাররা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যোগদানের বিরোধিতা করেছিল, মাত্র ৬% পক্ষে এবং ৯% সিদ্ধান্ত দানে বিরত থাকে।
বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকায় অঙ্গীভূত হতে চায় না। প্রশ্ন, গ্রিনল্যান্ডের আপত্তি শুনছে কে? ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত শুনছেন না। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রসংঘ অখন্ডতার পবিত্র বাণী শোনাচ্ছে।।


More Stories
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক : মমতা কি রক্ষাকবচ পেলেন?
লেনিনের মৃত্যু : বিতর্ক এবং বাস্তব