Home » বারাসাত বইমেলা : লোক বাড়ছে, ছাপাবইয়ের পাঠক কমছে?

বারাসাত বইমেলা : লোক বাড়ছে, ছাপাবইয়ের পাঠক কমছে?

Oplus_131072

সময় কলকাতা, ১৭ জানুয়ারি :ছ দিন ব্যাপী পঞ্চম বারাসাত বইমেলা শেষ হল সাড়ম্বরে। সংস্কৃতি ও গানের আবহে শেষ হল বইমেলা। প্রশ্ন একটা, বই কতটা কিনছে আর পড়ছে মানুষ?

বারাসাতে আগেও বহুবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা বইমেলা হয়েছে, তবে বারাসাত পুরসভার উদ্যোগে ২০২২ সাল থেকে নতুন কলেবরে শুরু হয় বারাসাত বইমেলা। বারাসাত পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে শুরু হওয়া বারাসাত বইমেলা প্রথম বছরেই সাড়া ফেলে। প্রথম বছর বারাসাত বইমেলায় বই বিক্রির হার ভালো ছিল,  পরবর্তী বছরগুলিতেও বইমেলা চলেছে উত্তর ২৪ পরগনার সদর শহরে। তবুও পরের বছরগুলিতে বারাসাত বইমেলায় জনসমাগম ঘটলেও বই বিক্রির হার বাড়েনি এই ক্ষোভ বারবার উঠেছে বই বিক্রেতাদের তরফে । এবছর পুরপ্রধান সুনীল মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বারাসাত পুরসভা  বারাসাত বইমেলাকে আলাদা গুরুত্ব দেয় বারাসাত পুরসভা। বারাসাত বইমেলার উদ্বোধন করেন সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। নামকরা গ্রন্থ প্রকাশনী প্রায় সবাই হাজির থেকেছে আর মানুষকে বই মেলা মুখী করতে প্রতিদিন চলেছে গান সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  পঞ্চম বইমেলার শেষ লগ্নে খ্যাতনামা গায়িকা লোপামুদ্রা মিত্র বেশ কিছু গান উপহার দিয়েছেন। বইমেলা সমাপ্তি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে গানসংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে।গান পরিবেশনের মাঝেই বই পড়তে বললেন লেখিকা। কার্যত গায়িকার চোখ হয়তো এড়ায় নি যে বইয়ের স্টল ছিল জনশূন্য।  বইমেলায় বই পড়ার লোকের অভাব চোখে পড়ল বারবার। পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশকরা হাহুতাশ করেছেন। বাংলার সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি পুস্তক প্রকাশনা সংস্থা আনন্দ বা দেজ-এর মত স্টলে পাঠক ছিল হাতে গোনা। বাংলার পুস্তকের ইতিহ্যবাহী সংস্থা দেব সাহিত্যে কুটিরের স্টলে শোনা গেল বই বিক্রি না হওয়ার যন্ত্রণার কথা। বিক্রেতারা বললেন, দিনে হাজার দশেক টাকার বই বিক্রি হচ্ছে না। অনেক বিক্রেতা বাধ্য হয়ে বেশি ছাড় দিয়েছেন।বইমেলায় সাধারণ ভাবে বইয়ে দশ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়। অধিকাংশ বিক্রেতাই বেশি ছাড় দিয়েছেন পাঠকদের টানতে। তবুও তাতেও সাড়া মেলে নি সেভাবে ‘ভবিষ্যত ‘স্টলে মৌসুমী প্রকাশনীর বই-এ ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়েও বই আশানুরূপ হারে বই বিক্রি করা যায় নি জানালেন বিক্রেতা ও প্রকাশক প্রীতি দত্ত।

সমস্যা কি শুধু বারাসাত বই মেলার ক্ষেত্রেই নাকি সাধারণভাবেই বইপড়া কমছে? এবিষয়ে সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন,ছাপার বই পড়ার অভ্যেস কমছে তবে প্রযুক্তির যুগে মোবাইল বা কিন্ডেলের মাধ্যমে বই পড়ছে মানুষ। ছাপার অক্ষরে বই পড়ার সুফলের কথা তুলে তিনি নতুন প্রজন্মকে বই কিন্তু পড়তে অনুরোধ জানিয়েছেন। বারাসাত বইমেলায় হাজির প্রকাশকরা বলছেন, জেলা ও প্রান্তিক বইমেলায় আগের মতো আর বিক্রি হয় না । সুস্পষ্ট যে, সমস্যা শুধুমাত্র বারাসাত বইমেলার নয়। বাস্তবে, ছাপা বইয়ের স্পর্শ ও অনুভূতি অন্য মাত্রার। ছাপা বইয়ের গভীরতা, মনোযোগ এবং মানসিক স্বস্তি ডিজিটাল বইয়ের চেয়ে পাঠককে বিষয়বস্তুর গভীরে দ্রুত যেতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় প্রমাণিত। অথচ ছাপার অক্ষরে বই কেনার পাঠক কমছে সর্বত্র। উত্তরণ ঘটবে কিনা তার উত্তর সময় দেবে।।

About Post Author