Home » ভূত আছে, ভূত নেই! দিন-দুপুরে স্কুলে ভূতের ভয়

ভূত আছে, ভূত নেই! দিন-দুপুরে স্কুলে ভূতের ভয়

Oplus_131072

সানি রায় ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১০ জুন : ভূতের ভয় নতুন নয়। এবার দিনদুপুরে স্কুলে ভূতের ভয়   ভয়ে অসুস্থ ছয় ছাত্রী। হাজির বিজ্ঞান মঞ্চ। সত্যি কি ভূত আছে?  কী খুঁজে পেল বিজ্ঞান মঞ্চ?

স্কুলে মৃতা সহপাঠিনী শুধুই ডাকে স্কুল পড়ুয়া কণিকাকে। শয়নে-স্বপ্ননে-জাগরণে সারাক্ষন বান্ধবীকে দেখতে পায় সে। এবার সে স্কুলে বান্ধবীকে দেখতে পেয়ে আতঙ্কে গড়িয়ে পড়ল বেঞ্চ থেকে। তার হাসি -কান্না মেশা আতঙ্কের দেখাদেখি আরও পাঁচজন। প্রত্যেকের মধ্যেই ভূতের ভয় সংক্রমিত। সত্যি কী মৃতা বান্ধবী কে দেখতে পেয়েছিল তারা? উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়ির স্কুলে দিনদুপুরে ভূতের ভয়  আর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও সচেতনতার বার্তা নিয়ে স্কুলে ভূতের আতঙ্ক কাটাতে বিদ্যালয় পরিদর্শনে বিজ্ঞান মঞ্চ।

ভূত-প্রেত বলে কিছু নেই – ছাত্র- ছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবক অভিভাবিকাদের সচেতন করতে এসে ভূত ভীতির কারণ খুঁজে পেল বিজ্ঞান মঞ্চ।সোমবার ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই সচেতনতা শিবির করা হয়। উল্লেখ্য গত শুক্রবার গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে পাঁচজনকে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা জানান প্যানিক অ্যাটাকের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন এক পড়ুয়া অভিযোগ করে বলে ক্লাসরুমের বাইরে জানালার পাশে থাকা একটি বাঁশঝাড়ে কিছু একটা দেখার পরেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে সে। এরপর স্কুলের বেঞ্চ থেকে নিচে পড়ে যায় সে।সেই স্কুল পড়ুয়ার হাসি আর কান্নায় ক্লাসরুম হয়ে উঠে অস্থির অবস্থায়। তাকে দেখে তার সহপাঠিরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যায় ঠিকই। কিন্তু সেই ঘটনা এক লহমায়  ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

সোমবার ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবক অভিভাবিকাদের সঙ্গেও কথা বলেন বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা। গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় রায় বলেন,” গত ৫ই জুন বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে পাঁচজনকে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা জানান তাদের প্যানিক অ্যাটাক করেছে ।”

ঠিক কী দেখেছিল ছাত্রীরা? বিজ্ঞান মঞ্চর ব্যাখ্যা ঠিক কী?  বিজ্ঞান মঞ্চর পরিদর্শকরা জানিয়েছেন, ভূত লুকিয়ে ছিল কণিকার মনের মধ্যে। তার এক সহপাঠী নিয়ে বান্ধবী কিছুদিন আগেই মারা গিয়েছে যার সঙ্গে অভিন্ন হৃদয় ছিল সে। বান্ধবীর মৃত্যুর পর থেকেই মানসিক ধাক্কার পাওয়ার পাশাপাশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল সে। বান্ধবী ইহলোকের মায়া কাটাতে পারেনি এমনটাই মনে করত সে। তাই সে সারাক্ষন তাকে ডাক দিয়ে যায়। স্কুলে ট্রমার শিকার হয়ে সে এমন অঙ্গভঙ্গি করে যা অন্য বান্ধবীদেরও গ্রাস করে আর তাই তারা আচমকা ভূত দেখার পরিবেশ তৈরি করে। বিজ্ঞান মঞ্চ মনে করছে, দফায় দফায় কাউন্সিলিং করে কণিকার মনের ভূতকে সরাতে হবে। ভূত বলে যে কিছুই নেই, বার্তা বিজ্ঞান মঞ্চের।।

দিনদুপুরে স্কুলে ভূতের ভয়

About Post Author