Home » “সম্মানহানি” বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের! মহুয়ার পাশে কি অধীর?

“সম্মানহানি” বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের! মহুয়ার পাশে কি অধীর?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ জুন : কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর কথায় সম্মানহানি ঘটেছে তাঁদের এমনটাই, মনে করছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের মতো বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। তাঁরা মনে করছেন, মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদরা তাঁদের বিরুদ্ধে সম্মানহানিকর কথাবার্তা বলে চলেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, তাঁরা আইনের রাস্তায় হাঁটবেন। কী বলেছেন মহুয়া মৈত্র?

প্রসঙ্গত ২০২৪ সালে তৃণমূলের টিকিটে লোকসভা ভোটে জয়ী কুড়ি জন তৃণমূল সাংসদ এন সি পি আই নামক একটি দলের যোগদান করেছেন এবং তাঁরা স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। তারা বলছেন তৃণমূলের হয়ে কাজ করা সম্ভব নয় সেজন্য তাঁরা বিজেপিতে যোগ না দিয়ে এনডিএ শিবিরে থেকেই কাজ করতে চান। আর এখানেই আপত্তি কালীঘাট থেকে পরিচালিত তৃণমূলের অন্যতম মুখ মহুয়া মৈত্র – কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের। তাঁরা সরাসরি সাংবিধানিক ধারা উল্লেখ করে বলছেন, এই কুড়ি বিদ্রোহী সেক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইনের ধারায় পড়ছেন। আদি তৃণমূল থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সংসদরা বিদ্রোহী হোন বা তৃণমূলকে পছন্দ না হোক তাঁরা সরাসরি নিজস্ব অবস্থান নিতেই পারেন কিন্তু রাজ্যসভার মডেল ফলো করে তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করুন সুখেন্দুশেখর রায়দের মতো। মহুয়া মৈত্র একধাপ এগিয়ে বলেছেন, সাংবিধানিক দিকের পাশাপাশি  নৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও এই বিদ্রোহী সাংসদরা অস্বচ্ছ। তাঁরা হয় টাকা নিচ্ছেন অথবা ইডি সিবিআইয়ের ভয়ে শিবির বদল  করছেন কিন্তু মুখে সেকথা প্রকাশ করার সাহস তাদের নেই। মহুয়া মৈত্র কর্মীদের উদ্দেশ্য করে এও বলেছেন, “গদ্দাররা দল ছেড়ে চলে যায় যেতে দিন,”- এরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কর্মীদের জোরে তৃণমূলের ফান্ডের টাকায় প্রচার করে এখন তৃণমূল বিরোধী কথাবার্তা বলছেন।  প্রসঙ্গত,মহুয়া মৈত্র আগেও বলেছিলেন বিদ্রোহী সাংসদদের শিবির ত্যাগের জন্য চল্লিশ কোটি টাকার ডিল হয়েছে। কীর্তি আজাদ প্রায় একই কথা বলেছিলেন। তিনি টাকার অংকের কথা না বললেও বড় টাকার প্রলোভন দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। অতঃপর, কাকলি ঘোষ দস্তিদার,  শতাব্দী রায়রা মনে করছেন মহুয়া মৈত্ররা তাঁদের বিরুদ্ধে যা বলছেন তা মিথ্যা এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন “আমাদের সম্মানহানি ঘটছে।” কাকলি ঘোষ দস্তিদার আইনের রাস্তা নেবেন বলেও জানিয়েছেন। মহুয়া মৈত্র রবিবার বলেছেন, যে কেউ তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনের রাস্তায় যেতেই পারেন। তিনি এও বলেছেন তার কাছে তথ্য প্রমাণ রয়েছে। তিনি এও বলেছেন, নিজেদের পাপের ভয়ে সাংসদরা শিবির পাল্টাচ্ছেন। আর এখানেই ভাবে বক্তব্যে  মিল মহুয়া মৈত্র এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরীর।

কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে মুখ খুলেছেন  টাকা বা ডিলের প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বক্তব্য না রাখলেও, মহুয়া মৈত্রর বক্তব্যের আংশিক সমর্থন অধীরের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রাখা বিবৃতিতে। অধীর চৌধুরী বিদ্রোহী  তৃণমূল দলকে কোভিড তৃণমূল আখ্যা দিয়ে   বলেছেন, বিজেপি এদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে চায়। ” চোর -চোট্টা ” তৃণমূলদের বিজেপি এবং ইডি -সিবিআই থেকে বাঁচার সেফটি ভাল্ভ হল বিদ্রোহী তৃণমূল।।

About Post Author