সানি রায়, ২৯ জুলাই :মঙ্গলবার রাত থেকেই চাঞ্চল্য ধুপগুড়িতে।মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরতেই ধূপগুড়িতে সিন্ডিকেট রাজ! ডাম্পার হাইজ্যাক ও চালক অপহরণের অভিযোগ তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা পুলিশের জালে। তবে এখনও পর্যন্ত গাড়ি চালকের কোন হদিস মেলেনি।
মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফর শেষ করে ফিরতেই ফের মাথা চাড়া দিল সিন্ডিকেট রাজ। এবার খোদ পুলিশি নাকা চেকিংয়ের নাকের ডগায় দিনেদুপুরে ডাম্পার হাইজ্যাক ও চালককে অপহরণের অভিযোগ উঠল ধূপগুড়িতে। ‘সিন্ডিকেট’-এর নামে দেড় লক্ষ টাকা তোলা না দেওয়ায় এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধেই ধূপগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ডাম্পারের মালিক। শিলিগুড়ির বিন্নাগুড়ির বাসিন্দা সলিম হোসেনের একটি ১৬ চাকার ডাম্পার সমস্ত বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটা নাগাদ ডাম্পারটি বীরপাড়া থেকে আরবিএম বোঝাই করে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছিল। ধূপগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন তথা নাগা চেকিং পয়েন্টে ঢিল ছাড়া দূরত্ব সুকটা হাটি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাতেই বেশ কয়েকজন যুবক গাড়িটি আটকে দেয়।গাড়িতে অবৈধ আরবিএম রয়েছে এই অজুহাত তুলে চালকের ওপর চড়াও হয় তারা। গাড়ি ছাড়ার বদলে চালকের কাছে সরাসরি দেড় লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে চালককে প্রাণে মারার এবং গোটা ডাম্পারটি গায়েব করে দেওয়ার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। এরপর দুষ্কৃতীরা চালককে দিয়ে ডাম্পার মালিক সলিম হোসেনকে ফোন করায়। ফোনেও সলিম কে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, দেড় লক্ষ টাকা না দিলে গাড়ি ও চালক কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। বেলা সাড়ে এগারোটার পর থেকে ওই মোবাইল নম্বরটি সুইচড অফ হয়ে যায়। চালকের কোনো খোঁজ মিলছে না। ডাম্পার মালিকের স্পষ্ট অভিযোগ, টাকা না পেয়ে চালককে অপহরণ ও গাড়িটি হাইজ্যাক করেছে দুষ্কৃতীরা।
গোটা ঘটনায় ধূপগুড়ি পুরসভার ঘোষপাড়া সংলগ্ন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এলাকায় দাপুটে তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত টুকাই ঘোষের বিরুদ্ধে ধূপগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ডাম্পার মালিক। নতুন রাজ্য সরকার যেখানে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলছে, সেখানে এই ঘটনা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ ব্যবস্থা নিলেও উল্লেখযোগ্য যে, যেখানে অর্থাৎ সুকটাহাটি এলাকায় ডাম্পারটি আটকানো হয়েছিল, সেখান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে পুলিশের নাকা চেকিং পয়েন্ট। পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে এই ধরনের জুলুমবাজি ও অপহরণের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা।।


More Stories
প্রতীক্ষার অবসান, শিলিগুড়ির নতুন রোড ওভার ব্রিজের উদ্বোধন
উত্তরবঙ্গ পেতে চলেছে আরও এক মন্ত্রী
আর্থিক ক্ষতিপূরণ, চাকরি ও মানসিক বন্ধনে সিকিমে দুর্ঘটনায় প্রাণহারানো পরিবারের পাশে শুভেন্দু