পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ৩১জুলাই : প্রাক্তন ফুটবল তারকা ও ইতালির রক্ষণদুর্গের স্তম্ভ ফ্রাঙ্কো বারেসি প্রয়াত । জুলাই মাসের শেষ দিন সুদূর ইতালি থেকে ভেসে এল দুঃসংবাদ। ইতালির স্বর্ণযুগের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ৬৬ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন।
কাইসার ফ্রান্জ নামেই তাঁকে ডাকা হত ফুটবল মহলে। ফুটবল সৌন্দর্য, দক্ষতা ও রক্ষণে আধিপত্যর জন্য জার্মানির প্রবাদপ্রতিম তারকা ফ্রাঙ্ক বেকেনবাওয়ারের সঙ্গে তুলনা করেই তাঁর এমন নামকরণ। ইতালিতে তাঁর খ্যাতি ছিল পিস্কিনিন নামে । অসামান্য হয়েও বারেসি যেন বাজ্জিও-র মতো ট্রাজিক নায়ক।
ফ্ল্যাশ ব্যাক : বিশ্বকাপ ১৯৯৪। ৩২ বছর আগে বিশ্বকাপের কথা হয়তো অনেকেরই মনে নেই। ইতালি তখন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দল। রক্ষণে পটু ইতালিকে ডিপ ডিফেন্সে নির্ভরতা দিতেন ফ্রাঙ্কো বারেসি। গ্রুপ লীগের দ্বিতীয় ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। তবে যারা স্বতন্ত্র, তাঁরা ফিরে আসেন অসামান্যভাবে। ফাইনালে মহা শক্তিধর ব্রাজিল, অথচ ইতালিয়ান ডিফেন্সের ভরসা আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা, তাসোত্তি ফাইনালে খেলতে পারছেন না। ২৫ দিন পরে, চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে ফিরলেন ৩৪ বছর বয়সী বারেসি। জীবনের অন্যতম সেরা পারফরমেন্স তুলে ধরলেন ফাইনালে। ব্রাজিলকে দাঁত ফোটাতে দিলেন না ফাইনালে। রোমারিও বেবেতোর ক্ষুরধার জুটিকে বোতলবন্দি করেছিল বারেসির নেতৃত্বে রক্ষণভাগ, পাশে সাইড ব্যাকে ছিলেন আরেক তারকা মালদিনি, ইতালিও গোল পায়নি ।অতিরিক্ত সময়েও খেলা গোল শূন্য থাকল । ম্যাচ গড়ালো ট্রাইবেকারে। পেনাল্টি শুট আউটে হার মানল ইতালি । ফ্রাঙ্কো বারেসি সারা ম্যাচ অসামান্য খেলে মোক্ষম সময়ে পেনাল্টি মিস করলেন যা তাঁকে সারা জীবন পীড়া দিয়েছে। উল্লেখ্য সেবার প্রথম পেনাল্টি টি মিস করেছিলেন বারেসি, অন্তিম পেনাল্টি মিস করেন আরেক তারকা বাজ্জিও । অবসর নেওয়ার আগে আর একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছিলেন বারেসি ।
১৯৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে পেনাল্টি মিসের জন্য জন্য থেকে গিয়েছেন ট্র্যাজিক নায়ক, তবে সারাজীবন প্রাপ্তি কম নয়। ইতালিকে সম্মান কম এনে দেননি তিনি। ইতালির হয়ে ৮১ টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন তিনি। স্কোয়াডে থাকলেও ২২ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো বারেসি অবশ্য পাওলো রসি-দের সঙ্গে মাঠে ছিলেন না, বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও খেলেননি। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়নি তবে কিছুদিনের মধ্যেই ইতালি দলে আবার ফেরেন এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান পাওয়া ইতালি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। সেবার চ্যাম্পিয়ন না হলেও টানা পাঁচটি ম্যাচ গোল না খাওয়ার রেকর্ড করা ইতালির অন্যতম স্টপার ব্যাক ছিলেন ফ্রাঙ্কো বারেসি। ক্লাব ফুটবলে এসি মিলনের সঙ্গে তার ছিল নাড়ির যোগ। ১৯৭৭ সাল থেকে একুশ বছর ধরে খেলেছেন এসি মিলানের হয়ে, থেকেছেন বিভিন্ন গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী। ফুটবল জীবন থেকে অবসরের পরে কোচিং জীবনেও সাফল্য পেয়েছেন তিনি।ফ্রাঙ্কো বারেসি প্রয়াত হলেও বিগত শতকের শেষ ভাগের ফুটবল জগতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে তাঁর নাম।।


More Stories
ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক রাহানের প্রস্থান, অবসর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের প্রাপ্তিযোগ
কোচ হিসেবে লক্ষ্মণ কি সুলক্ষণ বয়ে আনছেন?