সময় কলকাতা ডেস্ক : স্পেন -মরোক্কো সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী বা অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। মরক্কো থেকে স্পেনের প্রান্ত সীমায় অবস্থিত সেউতায় আবার অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে বহু অভিবাসন প্রত্যাশীর তথা মরক্কোর অধিবাসীর মৃত্যু।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় (Ceuta) প্রবেশের চেষ্টাকালে হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে এবং সাগরে ডুবে কমপক্ষে ১৮ জন অনুপ্রবেশকারী বা অভিবাসন-প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে. গত ৩০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ বেপরোয়াভাবে সীমান্ত বেড়া ভেঙে এবং সমুদ্র সাঁতরে স্পেনে ঢোকার চেষ্টা করলে এই চরম বিশৃঙ্খলা ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্পেনের প্রশাসনিক সূত্রে খবর, হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী একযোগে স্থলভাগের উঁচু সীমান্ত বেড়া ভেঙে এবং মরক্কোর দিক থেকে সমুদ্রের তারাজাল সৈকত (Tarajal beach) দিয়ে সাঁতরে সেউতা শহরে প্রবেশ করে। এই পরিস্থিতিকে স্থানীয় প্রশাসন ‘মানবিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার সেউতা সীমান্তে অতিরিক্ত সশস্ত্র সেনা ও বিশেষ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি জুলাই মাসে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সরাসরি মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরে অনুপ্রবেশকারী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের চিহ্নিতকরণ এবং সংজ্ঞা নিয়ে স্পেনে কার্যত প্রশ্নচিহ্ন দেখা যায়। মানবপাচারকারী চক্রসমূহ এই আইনি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বড় আকারে অনুপ্রবেশের উসকানি দেয়।
ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে স্পেনের দুটি শহর—সেউতা ও মেলিলা হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমান্ত, যার ফলে উন্নত জীবনের আশায় থাকা আফ্রিকান শরণার্থীদের প্রধান লক্ষ্য থাকে এই সীমান্ত পার হওয়া।

মানবাধিকার সংস্থার মতে, অনুপ্রবেশকারীদের ২০২৬ সালে সামগ্রিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
স্পেনে পৌঁছানোর প্রধান দুটি পথ—আটলান্টিক মহাসাগর (ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ অভিমুখে) এবং ভূমধ্যসাগরীয় পথ। স্পেনের মানবাধিকার সংস্থা Caminando Fronteras-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে ১,৩১৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে।এছাড়াও, জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে গাম্বিয়া থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে রওনা হওয়া একটি নৌকা সাগরে ২৫ দিন ভেসে থাকার পর মৌরিতানিয়ার উপকূলে উদ্ধার করা হয়, যেখানে ১৪৪ জন শরণার্থী মৃত বা নিখোঁজ হয়ে যায়।।


More Stories
কেন ব্রিকস সম্মেলনে ডিনার ঘিরে চর্চা ও বিতর্ক?
নিজের ওজনের চেয়ে তিনগুন ওজন তুলে রেকর্ড জলপাইগুড়ির কেয়ার
নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে