সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ অগাস্ট : কলকাতার অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল এনআরএসে রহস্য মৃত্যু নার্সের।কলকাতার নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এক ৩০ বছর বয়সি নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে হাসপাতালের গাইনি বা স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউ (HDU)-এর শৌচাগার থেকে তাঁর অচৈতন্য দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতা নার্সের নাম রূপালী বর্মন। তিনি দমদম এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বুধবার রাত ৮টা নাগাদ তিনি হাসপাতালে নিজের নাইট ডিউটিতে যোগ দেন। রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি শৌচাগারে যান। দীর্ঘক্ষণ পরেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীরা ডাকাডাকি শুরু করেন। ভিতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রাত ১০টা ২৭ মিনিট নাগাদ দরজা ভাঙা হয়। ভিতরে তাঁকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, শৌচাগারের ভিতর থেকে চিকিৎসায় ব্যবহৃত অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু ওষুধের খালি ভায়াল (শিশি) ও সিরিঞ্জ উদ্ধার হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, শরীরে মাত্রাতিরিক্ত কোনো ওষুধের প্রভাবে এই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। মৃতদেহের শরীরে বাইরে থেকে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার চিঠিও মেলেনি। কলকাতা পুলিশের লালবাজারের হোমিসাইড শাখা এবং ফরেনসিক টিম ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার রাতে কর্তব্যরত চারজন নার্সকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এন্টালি থানায় তলব করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও একটি নিজস্ব তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। ঘটনার খবর পেয়েই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। মৃতার পরিবারের অনুরোধে এনআরএস-এর পরিবর্তে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের তত্ত্বাবধানে তাঁর ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।।


More Stories
জীবন বাঁচাতে এসে জলের দেখা নেই, ভোগান্তি ধূপগুড়ি হাসপাতালে
চিকিৎসক বিরুপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা সরকারের
স্বাস্থ্য পরিষেবায় আধুনিকীকরণে জোর দেবেন নরেশ রায়