দীপ সেন ও জয় ঘোষ,সময় কলকাতা : ২০২৬ সালের জুলাই মাসের শেষের দিকে মহারাষ্ট্রের নাসিকে স্বল্পকালীন জোরদার বন্যা হয়েছিল।টানা মুষলধারে বৃষ্টি এবং গঙ্গাপুর বাঁধ থেকে জল ছাড়ার কারণে গোদাবরী নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আর এই বন্যা পরিস্থিতিতেই যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। দেশজুড়ে পেঁয়াজের বাজারে আগুন। পশ্চিমবঙ্গ এর ব্যতিক্রম নয়। মাংস থেকে স্যালাড – আমিষভোজীদের সাধের পেঁয়াজ সাধ্যের বাইরে !
পেঁয়াজের আকালে দেশের পেঁয়াজের ভান্ডার নাসিকের অবস্থা বেহাল। লাসালগাঁওয়ের মতো নাসিকের প্রধান পাইকারি বাজারগুলোতে প্রতিদিনের পেঁয়াজ আমদানি প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। নাসিকের পাইকারি বাজারেই এখন কিলো প্রতি পেঁয়াজের দাম ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। পশ্চিমবঙ্গ পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে অনেকটাই নাসিকের পেঁয়াজের ওপরে নির্ভরশীল। পশ্চিমবঙ্গে কি পেঁয়াজ হয় না? এর উত্তর, বঙ্গে পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও তা পর্যাপ্ত নয়! পশ্চিমবঙ্গের পেঁয়াজ ফলনশীল অন্যতম জেলা মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, হুগলি। পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কলকাতা ও কলকাতা লাগোয়া জেলাগুলিতে অন্য জেলা থেকে পেঁয়াজ আসত। তবে এই মরশুমে চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। সময় কলকাতার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখে পিয়াজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, মুর্শিদাবাদেও অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেটুকু ছিল তাও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে পেঁয়াজ চাষীদের যত না মাথায় হাত তার চেয়েও দুর্বিষহ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের। বাঙালির হেঁসেলে পেঁয়াজের আকাল। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা লাগোয়া শহরতলীর পেঁয়াজের মজুতদার ও পেঁয়াজের পাইকারি ও খুচরো বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললেই পেঁয়াজের আকালের ছবি পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা বলছেন, কিছুদিন আগেও যে পেঁয়াজ বিক্রি হতো কিলোপ্রতি ৩০ টাকায় সেই পেঁয়াজ এখন ৫০- ৫৫ টাকা কিলো। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন তারা কিলো প্রতি ন্যূনতম লাভ রাখছেন। এক টাকা লাভ রেখে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে পেঁয়াজ। তবুও বিক্রি অনেকটাই কমেছে। পেঁয়াজ বিক্রেতারা বলছেন, আগে যে মানুষ এক কিলো পেঁয়াজ কিনতেন তিনি ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ কিনে সংসার চালাচ্ছেন। ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা বলছেন নতুন করে পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।
উত্তরণের রাস্তা আপাতত অবরুদ্ধ। জেলায় অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের মার খাওয়ায় যতক্ষণ না নাসিক থেকে নতুন করে পেঁয়াজ আসে ততক্ষণ পিয়াজের এই ঊর্ধ্বমুখী বাজার থাকবেই।আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে- পেঁয়াজের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার। ক্রমশ সাধের পেঁয়াজ সাধ্যের বাইরে, আরও বাইরে চলে যাচ্ছে!


More Stories
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও অবদান
শাবকহারা উদ্বিগ্ন-উন্মত্ত মা গন্ডারের মৃত্যু ফালাকাটায়
শহীদ দিবসে স্মরণ : “ক্ষুদিরাম নিচে অদৃশ্য হইয়া গেল”