Home » রাতারাতি আট চিকিৎসক বদলি, চিকিৎসা সংকটে ধুপগুড়িবাসী

রাতারাতি আট চিকিৎসক বদলি, চিকিৎসা সংকটে ধুপগুড়িবাসী

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা : চিকিৎসা সংকটে চূড়ান্ত নাজেহাল ধুপগুড়িবাসী। রাতারাতি ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ৮ জন চিকিৎসককে। সাধারণ মানুষ সকাল থেকে জীবনদায়ী পরিষেবা পেতে হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন, লাইন দিয়ে টিকিট কাটছেন তারপরে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। শেষে চিকিৎসক না থাকায় বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসা পরিষেবা থেকে। অভিযোগ সর্বস্তরে। তবে ধুপগুড়ি হাসপাতালের অন্ধকার দশা কেটে যাবে বলেই আশ্বস্ত করছে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা নেতৃত্ব।

ধুপগুড়ি মহাকুমা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই টালবাহানা চলছিল, চলছিল হাসপাতালে বেহাল দশা। তবে এরইমধ্যে রাতারাতি আটজন চিকিৎসককে বদলি করে দেওয়ায় ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের বেহাল দশা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে । রোগীদের ভোগান্তি চরমে একদিকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যখন চিকিৎসার জন্য হাপিত্যেশ করছেন সাধারণ মানুষ তখন পাশের ঘরেই টেকনিশিয়ানরা শুনছেন উচ্চস্বরে মোবাইলে রিলসে ভিডিও গান । স্বাস্থ্যপরিসেবার মর্মান্তিক ছবি ধরা পড়ল সময় কলকাতার ক্যামেরায়। আদতে হয়েছেটা কী?

সূত্রের খবর, ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে এক ধাক্কায় আট জন সিনিয়র রেসিডেন্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-সহ মোট ১০ জন চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে। আর যার কারণে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আউটডোর এবং জরুরি বিভাগ চালাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে এসেও রোগীর আত্মীয়-পরিজনেরা চিকিৎসক পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। এর জেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের। এমনই অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে সমস্যায় পড়ার অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা।

ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের কার্যনির্বাহ করার জন্য ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ও অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক থাকলেও প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে নিয়মিত রোগী দেখার ক্ষেত্রে তাঁদের উপর নির্ভর করা কার্যত সম্ভব নয়। বর্তমানে তিন জন করে স্ত্রী ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, দুজন করে চক্ষু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং একজন প্যাথলজিস্ট রয়েছেন। ফলে চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে ধুপগুড়ি হাসপাতাল। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

মহকুমা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘একসঙ্গে একটি হাসপাতাল থেকে এতজন চিকিৎসককে তুলে নেওয়া নজিরবিহীন ঘটনা। ” বন্ধ হয়ে থাকা পরিষেবা গুলি চালু করার দাবি তোলেন তিনি।

মহকুমা ঘোষণার পর ২০২৪ সালের এপ্রিলের গোড়ায় প্রথম ধাপে চার জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পেয়েছিল ধূপগুড়ি হাসপাতাল। ওই বছরের জুলাইয়ের শেষে আরও ১২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। তবে সিপিআইএম ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রার। তিনি বলছেন ‘‘ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল হিসেবে এখনও সরকারি কাগজে-কলমে স্বীকৃতি পায়নি। তার মধ্যেই হাসপাতালে পাঠানো আট জন চিকিৎসককে একসঙ্গে বদলি করা হয়েছে।”  তাঁর আশঙ্কা, চিকিৎসা সংকটে  সাধারণ মানুষ থেকে চা বাগিচার বহু অসহায় মানুষ মরণাপন্ন হয়ে পড়বেন।

স্বাস্থ্য দফতরের থেকে পাওয়া সূত্রের খবর, আগের সরকারের আমলে তিন বছরের জন্য ৩০ লক্ষ টাকার বন্ডে সিনিয়র রেসিডেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। স্থানীয় চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল। কাউন্সেলিং পদ্ধতি অনুসৃত না হওয়ায় ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তকন্যা তে বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে আট জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক চন্দন দত্ত। চন্দন দত্ত বলেন, ‘‘বিষয়টি নজরে আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে গোটা ঘটনা জানিয়েছি। আট জন চিকিৎসক একসঙ্গে এবং তার আগে দু’জন, মোট ১০ জন চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সমাধানের জন্য আশ্বাস দিয়েছেন।”

এদিকে ধূপগুড়িতে ছয়তলা নতুন হাসপাতাল ভবন তৈরির কাজ জোরকদমে এগোলেও বাড়ছে রোগীর চাপ। অন্যদিকে, চিকিৎসকের অভাবে চিকিৎসা সংকটের চূড়ান্ত ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে। বিশ বাঁও জলে ধুপগুড়িবাসী।।

 

About Post Author