পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা : মুক্তি পেতে চলেছে ভুতু আয়া ভাগো (Bhootu Aaya Bhago)। “ভয় থেকে হাসি” এবং “হাসি থেকে ভয়”-এর রোলারকোস্টার রাইড!সব বয়সের দর্শকের কাছে এখন সমান জনপ্রিয়তা কমেডি -হরর -থ্রিলারের। জঁরাটি (Genre) বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রবল জনপ্রিয় আর এই ধরনের ছবিতে আলোড়ন ফেলতে, বলা ভালো, বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ঝড় তুলতেই আসছে ভুতু আয়া ভাগো (Bhootu Aaya Bhago)।
রসদ,রস ও রসায়ন যদি সম্ভাবনার মাপকাঠি হয় তাহলে উৎসবের মরশুমে বাঙালি একটি উপভোগ্য ছবি পেতে চলেছে। বাংলা ছবিতে নতুন ইতিহাস গড়ার মশলা নিয়েই হাজির হতে চলা ভুতু আয়া ভাগো একটি কমেডি-হরর-থ্রিলার সিনেমা।
ছবিটিতে তিন বন্ধু তাদের বাড়িওয়ালাকে ভয় দেখাতে বদ্ধপরিকর। আর ঘটনা ধীরে ধীরে জাল বিস্তার করতে আরম্ভ করে। প্লটের কথা দর্শকরা অচিরেই জানতে পারবেন, ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। বাংলা চলচ্চিত্রে কি বিপ্লব আসতে পারে এই ছবির হাত ধরে? বাংলা চলচ্চিত্রে হরর ছবি কম নেই। কমেডির সঙ্গে হররের মেলবন্ধন প্রথম চোখে পড়েছিল বাংলা চলচ্চিত্রে ১৯৫২ সালের হানাবাড়িতে। ১৯৬৯ সালে সত্যজিৎ রায়ের গুপী গাইন বাঘা বাইন হরর চলচ্চিত্র না হয়েও কমেডি এবং হররের আশ্চর্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছিল।তবে ২০১২ সালে প্রকৃত অর্থে কমেডি ও হরর মিশে যেতে দেখা গিয়েছিল ভূতের ভবিষ্যৎ নামের সফল বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে। তবে হিন্দি বা অন্য ভাষায় এ ধরনের চলচ্চিত্র কম নেই। ভুলভুলাইয়া থেকে ভূতবাংলা – হিন্দিতে এরকম অজস্র উদাহরণ। তবে ভুতু আয়া ভাগোর সঙ্গে প্রেক্ষাপটের দিক থেকে মিল পাওয়া যাবে মালায়ালাম ভাষায় জর্জ ভার্গিস পরিচালিত আইসিইউ ছবিটির । এই সিনেমাটি কমেডি-হরর -থ্রিলার যা গড়পড়তা সাফল্য পেলেও পারিবারিক দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এক দিনের বিশৃঙ্খলার মধ্যে টানটান উত্তেজনাময় গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ-কে কেন্দ্র করে। প্রায় একই রকম প্রেক্ষাপটে ভুতু আয়া ভাগোর উপস্থাপনা। অপ্রত্যাশিত মোড় ও টানটান উত্তেজনার এই থ্রিলারটি দর্শকের মনে দারুণ কৌতূহল জাগাবে বলাই বাহুল্য। অলৌকিক ও হাসির মধ্যে দিয়েও রয়েছে সামাজিক বার্তা।
দর্শকদের অন্যতম প্রাপ্তি এই চলচ্চিত্রের কলাকুশলীরা । সবচেয়ে বড় কথা, অকাল প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জী রয়েছেন এই ছবিতে । তাঁর উপস্থিতি ছাড়াও আরিয়ান ভৌমিক, রজতাভ দত্ত, মৌমিতা পন্ডিত, শ্রীমা ভট্টাচার্য এবং আরও একাধিক তারকা সমাবেশ এই ছবিতে।কৌশিকী অমাবস্য্যয় গান রিলিজ উপলক্ষে মন উজাড় করে আশীর্বাদ চাইলেন শিল্পীরা।
পরিচালক -প্রযোজক ডক্টর মনোরঞ্জন জেনা ও পরিচালক সৌভিক দে সহ এই বইয়ের সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীরা জানিয়েছেন আউট অ্যান্ড আউট কমার্শিয়াল ছবি হলেও ভুতু আয়া ভাগোর দৌলতে অন্য জঁরা পেতে চলেছে বাংলার দর্শক। এখন সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখের জন্য সাদর প্রতীক্ষা।


More Stories
ট্রেন্ডিং ছবি! টাইম মেশিনে চেপে গন্তব্য আটের দশকে
বাঙালিদের ভন্ড বলার অভিযোগে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের
“বয়সে বড় হলেই” : মোহনবাগানকে কটাক্ষ ইস্টবেঙ্গল কর্তার