সানি রায় ও পুরন্দর চক্রবর্তী : আচমকাই রূপকথার জাদুকাঠির সন্ধান পেয়েছে মানুষ। টাইম মেশিন রূপী এআই টুলে চেপে আশির দশকের যাত্রা করছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে সময়কে ছাড়িয়ে বর্তমান সময়ের মানুষের পঞ্চাশ বছর আগের যুগোপযোগী অথচ কাল্পনিক ছবি।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন,”কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখে না! “। তবে বর্তমান প্রযুক্তি কথা রেখেছে। তাই ৩৩ বছর নয়, প্রায় ৫০ বছর পিছনে ফিরে যাওয়া টাইম মেশিনে চেপে ।আশির দশক বা ৮-র এর দশক যেভাবেই বলুন, নস্টালজিয়ায় ভাসছেন রাজনৈতিক নেতা থেকে সেলিব্রিটি। পাল্লা দিয়ে পুরনো দিনকে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন সাধারণ মানুষ।তাই অতীতের দিকে যাত্রা প্রযুক্তির হাত ধরে। রমরমা এক নস্টালজিক ফ্যাশন ট্রেন্ডের।
কিশোর-কিশোরী তরুণ তরুণী থেকে বয়স্ক মানুষরাও চ্যাট জিপিটি বা অন্যান্য এআই টুল ব্যবহার করে বর্তমানের সেলফি বা ছবিকে খুব সহজেই পুরোনো দিনের ফটো স্টুডিওর আদলে তৈরি করা যাচ্ছে। নস্টালজিয়া বা পুরোনো দিনের টান তো আছেই আশির দশকের ফ্যাশন, ভলিউম চুল, বেল-বটম পোশাক এবং পুরোনো ক্যামেরার দানাদার বা ঝাপসা ভাব, সেই সময়ের জিন্স বা শার্টের বা শাড়ি সবকিছুর মধ্যেই এক অনন্য ছোঁয়া। সবমিলিয়ে, মানুষের মধ্যে এক মন কেমন করা নস্টালজিয়া তৈরি করছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের ও রাজ্যের নামী তারকা ও রাজনীতিবিদ যেমন রাহুল গান্ধী, হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বা রাজ্যের সাংসদ জয়ন্ত রায় প্রমুখ এই ট্রেন্ডে যোগ দিয়ে তাদের রেট্রো লুকের ছবি শেয়ার করায় এটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ।
নতুন ট্রেন্ডের জনপ্রিয়তার কারণ খুব সহজবোধ্য। বর্তমানের ডিজিটাল ও দ্রুতগতির জীবন থেকে মানুষ একটু মুক্তি চান।তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি এমন একটি সময়কে দেখতে চায় যা তারা নিজেরা দেখেনি। বয়স্কদের ক্ষেত্রে যুক্তি “স্মৃতি সতত সুখের” পুরোনো অ্যালবামের মতো ছবি দেখে এক ধরণের ভালোলাগা তৈরি হয়। তাই টাইম মেশিনে চেপে পিছন দিকে যাত্রা।
এই তালিকা তে কে নেই! কিরেণ রিজিজু, হেমন্ত বিশ্ব শর্মা থেকে রাহুল গান্ধী বা ক্রীড়া জগতের প্রজ্ঞানানন্দ বা ইরফান পাঠান সবাই ফিরছেন আটের দশকে। এবার এই তালিকায় যোগ দিচ্ছেন বঙ্গের রাজনৈতিক নেতারা। জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় কেও দেখা গিয়েছে স্মৃতির অ্যালবাম বেয়ে আশির দশকে পাড়ি দিতে । পুরনো সময়কে ফিরে পেতে কে না চায়!


More Stories
বাঙালিদের ভন্ড বলার অভিযোগে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের
“বয়সে বড় হলেই” : মোহনবাগানকে কটাক্ষ ইস্টবেঙ্গল কর্তার
সত্যজিতের চোখে উত্তম কুমার