পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইউসিসি (Uniform Civil Code )বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত ঘোষণা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে জটিল রাজনৈতিক আবর্ত তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশের এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালু করা হবে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি আদতে কী? জেনে নেওয়া যাক ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল বিষয় এবং এই নিয়মের বাস্তব প্রভাব।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি অনুযায়ী সারাদেশে অভিন্ন দেওয়ালি বিধি কার্যকর করার কথা ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে। বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের জন্য বিভিন্ন ও আলাদা আলাদা ধর্মীয় আইন ও পার্সোনাল ল রয়েছে ইউসিসি চালু হলে এইসব আলাদা আলাদা ধর্মীয় আইন বাতিল হয়ে যাবে এবং দেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য এক ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইন কার্যকর হবে। ইউসিসি মূলত নাগরিকদের ক্ষেত্রে চারটি প্রধান ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করবে। সমস্ত ধর্মের মানুষের বিবাহের ন্যূনতম বয়স ও নিয়ম এক করা হবে। বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পুরুষ এবং নারীর সমান ও অভিন্ন অধিকার থাকবে। মা-বাবার সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সন্তান দত্তক নেওয়া ও অভিভাবক অভিন্ন নিয়ম কার্যকর করা হবে। উত্তরাখণ্ড রাজ্য প্রথম এই আইন বাস্তবায়নের পথে হেঁটেছে। একই পথে হাঁটছে গুজরাট আসাম ও মধ্যপ্রদেশের মত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি। লিঙ্গ সমতা ও নারীদের অধিকার সুরক্ষিত হলেওঅন্য বেশ কিছু বিষয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
বিপক্ষ মতাবলম্বী সমর্থকরা একাধিক যুক্তি দেখাচ্ছেন। বেশ কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ধর্মীয় সংগঠন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিরোধিতা করে জানিয়েছে এই আইনের ফলে ভারতের বহুত্ববাদ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার উপরে আঘাত নেমে আসতে পারে। একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল জানিয়েছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার বিষয়ে বিজেপির উদ্যোগ প্রধানত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।।


More Stories
কেন টিউশন পড়াচ্ছেন? বেকার গৃহশিক্ষককে আইনি নোটিশ
কিশোরীর মৃত্যু, নেপথ্যে “কৃত্তিম অশ্লীল ছবি ” আর সালিশি সভা এবং বিচারের বাণী
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের