Home » ‘দিল্লি কা লাড্ডু’ খেয়ে গাছের মগডালে : আহমেদ আনসারীর আশ্চর্য কাহিনী

‘দিল্লি কা লাড্ডু’ খেয়ে গাছের মগডালে : আহমেদ আনসারীর আশ্চর্য কাহিনী

Oplus_131072

সানি রায়, আর্থিকা দত্ত ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর :  বিয়ে বাস্তবেই দিল্লি কা লাড্ডু। শোলের বিরু চরিত্রে ধর্মেন্দ্র বিয়ের প্রস্তাব খারিজ হওয়ায় সোজা জলের ট্যাংকের টঙে উঠে গেছিলেন। বিয়ে না দিলে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন শোলের নায়ক। অন্যদিকে, বিয়ে করেও শান্তি নেই অনেকেরই! বিয়ে করে পারিবারিক কলহে জেরবার হয়ে বুধবার গাছের মগডালে চেপে নিচে ঝাঁপ মারার ভয় দেখাচ্ছিলেন উত্তরবঙ্গের বানারহাটের আহমেদ আনসারী। কোনক্রমে গাছ থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে তাঁকে!

পারিবারিক কলহে, কল্পলোকে বিচরণ করতে বা গাছের মগডালে উঠে রেকর্ড গড়তে দেখা গিয়েছে কত মানুষকে!  বিশেষ কারণে গাছের মগডালে চাপার সুদীর্ঘ ইতিহাসে নবতম সংযোজন আহমেদ আনসারী। শেষ পর্যন্ত তিনিও অবশ্য গাছ থেকে নেমে এসেছেন। চর্চায় থেকে গিয়েছে গাছের মগডাল ও দাম্পত্য কলহ।

পথের পাঁচালী অপুর কথা মনে আছে? কিশোর অপু মাঝে মাঝেই গাছের মগডালে চেপে বসত। মহাভারতে যুদ্ধের অভাব পূরণ করতে সে নিজের মনে এক বিশাল কাল্পনিক যুদ্ধক্ষেত্রের সৃষ্টি করত আর গাছের মগডাল থেকে  সে কাল্পনিক শত্রুসৈন্যদের ওপর আক্রমণ করত এবং বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করত।

তবে এ তো গেল কল্পলোকের জগতের কথা। ফেরা যাক বাস্তবের কথায়, কিছুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তি দাম্পত্য কলহের জেরে গাছের মগডালে চড়ে বসেন। স্ত্রীর ওপর গোঁসা করে এক দুদিন নয়, এক মাসের বেশি সময় গাছের মগডালেই কাটান উত্তরপ্রদেশের মৌ জেলার কোপাগঞ্জের বছর ৪২-এর এক ব্যক্তি।  স্ত্রীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করে রেগে বেরিয়ে তিনি সটান উঠে যান ৮০ ফুট লম্বা ওই পাম গাছে। সেখানেই বাঁধেন তার দ্বিতীয় সংসার। এ বছর জুন মাসে বাংলাদেশের একটি ঘটনাও অত্যন্ত চমকপ্রদ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এক মহিলা মাঝে মাঝেই গাছের মগডালে চড়ে বসতেন পারিবারিক কলহের জেরে। এ বছর জুন মাসেও তাকে চড়তে দেখা গিয়েছিল গাছের মগডালে। সেখান থেকে পাশের পুকুরে ঝাঁপ মারেন, তিনি তবে প্রাণে বেঁচে যান। এরকম ঘটনা আকছার ঘটে।  বুধবার ডুয়ার্সে যে ঘটনা ঘটেছে তার তাৎপর্য অন্যরকম। তিনি সাতসকালে স্ত্রীয়ের সঙ্গে ঝামেলা করে গাছের মগডালে চেপে  ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দেন। অবশেষে যুবকের ছেলে গাছের তলায় এসে কান্নাকাটি শুরু করলে গাছ থেকে নেমে আসেন বানারহাট চা বাগানের কবর স্থান সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আহমেদ আনসারী।

পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম জুলিয়া বাটারফ্লাই হিল গাছে প্রায় দু’বছর কাটিয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রাচীন রেডউড গাছ (যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘লুনা’) কেটে ফেলা রুখতে  সেটির প্রায় ১৮০ ফুট উঁচুতে মগডালে একটি ছোট্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে থাকা শুরু করেন। তিনি টানা ৭৩৮ দিন সেই মগডালে কাটিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত গাছটিকে বাঁচাতে সক্ষম হন। উত্তরবঙ্গে আহমেদ আনসারীর লক্ষ্য ছিল সংসারে নিজেকে পরিত্রাণ করা । গাছের মগডাল থেকে প্রাণে বেঁচে নেমে এলেও স্ত্রীর গঞ্জনার হাত থেকে তিনি কতটা বাঁচেন সেকথা সময়ই বলবে!

About Post Author