Home » কিশোরীর মৃত্যু, নেপথ্যে “কৃত্তিম অশ্লীল ছবি ” আর সালিশি সভা এবং বিচারের বাণী

কিশোরীর মৃত্যু, নেপথ্যে “কৃত্তিম অশ্লীল ছবি ” আর সালিশি সভা এবং বিচারের বাণী

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা : বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদছে জলপাইগুড়ির একটি অসময়ে ঝরে যাওয়া ফুলের জন্য। জলপাইগুড়ির  ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর অভিযোগ ছিল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে  তাঁর নকল অশ্লীল ছবি ভাইরাল করা হয়েছিল সামাজিক গণমাধ্যমে। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল,  তারপরে চলছিল হুমকি। ঘটনাটি গত বছরের অর্থাৎ তৃণমূল আমলের ।পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নামে তৎকালীন শাসকদলের কয়েকজন নেতার উদ্যোগে গ্রামে সালিশি সভা বসানো হয়। সেখানে তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করে সাইবার ক্রাইমে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। পারিপার্শ  চাপে মেয়েটির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়, সে সময় যাদের ধরপাকড় করা হয়েছিল তারাও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে একে একে। পরিবার অকাল প্রয়াত মেয়েটির স্মৃতিতে কাটাচ্ছে বিনিদ্র রজনী।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির অপব্যবহারের করে অশ্লীল ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় কিশোরীর পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ । সামাজিক অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ২০২৬ সালের ১৩ মে নিজের ঘরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি , ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হলেও এর নেপথ্যে কারা দায়ী এবং কীভাবে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছল, সেই প্রশ্নেরও যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।

পরিবারের আরও অভিযোগ, একাধিকবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাঁদের দাবি, গত ১৭ আগস্ট এই মামলায় অভিযুক্ত দু’জন জামিনও পেয়েছেন।নিজেদের মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছে পরিবার। এখন প্রশ্ন, মেয়েটির পরিবারের প্রশ্নের উত্তর দেবে কে?

About Post Author