Home » বেনজির কান্ড বিধানসভায়, শাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে

বেনজির কান্ড বিধানসভায়, শাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে

নজিরবিহীন অশান্তি বিধানসভায়। বাংলা ও বাঙলি নিয়ে বৃহস্পতিবার আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে উঠলে তুমুল হই-হট্টগোল শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। তার প্রতিবাদ করতে নামে তৃণমূলও। আলোচনা কার্যত রূপ নেয় রাজনৈতিক সংঘাতে। স্লোগান-পাল্টা স্লোগান, দু’পক্ষের রাজনৈতিক লড়াইয়ে কার্যত চাপা পড়ে ভাষার অধিকারের প্রশ্ন।
হেডারঃ ‘বিজেপি গদি চোর, ভোট চোর, বাংলা বিরোধী’
বিধানসভায় মমতার তোপ, উত্তাল পরিস্থিতি
‘চোর’ বনাম ‘ছোড়’, উত্তাল বিধানসভা!
লোঃ বিধানসভা  হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর কার্যত হলও তাই। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে বিধানসভা কক্ষে শুরু হয়েছিল বিশেষ আলোচনা। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই আলোচনা কার্যত রূপ নিয়ে নেয় রাজনৈতিক সংঘাতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য শুরু করতেই চিৎকার, স্লোগানে বাধা দেন বিজেপি বিধায়করা। উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা। স্লোগানের ঝড়— ওয়ান টু থ্রি ফোর, তৃণমূলের সবাই চোর, বনাম মোদি চোর, গোদি চোর—দু’পক্ষের রাজনৈতিক লড়াইয়ে কার্যত চাপা পড়ে ভাষার অধিকারের প্রশ্ন।
স্পিকার বারবার অনুরোধ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, বলেন, এটা তামাশার জায়গা নয়। কিন্তু কেউ কারও কথা শুনতে নারাজ। হইহট্টগোলের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর সোজাসাপটা জবাব, বিজেপি আসলে বাংলা ভাষা নিয়ে আলোচনা চায় না।
এখানেই থেমে থাকেননি মমতা। তাঁর তোপ, তিনি তৃণমূল বিধায়কদের শান্ত থাকতে বলেছেন। কিন্তু শান্তি রাখা কি শুধু শাসকদলের বিধায়কদের দায়িত্ব? এটা দু’পক্ষেরই দায়িত্ব। বিজেপি আসলে গদি চোর, ভোট চোর, বাংলা-বিরোধী এবং অত্যাচারী দল। বিজেপি দেশের লজ্জা। বাংলার মানুষ এঁদের কাউকে বিধানসভায় দেখতে চাইবে না।
মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তে আগে থেকেই সরগরম ছিল বিজেপি শিবির। বৃহস্পতিবার মমতার বক্তব্য শুরু হতেই তা চরমে পৌঁছয়। হইচই, স্লোগান, মার্শালের হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে বিধানসভা পরিণত হয় উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে। ততক্ষণে শঙ্কর ঘোষের পর বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলকেও সাসপেন্ড করেন স্পিকার। একে একে মিহির গোস্বামী, অশোক দিন্দা, বঙ্কিম ঘোষকেও সাসপেন্ড করা হয়। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করছে। স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে বাংলা ভাষার অধিকার নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, তা ছাপিয়ে উঠে আসে রাজনৈতিক দংশন ও সংঘাতের চিত্র। বাংলা ভাষার গর্বকে ঘিরে বিশেষ আলোচনার উত্তাল বিধানসভা! শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিজেপি বিধায়ক—শঙ্কর ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, মিহির গোস্বামী, বঙ্কিম ঘোষ, অশোক দিন্দাকে সাসপেন্ড করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই সাসপেনশন নিয়েই তুঙ্গে শাসক-বিরোধী তর্জা।

বাংলা ভাষার গর্বকে ঘিরে বিধানসভায় বিশেষ আলোচনা। কিন্তু সেই আলোচনায় যে শেষমেশ উত্তাল বিক্ষোভ আর নাটকীয় টানাটানির রূপ নেবে, তা কে জানত! বাঙালি হেনস্তা ইস্যুতে বিশেষ অধিবেশনে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয় বিধানসভা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মাঝেই হই হট্টগোল শুরু হয়। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করার পরেও চলে গণ্ডগোল। তারপরই বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, মিহির গোস্বামী, বঙ্কিম ঘোষকে সাসপেন্ড করা হয়। আগামী অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড অশোক দিন্দা। এর আগে গত সোমবার শুভেন্দু অধিকারীকেও সাসপেন্ড করা হয়। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের মাঝেই শুরু হয় শোরগোল। বিজেপি বিধায়কদের বলতে দেওয়া হল না কেন? —এই প্রশ্ন তুলে সরব হন বিজেপি বিধায়করা। বিধানসভার মধ্যেই ওঠে স্লোগান, চলে টেবিল চাপড়ানি। হট্টগোলের মধ্যেই স্পিকারকে ঘিরে ধরেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। স্পিকার একাধিকবার অনুরোধ করেন শান্ত থাকার জন্য। বলেন, এটা তামাশার জায়গা নয়। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকে।

এরপরই প্রথমে সাসপেন্ড করা হয় শঙ্কর ঘোষকে। ৩৪৮ ধারায় শঙ্কর ঘোষকে সাসপেন্ড করা হয়। কিন্তু কক্ষ ছাড়তে নারাজ শঙ্কর ঘোষ। মার্শাল তাঁকে বের করে আনতে গেলে শুরু হয় নাটকীয় টানাপোড়েন। পাশে দাঁড়ান অগ্নিমিত্রা পাল-সহ একাধিক বিজেপি বিধায়ক। শেষমেশ তাঁকে কক্ষ থেকে ‘চ্যাংদোলা’ করে বের করেন মার্শালরা।

পরবর্তীতে সাসপেন্ড হন অগ্নিমিত্রা পল, মিহির গোস্বামী, অশোক দিন্দা, বঙ্কিম ঘোষরাও। তাতেও থামেনি বিজেপির প্রতিবাদ। বিধানসভায় রীতিমতো উত্তপ্ত আবহ। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য থামেননি। নিজের বক্তব্যে বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, এরা বাংলা বিরোধী।
এদিকে অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি বিধায়কদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। স্পিকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। শাসক-বিরোধী তর্জার মাঝেই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আলোচনা শেষমেশ পরিণত হয় রাজনৈতিক বাগযুদ্ধে। আলোচনায় যে শেষমেশ উত্তাল বিক্ষোভ আর নাটকীয় টানাটানির রূপ নেবে, তা কে জানত! বাংলা ভাষার অধিকার নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, তা ছাপিয়ে উঠে আসে রাজনৈতিক দংশন ও সংঘাতের চিত্র। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর বিজেপি বিধায়করা বেরিয়ে যান বিধানসভা কক্ষ থেকে। কিন্তু থেমে থাকেনি শাসক দল। এরপরই বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করা হয় বিধানসভায়। তবে দিন শেষে, প্রশ্ন একটাই— ভাষা কি শুধুই রাজনীতির হাতিয়ার? নাকি আত্মপরিচয়ের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই? উত্তর সময় দেবে। তবে একথা নিশ্চিত করে বলা যায়— বিধানসভা এমন দৃশ্য আগে খুব কমই দেখেছে।

About Post Author