বর্তমানে রাজ্য-রাজনীতিতে একটাই আলোচ্য বিষয় – এসআইআর। তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। এও দাবি করা হয়েছে যে, এসআইআর হচ্ছে এনআরসি করার ঘুরপথ! যদিও এইসব দাবি-অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়েই গত সোমবার বাংলায় এসআইআর ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তারপর থেকেই আরও সক্রিয় শাসক শিবির। শুক্রবার রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে ভার্চুয়ালি বৈঠক ডাকলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বার্তা দেবেন তিনি, সেদিকেই নজর সকলের।
বাংলায় ২৮ অক্টোবর, গত মঙ্গলবার থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ২৮ অক্টোবর থেকে চলছে বিএলও-দের প্রশিক্ষণ পর্ব। চলবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। এই পরিস্থিতিতে ব্লক লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-দের নিয়ে জরুরিভিত্তিতে প্রস্তুতি বৈঠকে বসতে চলেছে তৃণমূল। শুক্রবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক থেকে ব্লক স্তরের নেতা-কর্মীদের এসআইআর নিয়ে বোঝাবেন তিনি নিজে। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই দফায় দফায় প্রশিক্ষণ শুরু করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আসল বৈঠক হওয়ার কথা শুক্রবার বিকেলে। এসআইআর হলেও কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেলে বৃত্তর আন্দোলন হবে – এই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
খোদ দলের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে। সরাসরি নিশানা করেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তাছাড়া এসআইআর ইস্যুতে পথে থাকার বার্তাও দিয়েছেন।
সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আগামী দিনে কী পদক্ষেপ করা হবে তা ঠিক করতে শুক্রবার ভার্চুয়াল বৈঠক করতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, কলকাতায় অভিষেকের অফিস থেকেই হতে চলেছে এই ভার্চুয়াল বৈঠক। প্রতিদিনের সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মী ছাড়াও ভোট-প্রক্রিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা, ব্লক ও বুথ স্তরের দলীয় পদাধিকারীদের বৈঠকে ডাকা হচ্ছে। আলোচনার মূল বিষয় যে এসআইআর হতে চলেছে সেটাও মোটামুটি স্পষ্ট। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের জন্য যে সংখ্যক বিএলএ-২ প্রয়োজন, সমস্ত বুথে সংগঠন থাকার সুবাদে তা তৃণমূলের রয়েছে। শাসকদল জানিয়েও দিয়েছে, প্রতি বুথের জন্য বিএলএ ২-ও তাদের প্রস্তুত। দলের বুথ এজেন্টদের সুবিধার্থে তৃণমূল আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন যাঁরা ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির কাজ করেছেন, যাঁরা সমস্ত ভোটারকে চেনেন, তাঁরা বিএলও এবং দলের এজেন্টদের সঙ্গে থাকবেন। যেসব এজেন্ট এতদিন এই কাজ করে এসেছেন এবং অভিজ্ঞ, এজেন্ট হিসাবে তাঁরাই থাকছেন। কিছু ক্ষেত্রে যোগ্য হিসাবে কিছু রদবদল করা হয়েছে। দলের বক্তব্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই সমীক্ষা বিশেষভাবে নির্ণয়কারী হয়ে উঠবে। তবে এসআইআরের মধ্যেও আরও একটি ঘটনায় এখন তোলপাড় রাজ্য। এনআরসি আতঙ্কে সোদপুরে এক ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি দিনহাটায় আরও এক ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এই প্রেক্ষিতে অভিষেক আশ্বস্ত করে বলেছেন – বাংলায় এনআরসি বা এসআইআরের নাম করে একজনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে দেবেন না।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী