সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ নভেম্বর : SIR চালু হতেই শুরু হয়েছে বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পালা। জানানো হয়েছে তারা তিনবার বাড়ি বাড়ি যাবেন বিশেষ নিবিড় সংশোধনে বৈধ ভোটারদের তালিকা প্রস্তুত করতে। এরকম এক ক্রান্তিকালে মানুষের মনে দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব রয়েছে। বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও কারা ? তাঁদের চিনবেন কি করে? ভোটার সংশোধনের ফর্ম ফিল আপ করা নিয়ে দ্বন্দ্ব দূর করবেন কি করে? বিএলএ বা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এজেন্ট হয়ে বিএলও সঙ্গে কি আপনার বাড়িতে পৌঁছবেন?
সবকিছু বিস্তারিত জানার আগে বিএলও সংক্রান্ত ইতিহাস নিয়ে সামান্য চৰ্চা করে নেওয়া যাক। বুথ লেভেল অফিসার নিয়ে ভাবনা বা সমস্যা আজকের নয়। একদা এদের নিয়ে সমস্যা ছিল খোদ নির্বাচন কমিশনের। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিযোগ জমা পড়েছিল। ২০০২ সালে এস আই আর হওয়া সত্বেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন স্বচ্ছতা নিয়ে। এক সময় এই বাংলা থেকে শিক্ষা নিয়ে সারা দেশে বিএলও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। ২০০৬ সালে ছিল পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সেই সময় তালিকায় ভুয়ো ভোটার নিয়ে সরব হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে কমিশনও বুঝতে পারে, ভোটার তালিকার যথার্থ এবং নিচুস্তরে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সঠিক ভাবে হচ্ছে না। বুথের তথ্য নখদর্পণে থাকবে এমন কর্মী নিয়োগ করতে হবে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, ভোটার তালিকা নির্ভুল করতে প্রতি বুথে একজন করে বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ করা হবে। কেন এই সিদ্ধান্ত? পরেই বা কী হল?
২০০৬ সালের আগে বুথস্তরে ভোটার তালিকা সংশোধন বা পরিমার্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও অফিসার ছিলেন না। নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) সাময়িক ভাবে এক জনকে নিয়োগ করতেন। যিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্দিষ্ট ভোটারদের খোঁজ নিয়ে আসতেন। তালিকার বেশির ভাগ সংশোধনের কাজ নিজের মতো করে করতেন ইআরও এবং এইআরও-রা। কমিশন উপলব্ধি করে ওই পদ্ধতি মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া কিংবা নতুন নাম যুক্ত করার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য নয়। স্থানীয় পর্যায়ে এমন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে, যিনি নিজের এলাকা হাতের তালুর মতো চিনবেন। যাঁর কাজ হবে ভোটার তালিকার সব তথ্য সঠিক ভাবে রাখা। এবং তার জন্য দায়বদ্ধও থাকবেন। সেই মতো কমিশন ওই কাজে বুথপ্রতি এক জন সরকারি কর্মচারী নিয়োগ করে। তাঁরাই বিএলও নামে পরিচিত। তাঁদের মূল কাজ ভোটার তালিকা, পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা। এবং সেই তথ্য ইআরও-কে দেওয়া।
কোনও একটি বুথের তৃতীয় শ্রেণি বা গ্রুপ-সি পদমর্যাদার কর্মী থেকে শুরু করে যে কোনও ঊর্ধ্বতন সরকারি আধিকারিক বিএলও হতে পারেন। কমিশন জানিয়েছে, সাধারণত শিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আমিন, পঞ্চায়েত সচিব, বিদ্যুৎ বিল সংগ্রাহক, ডাকপিয়ন, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী, মিড-ডে মিলের কর্মী, পুরকর আদায়কারীদের বিএলও হিসাবে নিয়োগ করা হয়। এদের মধ্যে বিএলও নিয়োগ না করা গেল সে ক্ষেত্রে আরো কয়েকটি বিশেষ সরকারি পদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হতে পারে বিএলও হিসেবে।
সংশয় দেখা দিলে কি করে চিনবেন বিএলও কে?যিনি ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কাজ করবেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত আধিকারিক তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট পরিচয় পত্র থাকবে। আপনি মনে করলে তা দেখতে চাইতেই পারেন। পরিচয় পত্রে একটি কিউআর কোড থাকবে স্ক্যান করে তা দিয়ে আপনি যাচাই করেও নিতে পারেন। এনুমারেশন ফর্মে তার নাম ও ফোন নাম্বার দেওয়া থাকবে। তাঁর সঙ্গে ব্লক লেভেলের এজেন্ট বা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকার কথা। যদিও প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকতে পারবেন কিনা তা নির্বাচন কমিশনের কাছেই সুস্পষ্ট নয় কারণ তাদের কাছে এখনো তালিকা চূড়ান্ত নয়। সে তথ্য পাওয়া অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কাছে ৪১ হাজার বি এল এর নাম তালিকা ভুক্ত রয়েছে। অথচ সারা রাজ্যে বুথের সংখ্যা ৯৪ হাজার। ফলে তৃণমূল ও বিজেপি মিলিয়ে ১ লক্ষ ৯০ হাজার বি এল এ – নাম নথিভুক্ত থাকার কথা। ফলে বি এলনিয়ে ধোঁয়াশা থাকছে।
কী কী রাখবেন ফর্ম ফিল আপ করার সময়? যা লাগবে তা হল -বর্তমান ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড, দুটি পাসপোর্ট ছবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে আপনার যোগসূত্র। ২০০২ সালের শেষ এস আই আর হয়েছিল। সে সময় আপনার বাবা-মায়ের কিংবা আপনার ঠাকুরদা ঠাকুমার নাম থাকলে আপনাকে আলাদা নথি দিতে হবে না, নইলে কমিশন যে ১১ টি নোটের কথা বলেছে সেই নিয়ম মেনেই আপনাদের নথি জমা করতে হবে। এনুমারেশন ফর্মে ভোটারের নাম,ঠিকানা,এপিক নাম্বার ছাপানো থাকবে। ছবি আটকানোর জায়গাও থাকবে। এছাড়া নাম,জন্মতারিখ,মোবাইল নাম্বার পূরণ করতে হবে। আধার কার্ডের নামও জমা দিতে পারেন। ফর্মের একেবারে তলায় ভোটারকে সই করতে হবে,শেষে সই করবেন দিয়ে বিএলও। তাঁরা আপনাকে দিয়ে দুটি ফর্ম ভর্তি করাবেন,একটিতে আপনার কাছে ফেরত দেওয়া হবে অন্যটি নির্বাচন কমিশনের কাছে নিয়ে চলে যাবেন বিএলও। বিভ্রান্তি থাকার কথা তো নেই।।


More Stories
দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বিপদ,সৌগত রায়কে লক্ষ্য করে উড়ে এল পচা ডিম
হর্ষ-বিষাদে পালিত ঈদ-উল-আযহা
রাজনৈতিক সংঘর্ষ,গুরুতর আহত বিজেপি জেলা সভাপতি, বারাসাত জ্বলছে