সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ এপ্রিল: মোথাবাড়ি কাণ্ডের নেপথ্যে : প্রেক্ষাপট ও ঘটনা প্রবাহ
মোথাবাড়ি কাণ্ডের গভীরে ও নেপথ্যে কি দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র? মালদা কালিয়াচক -মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর গ্রেফতার হওয়া কিসের ইঙ্গিত? বিখ্যাত হোক বা কুখ্যাত হোক – লোকে তাঁকে চিনতে পারছে । এখন এক ডাকে সারা বঙ্গের লোক তাকে চিনতে শুরু করেছে। এই গ্রেফতারি অথবা গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে অনেক গভীরতর আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
শুক্রবারই মালদার কালিয়াচক এবং মোথাবাড়ি এলাকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) বিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মিম (AIMIM) নেতা ও কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাতে বিক্ষোভ চলাকালীন রাস্তা অবরুদ্ধ করে কালিয়াচকে সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রায় নয় ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনাটি প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনাকে একটি “বড় প্রশাসনিক ব্যর্থতা” এবং বিচার বিভাগীয় কর্তৃত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মোফাক্কেরুলের গ্রেফতারি এটিই স্পষ্ট করে যে, এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসন এখন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। বিষয়টির আরও গভীরে যাওয়া যাক।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) হস্তক্ষেপ
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ (NIA)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি স্থানীয় বিক্ষোভের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের নির্দেশ ইঙ্গিত দেয় যে, এর পেছনে কোনও পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বা বৃহত্তর কোনও নেটওয়ার্কের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। মোফাক্কেরুল ইসলাম ২০২১ সালের নির্বাচনে মিম (AIMIM)-এর প্রার্থী ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার গ্রেফতারির পর রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে যেখানে বিজেপির সুকান্ত মজুমদারের মতো নেতারা এই ঘটনার পেছনে কার হাত রয়েছে তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, যেখানে ঘটনার গুরুত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিতে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উত্তেজনা মালদায় একটি ভিন্নমাত্রা নিয়েছিল বুধবার রাতে। ধর্মভিত্তিক দেশবিরোধী উশকানির ফলশ্রুতি লক্ষ্য করেছে তদন্তকারী দল এবং সেজন্যই যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ছিল ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ঘিরে মোফাক্কেরুলের গণমাধ্যমে পরিষ্কার বক্তব্য ছিল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিষয়টি বুঝে নেবে। অতঃপর বিচারকদের রাস্তায় কার্যত হোস্টেজ বানিয়ে রাখা হয়। বিচারকরা প্রাণভয়ে রাস্তা থেকে সাহায্য প্রার্থনা করছেন যা স্বাধীন দেশে অকল্পনীয়।
উল্লেখ্য ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্র বেশ কয়েকটি সংস্থাকে ইতিমধ্যেই দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এদের মধ্যে অন্যতম সিমি।ভারতে বর্তমানে স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া (সিমি) বা SIMI সহ মোট ৪৪টি সংস্থাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে এবং বেশ কিছু সংগঠনকে ‘বেআইনি সংস্থা’ (Unlawful Association) হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময় সিমি কে নিষিদ্ধ করা হলেও আশির দশক থেকেই সিমি মালদা শহরসহ সুজাপুর কালিয়াচক সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবলভাবে সক্রিয় ছিল। এই সংস্থার শেকড় ছিল অত্যন্ত গভীরে। অভিযোগ, মালদার এক অত্যন্ত নামি কলেজের অধ্যাপক সিমির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। মালদা এবং লাগোয়া অঞ্চলে সিমির প্রভাব ছিল। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে নিশ্চিতভাবেই সিমির দেশবিরোধী কার্যকলাপের প্রমাণ ছিল। ফলে বলাই যায় দীর্ঘদিন ধরে প্রেক্ষাপট প্রস্তুত ছিল।
মিম নেতার গ্রেফতারি এবং এই বিক্ষোভ এও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন নির্বাচনের আগে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে জনমানসে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক সংঘাতের কারণ হতে পারে। তবে বিষয়টি যদি দেশবিরোধী আন্দোলনের রসদ যোগায় তাহলে তার পিছনে পূর্ব পরিকল্পনা চক্র চক্রান্ত থাকতে পারি বলেই ধারণা করা যায়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন কি ভূমিকা নেয় এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টি কিভাবে মোকাবিলা করে সেটাও দেখার।।


More Stories
ডিটেনশন ক্যাম্পে না যেতে চেয়ে ৬ জনের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি