সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ জুন : রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়! দমদম বিমানবন্দরে অভিষেক আসতেই দুই দলে খণ্ডযুদ্ধ , উপেক্ষিত যাত্রী স্বার্থ ও নিরাপত্তা!
শুক্রবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একটি বড়সড় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন দমদম বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রীরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখতেই বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র ঝামেলা শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিসকে হিমশিম খেতে হয়। বিমানবন্দরের মূল গেটের বাইরে যখন দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারি ও বিশৃঙ্খলা চলছে, তখন নিরাপত্তার খাতিরে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্য একটি গেট দিয়ে নিরাপদে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।এই সংঘর্ষটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বা তাঁর সাথে সরাসরি হয়নি, তিনি দিল্লি থেকে কলকাতায় বিমান অবতরণ করার ঠিক আগেই বিমানবন্দরের আগমন গেটের বাইরে এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবুও মুহূর্তের মধ্যে দুই পক্ষের বচসা হাতাহাতি ও মারপিটে রূপ নেয়, যার ফলে বিমানবন্দরের এক্সিট গেটের বাইরে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ ও বিমানবন্দরে মোতায়েন থাকা অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী (CISF) লাঠিহাতে আসরে নামতে বাধ্য হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অশান্ত রাজনৈতিক বাতাবরণে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য কেন বিমানযাত্রীরা অসুবিধার সামনে পড়বেন? সময় ও নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়তি টাকা দিয়ে যাঁরা বিমানে যাতায়াত করেন তাঁদের জন্য বিমানবন্দরের রাজনৈতিক সংঘর্ষ এড়ানোর কোন ব্যবস্থা কি অগ্রিম গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না?
তৃণমূল সমর্থকদের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি থেকে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক শেষ করে যখন কলকাতা বিমানবন্দরে ফিরছিলেন, তখন বিজেপি কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিল। বিমানবন্দরে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির এই কর্মসূচিতে বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র স্লোগান, পাল্টাস্লোগান ও বচসা শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয় যে, বিজেপির এক সশস্ত্র দুষ্কৃতী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ বা হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিল। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ গুরুতর হলেও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি অবহেলিত এবং উপেক্ষিত হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।।
অভিষেক আসতেই দুই দলে খণ্ডযুদ্ধ # অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়


More Stories
যোগা, নামাজ, রেডরোড ও “হরিদাস পাল”
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন
ডিমথেরাপি ও জনরোষ ধূপগুড়িতে,অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে রক্ষা করতে পুলিশ জনতা খণ্ডযুদ্ধ