Home » টাকা ঢোকে নি : বঞ্চিত অন্নপূর্ণাদের বিক্ষোভ এবং অনলাইন -অফলাইন বিভ্রান্তি

টাকা ঢোকে নি : বঞ্চিত অন্নপূর্ণাদের বিক্ষোভ এবং অনলাইন -অফলাইন বিভ্রান্তি

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা, ২ জুলাই :ধুপগুড়িতে-ও বঞ্চিত অন্নপূর্ণাদের বিক্ষোভ এবং অনলাইন -অফলাইন বিভ্রান্তি । অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা একাউন্টে ঢোকেনি!  হাওড়ার ডোমজুড়, বীরভূমের বোলপুর বা  রামপুরহাটের মতোই উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়িতে দলবেঁধে বিক্ষোভ দেখালেন মহিলারা। উল্লেখ্য, অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদানের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না ঢোকায় ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মহিলাদের ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। জুলাই মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন পুরসভা এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের সামনে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন দেখা যাচ্ছে।বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা অফলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতিকেই দুষছেন। আবেদনকারীদের প্রধান অভিযোগ, যাঁরা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করেছিলেন তাঁদের অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েতে অফলাইনে জমা দেওয়া হাজার হাজার ফর্ম পোর্টাল বা সরকারি দপ্তরে আপলোড করা হয়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পুরসভা সহ একাধিক এলাকায় জমা পড়া আবেদনপত্র বস্তাবন্দি অবস্থায় ফেলে রাখার অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। ধূপগুড়িতেও অনলাইন -অফলাইন বিতর্ক জারি। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের  ভান্ডারের অফলাইনে ফর্ম ফিলাপের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মচারীরা  ভুল পথে পরিচালিত করেছেন বলে অভিযোগ। ধুপগুড়ির একাধিক জায়গায় দফায় দফায় বিক্ষোভ। ঠিক কী বলছেন বিক্ষোভকারীরা, কী বলছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক?

ধুপগুড়ির হাজার হাজার মহিলার ক্ষোভ যে অন্নপূর্ণা যোজনার “বিশাল ১২-১৩ পাতার” ফর্ম ফিলাপ করার পরেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকে নি ৩০০০ টাকা।অভিযোগ,অফলাইনে নারী সহায়তা প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে গাইড করা হয়নি, করা হয়েছে গাফিলতি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ধূপগুড়ির বিডিও অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর এবং পৌরসভা এলাকায় মহিলাদের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। গত বুধবার থেকেই মহিলারা বারবার নিজেদের মোবাইল ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চেক করেও অন্নপূর্ণা স্কিমের টাকা পাননি। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। আন্দোলনকারী মহিলাদের মূল অভিযোগ ধূপগুড়ির মাগুরমারী-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত দফতরের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, পঞ্চায়েত অফিস সহায়ক নিজে তাঁদের অফলাইন ফর্ম জমা দিতে বলেছিলেন এবং অনলাইন ফর্ম ফিলাপ করতে বারণ করেছিলেন। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, যাঁরা অনলাইনে আবেদন করেছিলেন কেবল তাঁরাই টাকা পেয়েছেন। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত অফিসে এখনও গাদা গাদা অফলাইন ফর্ম পড়ে রয়েছে, যেগুলির ডেটা এন্ট্রি পর্যন্ত করা হয়নি। ১২ পাতার এত বড় ফর্ম ফিলাপ করার পরেও কেন এই গাফিলতি, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বঞ্চিত মহিলারা। এই চরম অব্যবস্থার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন মাগুরমারী-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিস সহায়ক রতন মণ্ডল। তাঁর দাবি, “আমি জুন মাসেই প্রতিটি পঞ্চায়েত সদস্যকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম যাতে সবাই অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করেন।”তবে পঞ্চায়েত প্রশাসনের এরকম প্রবোধ বাক্যে শান্ত হননি আন্দোলনকারীরা। অনলাইন ও অফলাইনউভয় মাধ্যমেই আবেদন করার পর টাকা না পেয়ে বহু মহিলা এদিন ধূপগুড়ির বিডিও অফিসেও স্মারকলিপি জমা দেন ও বিক্ষোভ দেখান।  এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে, যেখানে বিরোধীরা প্রশাসনের এই ব্যর্থতাকে তীব্র কটাক্ষ করছেন।

Oplus_131072

কি বলছেন বিধায়ক নরেশ রায়? বেলাগাম বিক্ষোভের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে স্বভাবতই তাঁকে বিভ্রান্ত দেখিয়েছে। তিনি বলেছেন, একটি বড় বিধানসভার ক্ষেত্রে কোন বিশেষ একটি জায়গায় নজর দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি আশ্বস্ত করেন,  অন্নপূর্ণা ভান্ডার এর টাকা না পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় তিনি  খোঁজ নেবেন। অনলাইন অফলাইন বিভ্রান্তির ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন স্বচ্ছতার সঙ্গে বিষয়টি দেখা হবে।।

About Post Author