পুরন্দর চক্রবর্তী ও চুমকী সূত্রধর, সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ জুলাই : কলকাতায় খুব একটা অসুবিধা হয়নি। বিধানসভায় বা কার্যালয়ে বসে অসুবিধা হচ্ছিল না। এমনকি হোটেলে নিজেদের কার্য পদ্ধতি ঠিক করতে বৈঠক সারতেও অসুবিধা হয়নি। তবে জনসংযোগ ছিল না সে সময় । এবার পথে নামতেই ক্ষোভ বিক্ষোভের সামনে ঋতব্রত চন্দ্রিমা – সহ “বিদ্রোহী” তৃণমূল শিবির। বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতেই নজিরবিহীন বিক্ষোভ ঋতব্রতদের ঘিরে ।
বারুইপুর যেতেই নজিরবিহীন ক্ষোভ- বিক্ষোভের সামনে পড়তে হল ঋতব্রতদের । “বেইমান-গদ্দার” প্রভৃতি বিশেষণ তো তাদের শুনতেই হল, পাশাপাশি কুণাল ঘোষের দেওয়া ” বালিশচাটা ” স্লোগানও শুনতে হল এবং ঋতব্রত শিবিরের নেতা-নেত্রীদের। পুলিশ দ্রুত ঋতব্রত সহ অন্যদেরকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যায়।
সুস্পষ্টভাবে বারুইপুরের নৃশংস ঘটনায় রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই বেড়ে চলছে। রবিবার দেহ উদ্ধারের দিন থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব। তাকে ঘটনাস্থলে যেতে দেওয়া হয়নি এবং রাজ্য সরকার তাকে যেতে দিতে চায়না জানিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তবে দোলা সেন, প্রতিমা মন্ডল সহ মমতাপন্থী শিবিরের একটি প্রতিনিধিদল সোমবারই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আসে। নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেয়। সোমবার কালীঘাট থেকে প্রতিবাদ মিছিল করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙ্গেই তিনি মোমবাতি মিছিল করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নেতা-নেত্রীদের ভিড় উপচে পড়তে থাকে বারুইপুরে। আইএসএফের নৌসাদ সিদ্দিকী এদিন গিয়েছিলেন। তবে তৃণমূলের টিকিটে জেতা বা হারা নেতা নেত্রী ও জন প্রতিনিধিদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। ঋতব্রত, চন্দ্রিমা সহ বিধায়ক এবং পরাজিত বিধায়করা ছাড়াও ছিলেন দুই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সায়নী ঘোষ। এই মুহূর্তে এন সি পি আই দলে যোগ দেওয়া বারাসাতের সংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান,” মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এখানে এসেছি। ” এদিন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ঋতব্রতদের দেখা হয়নি পুলিশি বাধায়। একমাত্র যাদবপুরের সাংসদ তথা এলাকার সাংসদ হিসেবে সায়নী ঘোষ কে পুলিশ পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেয়। সায়নী বলেন, ‘আমরা চাইব, সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করুক। মুখ্যমন্ত্রী সেই আশ্বাসও দিয়েছেন।’ দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন সায়নী। বলেন, ‘আমরা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট চাইছি।’
সব মিলিয়ে আদি তৃণমূল থেকে কার্যত বেরিয়ে আসা বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শাস্তি চাওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছেন সেই বার্তা দিতে ভোলেন নি। তবে মানুষ তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা-নেত্রীদের অবস্থান কতটা ভালো ভাবে নিচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।।
নজিরবিহীন বিক্ষোভ ঋতব্রতদের ঘিরে #বারুইপুর


More Stories
সরকারে বিশ্বাস রেখে বারুইপুরে সায়নী ফাঁসি চাইছেন
উত্তরপ্রদেশে ভাসুরের বিরুদ্ধে ধ*র্ষণের অভিযোগ
বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে মমতা