সানি রায়, ২৪ অগাস্ট : কোনও সরকারি বিদ্যালয় বা বেসরকারি বিদ্যালয়ে যুক্ত না থেকেও অভূতপূর্ব আইনি নোটিশকে কেন্দ্র করে সমস্যায় পড়েছেন এক গৃহশিক্ষক। মাস্টার্স ডিগ্রি এবং বিএড পাশ করেও চাকরি পাননি তিনি। কোনওরকমে প্রাইভেট টিউশন বা গৃহ শিক্ষকের পেশা নিয়ে নিজের ও সংসারের অন্নের সংস্থান খুঁজে নিতে চেষ্টা করছিলেন উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়ি এলাকার এক শিক্ষিত যুবক। বাড়ি বাড়ি ঘুরে পড়ান তিনি, তবুও স্বস্তি নেই। জনৈক আইনজীবী উত্তরবঙ্গের গৃহ শিক্ষক প্রসেনজিতকে আইনি চিঠি ধরিয়েছেন। তাঁর টিউশন পড়ানো বা গৃহ শিক্ষকের পেশা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন আইনজীবী এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, বেকার বা গৃহ শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন না পড়ানোর জন্য কোনও আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই। ভারতে শিক্ষার অধিকার আইন (RTE Act, 2009)-এর ২৮ নম্বর ধারা এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কেবলমাত্র সরকারি, সরকার-পোষিত বা সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের কর্মরত শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন পড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শিক্ষা দফতর থেকেও এ নিয়ে কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী বা যারা অন্য কোনও সরকারি চাকরিতে যুক্ত নন, তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য টিউশন পড়ানোর ওপর কোনও আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি, অন্তত সেরকম কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি । গোলঘোট বেঁধেছে অন্য জায়গায়। গৃহ শিক্ষককে দেওয়া আইনজীবীর চিঠিতে এমন তিনটি প্রধান অভিযোগ তোলা হয়েছে যার ভিত্তি বা বাস্তবতা খুঁজে পাচ্ছেন না উত্তরবঙ্গের চাকরিহীন গৃহশিক্ষক প্রসেনজিৎ রায়। সৎ পথে সংসারের দায়িত্ব নির্বাহ করতে গিয়ে তাঁকে আইনি নোটিশ ধরানো হবে একথা চরম দুঃস্বপ্নেও আনতে পারেননি ধুপগুড়ির উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবক প্রসেনজিৎ।
প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে স্কুল চলাকালীন স্কুল পড়ুয়াদের পাঠদান করে থাকেন। যদিও একজন গৃহ শিক্ষক কখন পড়াবেন তা নিয়ে সরকারি নির্দেশিকার কথা তাঁর জানা নেই তবুও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। প্রসেনজিতের বক্তব্য স্কুল কামাই করা কোন পড়ুয়াকে তিনি পড়ান না, বিষয়টি একজন শিক্ষিত মানুষ হিসাবে তার নীতি বহির্গত। তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি ১৬ বছরের কম বয়সীদের টিউশন পড়িয়ে থাকেন । এই নিয়ম কেবলমাত্র বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোনো বেকার গৃহ শিক্ষক বাড়িতে কত বছর বয়সী পড়ুয়াকে পড়াবেন সে সম্পর্কেও কোনো নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Education) কোচিং সেন্টারগুলোর জন্য একটি নতুন নির্দেশিকা বা গাইডলাইন জারি করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারে ভর্তি করানো যাবে না। প্রসেনজিতের বক্তব্য তিনি কোনও কোচিং সেন্টার চালান না।
আইনজীবীর অভিযোগ পত্রে প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে তৃতীয় অভিযোগ, তিনি এমন এক বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন যার রেজিস্ট্রেশন নেই। এই বিষয়ে প্রসেনজিতের বক্তব্য, মালিকানা দূরস্ত- তিনি কোনো কোচিং সেন্টারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিটি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন প্রসেনজিৎ।
উচ্চশিক্ষিত যুবক প্রসেনজিতের মনের গোপন কোণে গভীর দুঃখ রয়েছে। সমাজ এবং পারিপার্শ্বিক পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা তাঁকে চাকরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করার পথ করে দেয়নি। তাঁকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াতে হয়। তিনি বলছেন, ছাত্রদের সান্নিধ্যে জীবনের গভীর অর্থ খুঁজে পান। পাশাপাশি, সংসারের ভরণ ভরণ পোষণ করতেও পারেন । তাঁর দুঃখ, আইনজীবীকে এমন কিছু ভিত্তিহীন তথ্য গৃহশিক্ষক পেশার সঙ্গে যুক্ত কেউ বা কারা সরবরাহ করেছেন যিনি বা যাঁরা চান না প্রসেনজিৎ সৎ ও সুস্থভাবে বাঁচার পথ খুঁজে পান। প্রসেনজিতের বক্তব্য, স্বাভাবিকভাবেই ভুল তথ্য পেয়ে তাঁর সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পোষন করছেন আইনজীবী যার ফলশ্রুতি আইনি চিঠি। স্বাভাবিকভাবে, আইনি চিঠির জেরে বিশ বাঁও জলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় তরুণ গৃহশিক্ষক ।


More Stories
অমিত শাহ এলেন, পাহাড় সমস্যা নিয়ে কী আলোচনা হল,সমাধান কবে?
কিশোরীর মৃত্যু, নেপথ্যে “কৃত্তিম অশ্লীল ছবি ” আর সালিশি সভা এবং বিচারের বাণী
চা বলয়ে রাস্তা বেহাল, নির্বিকার প্রশাসন