সানি রায়, সময় কলকাতা : জনশ্রুতি আজও রয়েছে। ১৯৭৮ সালে প্রবল খরা দেখা দিয়েছিল কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ এলাকায়। প্রকৃতির ভুকুটি থেকে রক্ষা পেতে শুরু হয়েছিল মা ছিন্নমস্তার পুজো, মিলেছিল পরিত্রাণ । কথিত আছে বহুবার মা মুখ খুলে চেয়েছেন তাই ৪৮ বছর ধরে মায়ের জন্য ভক্তদের বিশ্বাস ক্রমেই বেড়েছে। এবারও জাগ্রত ছিন্নমস্তা মায়ের দর্শন উপলক্ষ্যে মানুষের ঢলে উপচে পড়ল সাহেবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে, বাংলাদেশ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ছিন্নমস্তা মায়ের মন্দির। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও রাতে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী ছিন্নমস্তা মায়ের পুজো। ৪৮তম বর্ষের এই পুজোকে ঘিরে এ বছর রেকর্ড সংখ্যক মানুষের সমাগমে রীতিমতো উপচে পড়ল মন্দির চত্বর।
পুজোর দিন বিকেল থেকেই ভক্তদের দীর্ঘ লাইন পড়ে। বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে কাঁটাতারের গেট পেরিয়ে জিরো পয়েন্টের মন্দিরে পৌঁছন হাজার হাজার মানুষ। মায়ের দর্শন, পুজো ও মানত ঘিরে রাতভর ছিল ভক্তদের ভিড়। কৌশিকী অমাবস্যার রাতে ভক্তদের জন্য সারারাত খোলা থাকে সীমান্তের গেট, এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। করা পাহারায় ছিলেন বিএসএফ জওয়ান থেকে পুলিশ কর্মীরা।
সাহেবগঞ্জের এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোককথা। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ছিন্নমস্তা মা অত্যন্ত জাগ্রত। আশির দশকে ভয়াবহ খরার সময় এক তান্ত্রিকের পরামর্শে মায়ের পুজো শুরু হয়েছিল বলে কথিত রয়েছে। পুজোর পর প্রবল বৃষ্টিপাতের পর থেকেই এই পুজো নিয়মিত হয়ে আসছে। মায়ের কাছে মানত করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়—এমন বিশ্বাসে প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন।
এদিনের পুজোয় উপস্থিত ছিলেন দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায় ও তাঁর স্ত্রী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি, যুব সভাপতি-সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অতিথিরা।
রাতভর চলে মায়ের পুজো ও ধর্মীয় আচার। মধ্যরাতে হয় বলি। এরপর যজ্ঞ শেষে ভোরবেলায় ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সীমান্ত এলাকায় পুজো হওয়ায় সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশের পাশাপাশি বিএসএফের পক্ষ থেকেও ছিল কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারি। কাঁটাতারের ওপারে জিরো পয়েন্টে এমন ব্যতিক্রমী পুজো ঘিরে সাহেবগঞ্জে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। জাগরণে যায় বিভাবরী।।


More Stories
কেক কেটে ঈদ উদযাপন
অবসরের পরের দিনই বৃন্দাবনে বিরুষ্কা, দর্শন করলেন প্রেমানন্দ মহারাজের