Home » খুদে বিস্ময় হানভিকা

খুদে বিস্ময় হানভিকা

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা :  খুদে বিস্ময়! দু’বছরের হানভিকার মুখে রাজ্যের রাজধানী থেকে গীতার শ্লোক! খেলতে খেলতেই শেখা, ভাইরাল খুদের প্রতিভায় অবাক নেটদুনিয়া।

কেউ এখনও ঠিক করে শব্দ জোড়া লাগিয়ে কথা বলতে শেখে, কেউ আবার খেলনা নিয়েই ব্যস্ত। আর সেই বয়সেই একের পর এক রাজ্যের রাজধানীর নাম, ফল-ফুল-রং থেকে শুরু করে গীতার শ্লোক, মন্ত্র অনর্গল বলে যাচ্ছে শিলিগুড়ির ছোট্ট হানভিকা সাহা। বয়স মাত্র দু’বছর। কিন্তু তার মুখে একের পর এক তথ্য শুনে রীতিমতো অবাক পরিবার থেকে নেটদুনিয়া।

শরৎচন্দ্রপল্লির হানভিকার এমনই একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কখনও তাকে বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানীর নাম বলতে দেখা যাচ্ছে, আবার কখনও ফল, ফুল ও রং চিনে সঠিক উত্তর দিতে দেখা যাচ্ছে। শুধু সাধারণ জ্ঞান নয়, গীতার ১৮টি শ্লোকের নাম, গায়ত্রী মন্ত্র এবং মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রও বলতে পারে সে। ছোট্ট মেয়েটির সাবলীল উত্তর দেওয়ার দৃশ্যই এখন নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।

তবে হানভিকার এই শেখার গল্পের শুরুটা কোনও বিশেষ প্রশিক্ষণকেন্দ্র বা আলাদা কোচিং দিয়ে নয়। বরং মায়ের সঙ্গে খেলতে খেলতেই শুরু হয়েছিল তার শেখার পথচলা।

হানভিকার মা সঞ্চিতা ঘোষ জানান, মেয়ের বয়স যখন প্রায় এক বছর, তখন থেকেই বিভিন্ন ছবি দেখিয়ে তাকে নানা বিষয় চিনতে শেখানো শুরু করেন তিনি। কখনও ফলের ছবি, কখনও ফুল, কখনও বিভিন্ন রং কিংবা দেশ-রাজ্যের ছবি—খেলার ছলেই চলত শেখানো। প্রথমে শুধু শুনত হানভিকা। পরে সেই শব্দ ও তথ্য নিজেই মনে রেখে পুনরায় বলতে শুরু করে।

পরিবারের দাবি, প্রায় দেড় বছর বয়স থেকেই হানভিকা অনেক বিষয় অনায়াসে বলতে শুরু করে। বর্তমানে প্রায় ২৯টি রাজ্যের রাজধানীর নাম বলতে পারে সে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফল, ফুল ও রং চিনে সেগুলির নামও বলতে পারে সাবলীলভাবে।

হানভিকার শেখার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে ধর্মীয় ও সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রেও। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর নাম বলার পাশাপাশি গীতার ১৮টি শ্লোকের নাম, গায়ত্রী মন্ত্র ও মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রও বলতে পারে এই খুদে।

মায়ের কথায়, মেয়েকে কখনও জোর করে পড়ানো হয়নি। বরং ছোট্ট বয়সে শেখার বিষয়গুলো যাতে তার কাছে চাপের না হয়ে ওঠে, সেদিকেই বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। ছবি, গল্প, কথোপকথন ও খেলার মাধ্যমে শেখানো হয়েছে বিভিন্ন বিষয়।

সঞ্চিতা ঘোষের কথায়, ছোটবেলায় তাঁর নিজেরও শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। মেয়ের মধ্যে সেই স্বপ্নের একটা প্রতিচ্ছবি দেখতে পান তিনি। তবে হানভিকা ভবিষ্যতে কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনই চাপিয়ে দিতে চান না মা। বড় হয়ে মেয়ের নিজের পছন্দকেই গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

হানভিকার বাবা সুরজিৎ সাহা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। শরৎচন্দ্রপল্লির এই পরিবারে মা-বাবা এবং ঠাকুমা-ঠাকুরদার স্নেহেই বেড়ে উঠছে খুদে প্রতিভা।

এদিকে হানভিকার প্রতিভাকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরতে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার ভিডিও ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডস-এ পাঠিয়ে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ‘Intelligent Kid’ বিভাগেও আবেদন করা হয়েছে।

তবে রেকর্ডের স্বীকৃতি আসবে কি না, সেই অপেক্ষা এখনই। তার আগেই দু’বছরের হানভিকার শেখার আগ্রহ এবং স্মৃতিশক্তি ঘিরে উৎসাহ তৈরি হয়েছে পরিবার, প্রতিবেশী এবং পরিচিত মহলে। খেলনা আর ছেলেবেলার দুষ্টুমির বয়সে বইয়ের পাতার বাইরের পৃথিবীকে মনে গেঁথে নেওয়া এই খুদের গল্প এখন শিলিগুড়ির গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দায়। অবাক করছে খুদে বিস্ময় হানভিকা।

About Post Author